somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালবাসা এমনি হয়!!

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ৭:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিশি প্রচন্ড রকমের বিরক্ত। এই বয়সের মেয়েদে বিরক্তির কারন হয়ে দাঁড়ায় কোন না কোন ছেলে। নিশির বেলাতেও তাই ঘটেছে। ছেলেটা আবার তাদের এপার্টমেন্টেই থাকে।

নিশির প্রথমে ধারনা ছিল পুরো ব্যাপারটাই কো- ইনসিন্ডেন্স। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এই ছেলে সত্যি সত্যি তাকে ফলো করছে। আর এই ফলো করার ব্যাপারটা খুবই বিরক্তিকর।

দেখা যায় নিশি সিঁড়ি দিয়ে নামছে হুট করে ছেলেটা পেছন থেকে এসে তার আগে আগে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে যাবে। নামার সময় ঘাড় বেঁকিয়ে তার দিকে তাকাবে। বিকেলে বারান্দায় দাঁড়িয়ে কফি খাওয়ার সময় রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে ঘাড় বেঁকিয়ে চায়ের কাপ হাতে তার দিকে তাকিয়ে থাকবে। ক্লাস শেষে নিশি বন্ধুদের সাথে বাইরে খেতে গেছে। গল্প করার ফাঁকে পাশে তাকাতেই দেখে ছেলেটা পাশের
টেবিলে বসে তার দিকে তাকিয়ে আছে।

ছায়ার মত অপরিচিত একজন মানুষ তার আশেপাশে ঘুরঘুর করছে ভাবতেই, নিশির সারা শরীর রাগে কাঁপতে থাকে। আজকের এই
l ঘটনার পর নিশি ঠিক করল, এরপর যখনই ছেলেটাকে আশেপাশে দেখবে ডেকে এনে ইচ্ছেমত ঝাড়ি দিবে।

বিকেলে নিশি ছাদে হাঁটছে আর গুন গুন করে একটা রবীন্দ্রসংগীত গাইছে, ‘আমার বেলা যে যায় সাঁঝ-বেলাতে তোমার সুরে সুরে সুর মেলাতে।’ কথা নেই বার্তা নেই ছেলেটা এসে হাজির। চোখাচোখি হতেই
ছেলেটা পেছন ঘুরে অন্যদিকে চলে যাচ্ছিলো।

নিশি পেছন থেকে ডাকলো, এই যে আপনি। এইদিকে একটু আসেন।
ছেলেটা খুব অবাক হয়ে বলল, ‘জ্বী আমাকে বলছেন?’
নিশি বলল, ‘ছাদে আপনি ছাড়া আর কেউ নেই। তার মানে আমি আপনাকেই ডাকছি।’ ‘আপনার সমস্যা কি আমাকে একটু বলবেন?
আমি যেখানে যাই সেখানে গিয়েই হাজির।’
‘ছেলেটা আমতা আমতা করছে। কই নাতো!’
‘ফলো করছেন আবার মিথ্যে কথা বলছেন। আপনার সাহস তো কম না।’
‘সরি ভুল হয়ে গেছে।’
‘সরি ফরি বলতে হবেনা। এই ভুল আর কখনো করবেন না। আপনাকে ভদ্রভাবেই বলছি। এরপর যদি কখনো আপনাকে আমার
আশেপাশে ঘুরঘুর করতে দেখি তাহলে ঠ্যাং ভেঙ্গে ওভারব্রিজের
উপরে বসিয়ে দিব। ব্রিজের উপর বসে সারাদিন হা করে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকবেন।’

ছেলেটা আর কোন কথা বলেনি। চুপচাপ নিচে নেমে গেল। রাগে তখনও নিশির শরীর কাঁপছে। মুখে যা এসেছে সে তাই বলেছে। এত
টা রাগ অবশ্য না দেখালেও পারত। দেখালে দেখিয়েছে। সে যে ছেলেটার মাথা ফাটিয়ে দেয়নি এটাই তার ভাগ্য। সেদিনের ঘটনার পর থেকে ছেলেটার আর দেখা নেই। নিশি মনে মনে বলে, আহ! শেষ পর্যন্ত
পেইন থেকে বাঁচলাম।


নিশি রিক্সায় করে ভার্সিটি যাচ্ছে। যাবার পথে হঠাত সে ছেলেটাকে রাস্তায় দেখতে পায়। ছেলেটাকে দেখেই তার খুব রাগ হল। সাথে সাথে রিক্সা ঘুরিয়ে বাসায় চলে এল। জামা না পাল্টিয়েই দরজা বন্ধ
করে বিছানায় শুয়ে পড়ল। ছেলেটা এখন তাকে ফলো করার বদলে অন্য একটা মেয়েকে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে।

এই ঘটনায় তার খুশি হবার কথা কিন্তু সে খুশি হতে পারছেনা। তার ভীষন রাগ লাগছে। কিন্তু তার এত রাগ লাগছে কেন? নিশি নিজেকে নিজে জিজ্ঞেস করে, আচ্ছা আমি কি জেলাস? তার রাগের কারন কি সেই মেয়েটি? ছিঃ! নিশি যেন তেন মেয়ে নয় যে,এমন বিরক্তিকর একটা ছেলেকে নিয়ে জেলাস হবে। ঐ ছেলে যাকে ইচ্ছা তাকে নিয়ে ঘুরবে।
তাতে তার কিছুই যায় আসেনা। নিশি বিছানা ছেড়ে উঠল। দরজা খুলে নিচে নেমে গেল দারোয়ানের খোঁজে।


রাতে রনির মোবাইলে অপরিচিত একটা নাম্বার থেকে কল এসেছে। গলার ভয়েস শুনে মনে হল কোন কারনে মেয়েটা ভীষন রেগে আছে। মেয়েটা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেছে, আপনার সমস্যা কি?
আপনি রাস্তা ঘাটে মেয়ে নিয়ে ঘুরে বেড়ান কেন? আর মেয়েটা কি এমন কথা বলেছে যার জন্য হাসতে হাসতে একেবারে তার গায়ে গড়িয়ে পড়তে হবে? চুপ করে আছেন কেন? আপনি আমার কথার জবাব দিন।

আরেকটা কথা, আপনি যখন বারান্দায় আমার দিকে তাকিয়ে থাকতেন তখন চায়ের কাপে চুমুক না দিয়ে চা ভর্তি কাপ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন কেন?


রনি গম্ভীরমুখে বলল, আমি তো চা খাইনা নিশি।
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×