somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে লাউ সেই কদু...

২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বেকারত্ব দূর করা গেলে কেবল অর্থনৈতিক মুক্তিই আসবে না, বরং সমাজ থেকে কমবে অপকর্ম, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, রাহাজানি, সুদ, ঘুষ, অপমৃত্যু, ধর্ষণ, সামাজিক সম্পর্কের গভীরতা, সন্তান জন্মদানের হার, পুষ্টিহীনতা, রোগবালাই, পরিবেশ দূষন সহ আরও অনেক কিছু। বাড়বে সচেতনতা, অবিবাহিত মানুষের সংখ্যা, ডিভোর্সের সংখ্যা, লিভটুগেদার, জিডিপি, পার্সপোর্টের মান, আমদানি রপ্তানি, টাকার মান ইত্যাদি।

যখন একটি দেশের জনগোষ্ঠী কর্মক্ষম করে তোলা হয় এবং সেই কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী নিজেদের মেধা, কর্মশক্তি এবং অভিজ্ঞতা অর্থপূর্ণ ভাল কাজের সুযোগ পায়, তখন সমাজের বহু সামাজিক সমস্যার স্বয়ংক্রিয় সমাধান ঘটে। কিন্তু সরকার যদি ভাবে, সামাজিক ভাতা কার্ড, কৃষক কার্ড, ইনফ্রাস্ট্রাকচার আপডেট, দাতা সংস্থা থেকে দেশে ডলার ঢোকালেই দেশের উন্নতি হবে, তাহলে সেটা ভুল।

চীনে একটা বিখ্যাত প্রবাদ আছে, "কাউকে একটি মাছ দিলে আপনি তাকে এক বেলার আহার দিলেন, কিন্তু তাকে মাছ ধরা শিখিয়ে দিলে আপনি তাকে সারাজীবনের আহারের ব্যবস্থা করে দিলেন।" বিবিএস-এর হিসাব মতে, দেশে প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি সংজ্ঞা অনুযায়ী মোট বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ২৪ হাজার। কেন তাদের বসিয়ে রাখা হয়েছে? এই প্রায় ২৬ লাখ মানুষকে শিক্ষিত করতে সরকার তহবিল ফাকা হয়নি। যদি তাদের কাজে লাগানো না যায়, তাহলে তো পুরো ইনভেস্টমেন্ট কার্যত নষ্ট, পানিতে ফেলা।

বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের মোট ১১ হাজার ৪৯৫টি অনুমোদিত পদ শূন্য রয়েছে। সরকার কেন শূন্য রাখবে? হয়ত বলবে ডিগ্রি ধারী চিকিৎসক নেই। তাহলে প্রাইভেট/পাবলিক মেডিক্যাল ইন্সটিটিউট খুলতে হবে। যারা পল্লিচিকিৎসক আছেন, তাদেরকে MBBS, BDS এর মত ডিগ্রী নিতে সুযোগ দিতে হবে।

দক্ষিন কোরিয়া, স্বাধীনতা লাভের পর রাতারাতি উন্নত হয়নি। তাদের সরকার প্রধান জেনারেল পার্ক চুং-হি (১৯৬১–১৯৭৯)-এর শাসনকালের দেশ চালনা ও দেশ গড়ার ইতিহাস পড়লে বোঝা যায়, মানতে হবেই দেশ গড়তে তিনি কতটা জিনিয়াস ছিলেন। কেমন হওয়া উচিত একজন সরকার প্রধানের সেটা পার্ক চুং-হি বা মহাথির মোহাম্মদ কে দেখে শেখা উচিত। খাল খনন, বাসস্ট্যান্ড সরানো বা সচিবালয় সরিয়ে আর RAB কে SRB বানিয়ে লাভ নেই। দলীয় লোকদের কার্ড দিয়ে বা পূজামন্ডব ঘুরে বেরিয়েও ফায়দা নেই। ওতে মানুষের পেটে ভাত জোটে না। কর্মপরিবেশ তৈরী হয় না। বিশাল বহর নিয়ে পরিদর্শনে গেলে জনগনের টাকা ঝরে যায়।

মানুষ যখন কাজ করতে পারবে, তার মানসিক বৈকল্য এবং অথনৈতিক চাপ কমে যাবে। পরিবার থেকে শুরু কিন্তু সমাজেও এর প্রভাব পরবে। বৃহত্তর অর্থে সারা দেশেও। পরিবারের পরিবেশ যখন সুস্থ্য সুন্দর হবে, তখন সামাজিক অবক্ষয় কমে যাবে। মানুষের চাহিদার শেষ নেই। চাহিদা বাড়া মানে যোগান বাড়াতে হবে। মনের ভেতরে যখন চাহিদা তৈরী হবে, তখন সেই কর্মক্ষম মানুষটি আরও বেশি উপার্জন করতে চাইবে। হয়ত সে ওভার ডিউটি করবে, পার্ট টাইম জব খুজে নেবে ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানোর জন্যে। কিন্তু কাজ করার স্কোপ যদি না থাকে, তাহলে তারা যে কোন দুষ্ট লোকের দুষ্ট অফারে ঝুকে পড়বে। কারন দিন শেষে প্রত্যেকটা মানুষের ব্যাসিক কিছু জিনিসের প্রয়োজন থাকে।

লক্ষ্য করলে দেখবেন, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় সবচেয়ে দাঙ্গা হাঙ্গামা বেশি। নিজের মুরগি পাশের বাসায় ডিম পাড়া নিয়েও মানুষ খুনাখুনি হয়। কারন কম শিক্ষিত + মাদ্রাসা বেশি (উৎপাদন বিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা) + বেকার সংখ্যা বেশি। ঠিক পাশের জেলা নরসিংদিতে তেমন কোন ক্রাইম নেই। কারনটা খুবই স্পষ্ট। এমন কোন ঘর নেই যে, তাদের কোন সন্তান বসে আছে। সবাই কর্ম মুখর।

বলা হয়, অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। একটা বেকার ছেলে যখন সারাদিন শুয়ে বসে থাকে, আপনজনদের নানা কথায় মন খারাপ থাকে, তখনই সে নেশার রাজ্যে পা বাড়ায় সবকিছু ভুলে থাকতে। অবশ্য এটাই একমাত্র কারন নয়। কিন্তু অনেক প্রধান কারনগুলোর মধ্যে একটি।

কাজেই সরকারকে কাজের ক্ষেত্র তৈরী করতে হবে এবং সে অনুযায়ী জনবল তৈরী করতে হবে। শুরুতে আমি খুব সংক্ষেপে বলেছি, বেকারত্ত্ব দূর করা গেলে কি বাড়বে আর কি কমবে। যে বুঝদার, সে ঠিক-ই বুঝবে। আর যদি জাহেদ উর রহমান, মাহদী আমিনের মত বেশি বুজনেওয়ালা বকর বকর উপদেষ্টার বুদ্ধিতে চলে, তাহলে যে লাউ সেই কদু।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×