somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: গরুর মাংস

১০ ই মে, ২০২০ বিকাল ৪:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাটের শেষবেলা আলতু পাগলা অধ কেজি গরুর মাংস কিনেছে। মাংস কিনে ডানে-বামে না তাকিয়ে সোজা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল। এই দুনিয়াতে আলতু পাগলার কেউ নেই, সে একা। যৌবনে পদার্পনের সাথেই তার বাবা মা মারা যায়।

বাবা-মা তার নাম রেখেছিল আলতাফ হোসেন, মানুষ স্বভাবতই অন্য মানুষের নাম একটু বিকৃত উচ্চারণ করতে পছন্দ করে , আর সেই কারণেই আলতাফ হোসেনের নাম হয়ে গেল আলতু। আর পাগলা ব্যাপারটা চলে এসেছে বংশগতভাবে। আলতুর বংশে পাগল হওয়ার একটা বিশেষ প্রবণতা দেখা যায়। আলতুর মধ্যেও সেই প্রবণতা আছে। প্রতিবছর ভাদ্র মাসে তারে পাগলামির পরিমাণ বাড়ে। এছাড়াও খুব অল্প বয়সে বাবা মা হারানোর কারণে তার মনের উপর একটি বিরূপ প্রভাব পড়ে। সে প্রায়শই ছোটখাটো বিভিন্ন ধরনের পাগলামী করে বেড়ায়।

গ্রামের কেউই তার নাম শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করে না, শুধুমাত্র মসজিদের বড় হুজুর বাদে। এই গ্রামে শুধুমাত্র এই হুজুরী তাকে তার সম্পূর্ণ নাম ধরে ডাকে। হুজুরের মুখে নিজের সম্পূর্ণ নাম শুনতে আলতাফ হোসেনের খুব ভালো লাগে।

আলতাব হোসেন অত্যন্ত দরিদ্র লোক। তার সম্পদ বলতে ওই বাড়ি টুকুই, সে কাজ বিশেষ কিছু করে না। বাবা মারা যাওয়ার পরে একটু একটু কাজ করতো, পরে সে কাজকর্ম করাও বন্ধ করে দেয়। খাওয়ার জন্য সে ঠিক দুপুর বেলা কারো বাড়ি গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো অথবা বসে গল্প শুরু করে দিত, এটা খাওয়ার সময় তাই হয়তো বাড়িওয়ালা তাকে খাবার জন্য ডাকত। ঠিক রাতের বেলায় ওই একই বাস কাজ করত অন্য কারো বাড়িতে। প্রথমদিকে প্রায় সবাই তাকে খাবার দিত, কিন্তু ধীরে ধীরে তা বন্ধ হয়ে যায়।

এখনো সে মানুষের বাড়ি গিয়ে দাড়িয়ে থাকে, কেউ খাবার দিলে খায় না দিলে অসুবিধা নেই, না খেয়ে থাকার একটা অভ্যাস করে ফেলেছে সে। সে কখনো কারো কাছ চেয়ে কিছু খায় না, কেউ যদি তাকে নিজ থেকে বলে তাহলে সে না করে না।

টাকা-পয়সার তার খুব একটা দরকার হয় না। যখন দরকার হয় তখন কারো বাড়ি থেকে কোনো একটা জিনিস না বলে নিয়ে দূরের কোন হাটে বিক্রি করে দিয়ে অর্থের যোগান দেয়।

অসুখ-বিসুখ খুব একটা হয় না। যাও একটু একটু অসুস্থ হয় তখন সে গ্রামের কুদ্দুস ফকিরের কাছ থেকে পানি পড়া বা একটু ঝাড়ফুক করিয়ে নিলেই সুস্থ হয়ে যায়। এই কারণেই কুদ্দুস ফকির কে সে খুব ভালো চোখে দেখে। কুদ্দুস ফকির তার পাগলামির চিকিৎসা ও করে। যখন ভাদ্র মাসে তার পাগলামী বাড়ে তখন কুদ্দুস ফকির নিয়মিত তাকে ঝাড়ফুঁক করে।

গত তিন বছর যাবত সে গরুর মাংসের স্বাদ পায়নি। এমনকি কুরবানী ঈদের সময়ও কুদ্দুস ফকির নিষেধাজ্ঞা থাকায় সে গরুর মাংস খেতে পারনি। কুদ্দুস ফকির তার পাগলামির চিকিৎসা করে বলে, প্রায়ই তাকে বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা পালন করতে হয়, এরমধ্যে খাবার ব্যাপারটা অন্যতম। কুদ্দুস ফকির তার চিকিৎসায় সর্বপ্রথম যে জিনিসটা নিষেধ করেন, সেটা হচ্ছে গরুর মাংস খাওয়া। আলতু পাগলার মাথায় এখন ঠিক আছে, এই সময় তার ওপর কুদ্দুস ফকিরের কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। আর এ কারণেই সে নিশ্চিন্ত মনে আধা কেজি গরুর মাংস কিনেছে।

গরুর মাংস কেনার টাকা পেয়েছিস লেহাজ মিয়ার ধানের গোলা থেকে। সেখান থেকে সে অল্প কিছু ধান লেহাজ মিয়াকে না বলে নিয়ে হাটে বিক্রি করেছে।
আলতু পাগলা সন্ধ্যা হওয়ার আগেই বাড়ি পৌঁছে যায়। ঘর থেকে তার পুরাতন দুটি হাড়ি বের করে । সে বাড়িতে রান্নাবান্না করে না, তাই হাড়ি দুটিতে ময়লা লেগে আছে। পাশের বাড়ির টিউবওয়েল থেকে হাড়ি দুটিকে ধুয়ে নেয়। এরপর বাড়িতে এসে তার চালের হাঁড়িতে হাত দিতেই দেখে চাল গুলো তে পোকা ধরেছে। এই চাল দিয়ে ভাত রান্না করলে, কোনোভাবেই তা খাওয়া যাবেনা।

এখন অন্যের বাড়ি থেকে না বলে কোন কিছু আনার সময় নেই, তাই সে কোন কিছু চিন্তা না করে মসজিদের বড় হুজুরের বাড়ির দিকে রওনা দিল। সে হুজুরের কাছে গিয়ে চাল চাইতে হুজুর জিজ্ঞাসা করল চাল দিয়ে কি হবে? আলতু পাগলা নির্ভয় হুজুরকে সবকিছু খুলে বলল, এই গ্রামের মধ্যে একমাত্র এই হুজুরকেই কম ভয় পায়। হুজুর আলতু পাগলার সব কথা শুনে শুধু চাল নয় মাংস রান্না করার জন্য যা কিছু লাগে সব কিছুই দিয়ে দিল।

সন্ধ্যার আজান দিয়ে দিয়েছে অনেক আগেই। আলতু পাগলা খুব তাড়াতাড়ি ভাত বসিয়ে মাটিতে গর্ত করা চুলের মধ্যে। এরপর সে মনোযোগ দিল মাংসের মধ্যে। মাংস কিভাবে রান্না করতে হয় সেটা সে জানেনা। সে সবকিছু একবারে মাংসের সাথে মাখিয়ে নিয়ে হাঁড়ির মধ্যে তেল দিয়ে সরাসরি মাংস রান্না করতে বসে দিল। কোন প্রকার কষানো ছাড়াই সে মাংসের মধ্যে ঝোল হিসেবে পানি দিয়ে দিয়েছে।

তার ভাত মাংস রান্না শেষ, এখন শেষ করে খাবে। কিন্তু তার আগে পুকুর থেকে একটু দুধ দিয়ে আসলে মন্দ হয় না। এতে শরীর ও মন দুটোই ভালো হবে, তাছাড়া আজকে সারাদিন সে অনেক পরিশ্রম করেছে এতে শরীর একটু ঠান্ডাও হবে।

খাওয়ার জন্য আলতু পাগলার আর দেরি স‌ইছিল না। সে তাড়াতাড়ি গোসল সেরে এসে ভাত মাংস নিয়ে বসে পরলো।

আজ অনেকদিন পর সে গরুর মাংস দিয়ে ভাত খাচ্ছে। তার কাছে এই খাদ্য স্বর্গীয় কোন খাদ্যের মত মনে হচ্ছে। আর মনে মনে ভাবছে সে খারাপ রান্না করেনি, সে ভালোই রান্না করতে পারে। সে পেটপুরে পাতিলে থাকা সবগুলো ভাত শেষ করে ফেলল। মাংসের পাতিলে থাকা মাংসের সমস্ত ঝোল পারলে সে চেটেপুটে খেয়ে নিত।

খাওয়া শেষে আলতু পাগলার উঠে দাঁড়াতে খুবই সমস্যা হচ্ছিল। আজ মাংসের স্বাদে অনেক বেশি ভাত খেয়ে ফেলেছে। এখন তার অস্বস্তি হচ্ছে। খাওয়াটা অনেক বেশি হয়ে গেছে। আলতু পাগলা অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে হাঁটতে পারছিল না, মনে হচ্ছিল হাঁটলেই তার পেট ফেটে যাবে। তাই সে নিজের বিছানার ওপর শুয়ে পড়ল। তার খুবই অস্বস্তি হচ্ছিল, সে শুধু এপাশ ওপাশ করছিল রাত্রিতে, বারবার তার গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল, পানি খাওয়ার মত জায়গা টুকুও তার পেটের মধ্যে নেই।

এরপর দুই দিন চলে গেল, গ্রামের কোথাও আলতু পাগলা কে দেখা গেল না, কেউ তার খবর নিল না।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমি গল্প লেখক নই। তাই এটাকে কি গল্প বলা যাবে না। দুপুরে শুয়ে শুয়ে মনে হচ্ছিল কিছু একটা করি। এরপর মনে মনে ভাবলাম গুগলের ভয়েস কমান্ড দিয়ে কোন কিছু লিখলে কেমন হয়? যেইভাবা সেই কাজ। গুগোল ভয়েস কমান্ড দিয়ে লিখে ফেললাম, অনেকগুলো বানান ভুল আছে হয়তোবা, আমার দোষ বলতে আমি বানান ঠিক করিনি।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে সদয় আচরণ করলে আল্লাহর ভালোবাসা পাবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

১) "দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে নিজ দেশ থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় আচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেননি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ২২ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



বাংলাদেশে শেষ কবে সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখেছিলাম মনে নাই। গতকাল সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম, স্টার সিনেপ্লেক্স মুভি থিয়েটারে। এখন আর আগের মতন সিনেমা হল নেই। অনেক কিছু বদলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে প্রথম ১০০০০০ মন্তব্যপ্রাপ্ত রাজীব নুর'কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!!

লিখেছেন বিজন রয়, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০



প্রাপ্ত মন্তব্য ১,০০,০০০!!
ঐতিহাসিক!

এই ব্লগের ইতিহাসে রাজীব নুর আপনি সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্য পেয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন!

আপনাকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা প্রাণঢালা।

আপনি আবার এই ব্লগে সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্যকারীও বটে!
সেটা নিয়ে আমি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×