
কাক কর্কশ কন্ঠের হলেও এরা পরিবেশ পরিষ্কারক বুদ্ধিমান একটা পাখি। এদের বড় গুন হল, ইউনিটি বা একতা। দেখবেন এক কাক আক্রমনের শীকার হলে বা মারা গেলে সবাই কা কা করতে করতে এক জায়গায় জড় হয়। অনেক সময় চিল শকুনকেও ধাওয়া করে। এরা এত সাহস পায় কারন এরা "ঐক্যবদ্ধ" ।
কাকের একটা স্বভাব হল, এরা সব মৃত পঁচা প্রানীর মাংস খায়। কিন্তু স্বজাতীর মরা মাংস খায় না। বরং শুনেছি মাটি চাপা দেয়। এত এত কথা বললাম এ জন্যে যে, বর্তমানে দেশে কিছু রাজনৈতীক দল একমত হয়ে অন্য রাজনৈতীক দলকে খেয়ে ফেলতে চাইছে। ভিন্ন মতাদর্শ বা দৃষ্টিভঙ্গি থাকতেই পারে একটা দলের। তাই বলে যদি তাকে ভ্যানিস করতে চাওয়া হয়, তাহলে সেদেশে গনতন্ত্রের ছন্দে পতন ঘটবে।
যে রাজনৈতিক দলকে উপেক্ষা করতে চাওয়া হচ্ছে, সেখানে অবশ্যই ঐ দলের মতাদর্শী বহু মানুষ আছে। তারা কিন্তু একই ভূ-ভাগে বাস করে। যদি সেই দলকে ইতিহাস বানাতে চায়, তাহলে ঐ দলের লোকজনদেরও ইতিহাস বানাতে হবে। না হলে তারা একসময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে এ দল সে দলে ঢুকে যাবে। সেটা বেশ ধরে হোক বা অজ্ঞাতসারেই হোক ঢুকে পরবে, ঢোকার পর সুন্দর একটা দলকে নষ্ট করবে। ঐ দলের কেউ কেউ হয়ত দেশান্তলী হয়ে যাবে। কিন্তু ঐ টার্গেটেড দলের সব লোকদের তো কখনই ইতিহাস বানানো যাবে না। মানে দাঁড়াল, ফোঁড়ায় ওষুধ লাগাতে গিয়ে, গলিয়ে ফেলা হল। তারপর রক্ত পূজে মাখামাখি।

কাজেই বুদ্ধিমান রাজনীতিকদের উচিত হবে, সেই টার্গেটেড দলটাকে ইতিহাস না বানিয়ে, সার্ভাইব করতে দেয়া। এটা সত্যি যে, এক বনে দুই বাঘ থাকতে পারে না। কাজেই উচিত হবে বাঘের মত সুবিধাযুক্ত টেরিটরি এরিয়া ভাগ করে নিয়ে গদিতে তা দেয়া। সবাই জানে, একদেশের গালি আর এক দেশের বুলি। এক দেশের শত্রু, আর এক দেশের বন্ধুও হতে পারে। কাজেই প্রতিবেশীর কথাবর্তায় কান না দেয়াই ভাল।
জঙ্গি বলেন আর সন্ত্রাসী বলেন, কমবেশি সব দলেই আছে। তবে মনে রাখা দরকার, গলির কুত্তা ভোগে বেশি। ফাটা ঢোলের শব্দ বেশি। ঢাকি দিয়ে ঢোল পেটাতে হবে। যাতে ঢোল না ফাটে। আর কুত্তার শেকল টানতে হবে, যখন আপনার আগে পা ফেলবে।

শুরুতে কাকের একতা বা ঐক্যবদ্ধ হবার গুনের কথা বলছিলাম। লিডিং পাওয়ার নষ্ট হয়ে গেলে দল নষ্ট হয়ে যায়। অভিবাবক শূন্য হয়ে পড়ে। আজ বিকেলে এমন একটা ঘটনা সবাই দেখতে পেয়েছে। একটি বিশেষ দলের সা. সম্পাদকের কথা কেউ শুনছে না।
যে রাজনৈতীক দলই করেন না কেন, দলের ভেতরে একতা থাকতে হবে, লিডিং পার্সন থাকতে হবে। চেইন ইন কমান্ড থাকতে হবে। না হলে টেরিটরি এরিয়াতে ভাগ হারাতে হবে। একই অর্থে দিন শেষে দেশের সব বা বেশির ভাগ দলকেই এক হতে হবে, না হলে আন্তর্জাতিক শুত্রু অন্তর্কোন্দল শুরু করে দেবে। ফায়দা লুটতে থাকবে।
তখন ব্যাপারটা হবে, নগরে আগুন লাগার মত, দেবালয়ও রক্ষা পাবে না।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০২৪ রাত ১:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



