আমি তখন ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্র। কি একটা কাজের জন্য জানি কলেজে টিচারস কমন রুমে গিয়েছিলাম। আমার ক্লাশ টিচারের সাথে কথা বলছিলাম। উনার পাশেই এক স্টাইলিশ ম্যাম বসা ছিল। ঠোঁটে কড়া লিপ্সটিক,কড়া প্রসাধনী, কড়া পারফিউম। উনার কাছে এক মেয়ে আসল। মেয়েটাকে দেখে একটু অসুস্থ বলে মনে হল। মেয়েটা এসেই ম্যামের কাছে ওর হাতের ডাইরিটা এগিয়ে দিল।
- কি?
- ম্যাম লিভ লাগবে।
- লিভ মানে?
- ম্যাম দুই ঘন্টার পর ছুটি।
- ছুটি মানে? এমনিতেই তোমার এ মাসে কয়েকদিন মিস আসে, তার উপর এর পর আমার ক্লাশ আছে, এখন কোন ছুটি হবে না।
মেয়েটি আস্তে মাথা নিচু করে বলল,
- ম্যাম আমার সমস্যা।
- সমস্যা মানে কি সমস্যা?
- ম্যাম আমার সমস্যা।
- তোমাকে দেখে কোন সমস্যা বলে মনে হচ্ছে না। এখন কোন ছুটি হবে না।
মেয়েটিকে দেখে দারুন লজ্জিত বলে মনে হল।
এমন সময় আমার ক্লাশ টিচার বলে বসলেন,
- আরে আপনি একজন মেয়ে হয়ে একজন মেয়ের সমস্যা বোঝেন না? দেন ছুটি দেন।
তাকে বেশ উতফুল্ল বলে মনে হচ্ছিল। তিনি মিটি মিটি হাসতেছিলেন।
আর একটু দূরে এক মামাকে দেখলাম মেয়েটার দিকে এমন ভাবে তাকাচ্ছে, যেন সারকাসের জোকার কলেজে এসেছে।
আর মেয়েটাকে দেখে মনে হচ্ছিল, ও যেন লজ্জায় মাটিতে মিশে যাচ্ছে। কোন রকমে বাইরে যেতে পারলে বাচে।
ম্যাম একটু অপ্রস্তুত হলেন। ওর ডাইরিতে সিগন্যাচার করে দিলেন।
আমি আমার অনেক বান্ধবিকে এরকম একটি স্পর্শকাতর ব্যাপারে সমস্যায় পড়তে দেখেছি।
সবচেয়ে লজ্জার ব্যাপার হচ্ছে পুরুষ মানুষদের মানসিকতা। তা সে ছেলেই হোক আর বুড়োই হোক, ছাত্রই হোক আর শিক্ষকই হোক।
আমি এই ব্যাপারটা নিয়ে আমার ক্লাশ টিচারকে তার প্রাইভেটে হাসাহাসি করতে দেখেছি।
আর বন্ধুদের কথা বাদই দিলাম। কোন মেয়েকে লিভ নিতে দেখলেই শুরু হয়ে যায় তাদের ঠাট্টা আর অশ্লিল কথাবার্তা। কখনো কখনো তা মেয়েটির সামনেই।
আসলে আমাদের মেয়েদের সম্মান করার মানসিকতাটা এখনো তৈরি হয় নি। আমাদের সবার উচিত এরকম একটি প্রাকৃতিক ব্যাপারকে সম্মানের চোখে দেখা, এটি কোনো হাসি ঠাট্টার ব্যাপার নয়।।
follow me in facebook- Abdullah Al Numan ( Wolf)
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০১৬ রাত ৮:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



