somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অপলক
আমি সাদামাটা মানুষ। ভালবাসার কাঙ্গাল। অল্পতেই তুষ্ট। সবাই আমাকে ঠকায়, তবুও শুরুতে সবাইকে সৎ ভাবি। ভেবেই নেই, এই মানুষটা হয়ত ঠকাবেনা। তারপরেও দিনশেষে আমি আমার মত...

আমেরিকার নির্বাচিত প্রতিনিধি কত বড় সন্ত্রাসী !!!

২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বপ্নের দেশ আমেরিকা। বিয়ের বাজারে আমেরিকার গ্রীন কার্ড ধারী পাত্র/পাত্রীর কাছে দেশের বিসিএস ক্যাডারের ভ্যালু নেই। কিন্তু সেই স্বপ্নের দেশের স্থায়ী বাসীন্দারা মানে ভোটাররা কতটা ভাল সেটা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির কার্যকলাপে ষ্পষ্ট।



ঠিকই ভেবেছেন, সেই প্রতিনিধির নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প যার দুই মেয়াদের শাসনামল হল: ২০১৭-২০২১ এবং ২০২৫-বর্তমান। এই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সরাসরি নতুন কোনো প্রথাগত বৈশ্বিক যুদ্ধ শুরু না করলেও, তিনি ৩টি বড় ধরনের যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাত, ১টি পূর্ণাঙ্গ বিমান ও ড্রোন হামলা অভিযান এবং একাধিক কাউন্টার-টেররিজম অপারেশনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। যার দস্তখত করা কোন চুক্তি তিনি নিজেই মানেন না। :-B

এখানে খুব সংক্ষেপে একটি পরিসংখ্যান দেবো আল জাজীরা, সিএনএন, বিবিসি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা পত্র এবং জাতিসংঘের রিসার্স পেপারের সাপেক্ষে।

১. সরাসরি সম্পৃক্ত থাকা প্রধান যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান গুলো:
>>>বর্তমান ইরান যুদ্ধ (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল বনাম ইরান, ২০২৬): শুধু ইরানেই ৯,৬৭৬ মৃত
>>> ভেনেজুয়েলা অভিযান (২০২৬): ৯০+ মৃত
>>>লাতিন আমেরিকায় ‘নার্কো-টেররিস্ট’ যুদ্ধ (২০২৫-২০২৬): মোট ২২২ জন মৃত


২. আমেরিকার উন্টার-টেররিজম ও ড্রোন হামলা (প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদ):
>>>আইসিস (ISIS) বিরোধী যুদ্ধ (ইরাক ও সিরিয়া): প্রায় ৯০ হাজার মানুষ মারা গেছে।
>>>আফগানিস্তান ও ইয়েমেন সংঘাত: প্রায় ১০ হাজার মানুষ মারা গেছে
>>>সোমালিয়া ও নাইজেরিয়া (আইসিস বিরোধী অভিযান): ২৫০০ জন সোমালিয়া , ৪৮০ জন নাইজেরিয়ায়
>>>ইয়েমেন সংঘাত: ১২০০ জঙ্গি + ৪৫০জন বেসামরিক মারা পরেছে
>>>ইয়াকলা রেইড: ৫০ বেসামরিক মানুষ মারা পড়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী সংঘাতের জেরে সেখানে ৪,০০০-এর বেশি সাধারন মানুষ মারা গেছেন।


শান্তি ফেরাতে ট্রাম্প যে শুধু অন্য দেশের মানুষদের সন্ত্রাসী বা অসাধূ ব্যবসায়ী তোকমা দিয়ে খুন করেছে তা না, খোদ আমেরিকানদেরও মেরেছে, মারছে। যেমন:

সিএনএন বলছে ট্রাম্পের প্রত্যক্ষ সামরিক নির্দেশে সরাসরি কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে তাঁর স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও করোনা বিষয়ক বিতর্কিত নীতিমালার কারণে পরোক্ষভাবে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ২ লক্ষ থেকে ৪ লক্ষের বেশি বলে গবেষকদের ধারণা।

আবার ট্রাম্পের ওবামাকেয়ার (ACA) বাতিলের চেষ্টা ও স্বাস্থ্যনীতি পরিবর্তনের কারণে লাখ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যবীমা হারান। এর ফলে সঠিক চিকিৎসার অভাবে ২০১৯ সালে প্রায় ৩৪,০০০-এর বেশি আমেরিকান অকালমৃত্যুর শিকার হন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

ল্যানসেট-এর গবেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন পরিবেশ ও কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষাবিষয়ক বেশ কিছু কড়া নিয়ম শিথিল (rollback) করেছিল। এর ফলে সৃষ্ট দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শুধুমাত্র ২০১৯ সালেই বছরেই অতিরিক্ত ২২,০০০ আমেরিকানের মৃত্যু হয়েছে।

বিখ্যাত এই মেডিকেল জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের শাসন আমলে অন্য জি-৭ (G7) দেশগুলোর গড় মৃত্যুহারের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন যদি বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ নিত, তবে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৪০% মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতো।

উন্নয়নশীল দেশ এখন ঝুকিতে:
ল্যানসেট-এর ২০২৫ সালের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা (USAID) ব্যাপক হারে কমিয়ে দেওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিশুসহ প্রায় ১৪ মিলিয়ন (১ কোটি ৪০ লাখ) মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে গবেষকরা আশঙ্কা করছেন।


আমি যদি এ মুহূর্তে আমেরিকার সিটিজেন হতাম বা ট্রাম্পের মত একটা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীর দেশের চাকুরে হতাম, লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যেত। ট্রাম্পের তুলনায় হাসিনা বুবু কিঞ্চিত ভাল। বুবু দেশের মানুষ খুন বা গুম করেছে, অন্তত বিদেশে গিয়ে বিদেশীদের খুন করেনি। :P
আহা... ভালতেই ভাল লাগছে !!!
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×