somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বার্থপরতার ছোয়া সবাইকে ছোয়ে যায়।।

২৮ শে নভেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টান টান উত্তেজনা নিয়ে ওয়েটিং রুমে বসে আছে মিতু। একটা ফাইভ স্টার হোটেলের রিসিপশনিস্ট হওয়ার জন্য ভাইবা দিতে এসেছে সে। তার খুব ভয় ভয় লাগছে আবার ভালোও লাগছে। কেন ভালো লাগছে তা সে নিজেও জানেনা। আর তিন জন পরেই তার সিরিয়াল। সে আর বসে থাকতে পারলনা । উঠে হাটা হাটি শুরু করল।
একটি ছেলে ভাইবা বোর্ড থেকে বের হয়ে আসতেই মিতু তার দিকে এগিয়ে গেল। ছেলেটিকে দেখে খুব চিন্তিত মনে হচ্ছে। মিতু বলল,
কি জিজ্ঞেস করেছিল?
বাবার নাম আর দাদার নাম জিজ্ঞেস করেই ছেড়ে দিয়েছে।
কি বলেন? তাহলে তো আপনার চাকুরীটা হয়েই গেছে।
আরে না এসব চাকুরী কি আমাদের জন্য? এসব চাকুরী তো মেয়েদের জন্য। ছেলেদেরকে ডেকে আনা জাস্ট একটা ফরমালিটি। রিসিপশনিস্ট কি ছেলেরা হলে মানায়? রিসিপশনিস্ট হবে মেয়েরা। কিছু সংখ্যক পুরুষ আছে যারা মেয়ে দেখলে তাদের জিহ্বা দিয়ে কুত্তার মতো লালা পড়ে তাদের জন্যই রিসিপশনিস্ট হিসেবে মেয়েদেরকেই রাখা হয়।
ছেলেটির কথা শুনে মিতুর খুব রাগ লাগছে। ইচ্ছে করছে ছেলেটাকে কষিয়ে একটা চড় মারতে কিন্তু এখানে তা করা যাবেনা কারণ এখানে সিসি ক্যামেরা আছে। সিসি ক্যামেরা থাকলেও সমস্যা ছিলনা কিন্তু চাকুরীটা তার দরকার। শুধু দরকার না কান্নার মতো দরকার। কারণ কান্না হলো জীবনের একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। জন্মের পর একটি শিশু কান্না না করলে থাকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হয়না। তাই ইংরেজীতে খুব দরকারি জিনিসকে ক্রাইং নীড বলে।
ছেলেটি গলা বাড়িয়ে ফিশফিশ করে বলল আপু চিন্তা করবেন না চাকুরীটা আপনারই হবে।
মিতু কঠিন গলায় বলল, আমার হবে এটা আপনার কেন মনে হচ্ছে?
বুঝেন না এখনকার যুগে মেয়েদের চাকুরী মানেই, সুন্দর ফিগার যার চাকুরীটা তারই দখলে। আর এখানে যেহেতু পোস্ট একটা তাই এই পোস্টটা আপনার জন্য বরাদ্দ করে রাখা কারণ আপনি এখানকার সব মেয়েদের থেকেই সব চেয়ে বেশি সুন্দরী।
রাগে মিতুর মুখ লাল হয়ে গেছে। সে খুব কঠিন মেয়ে খুব সহজে নিজেকে বিক্রি করার মেয়ে সে নয়। যোগ্যতা দিয়ে চাকুরী পেলে সে করবে সৌন্দর্য দেখিয়ে চাকুরী নিতে সে আসেনি। সে এখন কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা। এক গ্লাস পানি খাওয়া দরকার। পানি খেলে নাকি রাগ কমে। ভাইবা বোর্ডে যাওয়ার আগে রাগটা কমানো উচিত। মিতু আর কিছু বলার আগেই ছেলেটি একটা গাদা মার্কা হাসি দিয়ে বের হয়ে গেল।

মিতু একটি রিভলবিং চেয়ারে বসে আছে। তার সামনে তিন জন ভদ্রলোক। তিন জনে দৃষ্টি এলোপাতাড়ি। মিতু নিজেকে গুছিয়ে নিল যেন যা জিজ্ঞেস করেন তার সঠিক উত্তর সে দিতে পারে।
১ম ভদ্রলোক বললেন, রাতে ডিউটি পড়লে করতে পারবেন?
জ্বি পারব।
এর আগে কোথায় চাকুরী করেছেন?
জ্বিনা।
আচ্ছা ধরুন একদিন রাত্রে আপনি রিসিপশনে একা বসে আছেন, হঠাত করে এক লোক রুম ভাড়া নিতে এসে আপনাকে তার পছন্দ হয়ে গেল, কিন্তু আপনার থাকে পছন্দ হলোনা। তখন আপনি লোকটিকে কিভাবে এড়িয়ে যাবেন?
আমি তাকে বলব আমি বিবাহিত।
কিন্তু আপনি তো বিবাহিত না।
মিতু আটকে গেল। তার কাছে আর কোন লজিক নেই। সে চুপ করে রইল।
২য় ভদ্রলোক বললেন, আপনি চাকুরীটা করতে চাচ্ছেন কেন?
আমার খুব দরকার।
চাকুরী সবারই দরকার, কিন্তু আপনার দরকারটা কি?
মিতু আবার চুপ হয়ে গেল, কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা।
৩য় ভদ্রলোক বললেন, ধরুন আপনার চাকুরীটা হয়ে গেছে। এখন আপনি কি করবেন?
আমি চাকুরীতে জয়েন করব।
আমাদেরকে কৃতজ্ঞতা জানাবেন না।
হঠাত করেই মিতু্র খুব রাগ হলো সে বলে উঠলো, কৃতজ্ঞ হওয়ার মতো আপনার কিছু করেন নি। আমি পরীক্ষা দিয় পাশ করেছি বলে চাকুরীটা পাচ্ছি।
আপনি তো অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতেই পারেন নি আর তাছাড়া আপনার রাগও অনেক বেশি তবুও আপনাকে আমরা চাকুরীটা দিব কারণ আপনি অনেক সুন্দরী একটা মেয়ে। আপনি চাকুরী পাচ্ছেন আপনার সৌন্দর্যে যোগ্যতায় নয় কারণ এসব চাকুরীতে যোগ্যতার চেয়ে সৌন্দর্যকে বেশি প্রধান্য দেওয়া হয়। কালকে এসে এপোয়েন্টমেন্ট লেটার নিয়ে যাবেন। আপনি এখন আসতে পারেন।
মিতু চুপচাপ বাহিরে বেরিয়ে আসল। সে কি করবে? ছেলেটিক কথাই সত্যি হলো। ওরা থাকে সৌন্দর্যের বিনিময়ে তাকে চাকুরী দিবে? এর পিছনে কোন রহস্য নেই তো?
মাঝে মাজে স্বার্থের জন্য নিজেকে স্বার্থপর হতে হয়, এই স্বার্থপর পৃথিবীর প্রতিটা ব্যাক্তি কোন না কোন দিন হয়ে থাকে।

লেখকঃ চৌধুরী মোহাম্মদ ইমরান
প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, এম সি কলেজ।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে নভেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:৪০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×