somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গাঁজাকে বৈধ করার দাবি জানালেন আইনজ্ঞরা...

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১২২ জন আইনের প্রফেসর গাঁজাকে বৈধ করার দাবি জানিয়ে একটি উদ্যোগ গ্রহণ
করেছেন৷

তাঁদের মতে, মাদক দমনের ব্যাপারে সরকারি প্রচেষ্টা তেমন কার্যকর
হচ্ছে না৷ তাই সংসদে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা ও আলোচনা করা
প্রয়োজন৷


আনুমানিক ২০ থেকে ৪০ লক্ষ জার্মান নিয়মিত ক্যানাবিস বা মারিজুয়ানা সেবন
করেন৷ সাদা বাংলায় যাকে বলা হয় গাঁজা৷ এটা অবশ্য দণ্ডনীয় অপরাধ নয়৷
কিন্তু গাঁজা বিক্রি করা বা গাছ লাগানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ৷ কিন্তু সাজার
ভয়ে গাঁজা সেবন করা থেকে বিরত হচ্ছেন না সেবনকারীরা৷ অর্থাৎ এতে আসল
উদ্যেশ্য হাসিল হচ্ছে না, বলেন ব্রেমেন ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন প্রফেসর
লোরেনৎস ব্যোলিংগার৷ বছর দুয়েক আগে তিনি একটি উদ্যোগ শুরু করেন৷ এতে যোগ
দেন ১২০-এরও বেশি প্রফেসর৷ তাঁরা সবাই চান ক্যানাবিসকে বৈধ করা হোক৷

২০১৩ সালের নভেম্বরে সংসদে বিষয়টি নিয়ে একটি কমিশন, অর্থাৎ সব
ফ্র্যাকশনের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তাঁরা৷ এখন এই
ব্যাপারে সাড়াও পাওয়াও গিয়েছে৷ সবুজদল ও বামদল ডি লিংকের ফ্র্যাকশন
সংসদে একটি কমিশন গঠন করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে৷ এসপিডির সাংসদদেরও কাছে
টানার চেষ্টা করছেন ব্যোলিংগার৷ কমিশন গঠনের জন্য ১২০ জন সাংসদের সম্মতির
প্রয়োজন৷ সংসদে বিরোধীদলের (সবুজ ও বামদলের) সাংসদদের সংখ্যা মোট ১২৭৷
 সমাজে ক্যানাবিসকে ‘কোমল মাদক' বলে মনে করা হয়৷ কিন্তু যাঁরা এই মাদক
সেবন করেন, তাঁদের অপরাধী বলে সমালোচনা করা হয়৷ এই মাদক কেনার জন্য
কালোবাজারে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন তাঁরা৷ অনেকের জীবনে ভাঙন ধরে৷ একবার
শাস্তি পেলে কালো দাগ পড়ে যায় জীবনে৷ শিক্ষানবিশির কাজ পেতে অসুবিধা হয়৷
ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হয়ে যায়৷ সব মিলিয়ে বাঁকা পথে অগ্রসর হয় তাঁদের
জীবন, বলেন প্রফেসর ব্যোলিংগার৷

বিভিন্ন ধরনের মতামত

জার্মান সরকারের মাদকের ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত মারলেনে মর্টলার অবশ্য
এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন৷ তাঁর মতে, ‘‘বিশেষ করে তরুণদের
স্বাস্থ্যের ঝুঁকিটা খাটো করে দেখলে চলবে না৷ নিয়মিত ক্যানাবিস সেবনে
স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে৷ এ থেকে আসক্তিও দেখা দিতে পারে৷''

প্রফেসর ব্যোলিংগার অবশ্য ভিন্নমত পোষণ করেন৷ তাঁর মতে, ক্যানাবিস বা
গাঁজা সেইসব মানুষের জন্য বিপজ্জনক, যাঁদের আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷
এই মাদক বৈধ হলে ঝুঁকি সম্পর্কে তরুণদের বোঝানো যাবে৷ অ্যালকোহল ও
সিগারেটের ক্ষেত্রেও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি রয়েছে৷
 এছাড়া এই মাদক বৈধ হলে এর গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে৷ ক্যানাবিস
সমিতির প্রধান গেওর্গ ভুর্থ এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন, এক ডিলার
ক্যানাবিসের সাথে ‘লেড সালফেট' মিশিয়ে দেন৷ এই ভেজাল সেবন করে ১০০ জনকে
হাসপাতালে যেতে হয়েছিল৷ এর সাথে চিনি ও তরল প্লাস্টিকের ভেজালও দেওয়া হয়৷
মাদকটি বৈধ করলে এসব ভেজাল নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে৷

ম্যুন্সটারের পুলিশের প্রেসিডেন্ট হুবার্ট ভিমবারও এই মাদকের ব্যাপারে
আইন পরিবর্তনের পক্ষে৷ তাঁর মতে, এই মাদক নিষিদ্ধ করেও ফল হয়নি৷ যাঁরা
চান তাঁরা এটা জোগাড় করতে পারেন৷ শাস্তির ভয়ে পিছপা হন না৷ সাজার
ব্যাপারে বেশি অর্থ আর প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কম অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে৷ তিনি
মনে করেন, বর্তমান সরকারের হাতে এই মাদকের বৈধ হওয়ার সম্ভাবনা নেই৷ তবে
প্রফেসর ব্যোলিংগারের উদ্যোগটা ভালো বলে মনে করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা৷

উল্লেখ্য, গত বছর উরুগুয়েতে ক্যানাবিস বা গাঁজা উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রিত
কেনাবেচার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে৷ অ্যামেরিকার কলোরাডো এবং ওয়াশিংটনেও এই
মাদক সেবনকরা দণ্ডনীয় অপরাধ নয়৷
source: Deutsche Welle
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ২:৩০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ন্যায়ের আন্দোলন হোক নিয়মতান্ত্রিক ভাবে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৭

শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলনরত গুটিকয়েক শিক্ষার্থীদের সাথে ভুয়া আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে অরাজকতা প্রিয় অ ছাত্রদের বিরাট একটা অংশ অশ্লীল ভাষায় অশোভন উক্তি করে চলছে। একশ্রেণীর মেয়েরা এহেন অশ্লীল নোংরামির হোতা-... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর ক্রন্দন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


মেম্বার বাড়ি আর সরকার বাড়ির শত্রুতা দীর্ঘদিনের। জমিজমা লইয়া আজ এমন একখানি ঘটনা ঘটিয়া যাইবে, কেহ বোধহয় কল্পনাও করিতে পারেন নাই।

সকাল আটটায় কাঠের ব্যাপারী খসরু আসিয়া হাজির। দলিল লেখক আবু... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাজারের আগুন নিভবে পে-স্কেলে, প্রবৃদ্ধি ছুঁয়ে যাবে দশ শতাংশ ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৮


কেরামত মওলা সাহেবকে চেনেন না এমন মানুষ সচিবালয়ে কমই আছেন। তিনি মন্ত্রিপরিষদের একজন সিনিয়র সচিব। আজ নতুন পে স্কেল নিয়ে গঠিত সচিবদের কমিটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর এবং গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামাবাদে জুলাই শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠান

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৪৩



পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বক্তারা দাবি করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের একক অর্জন নয়; এটি ছিল ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের ফল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপা আর ফিরে আসবে না......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৪১

যুগে যুগে গণ-আন্দোলন ও তীব্র জনরোষের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হওয়া বিভিন্ন দেশের স্বৈরশাসকদের তালিকাঃ

(১) মোহাম্মদ রেজা পাহলভিঃ (ইরান - ১৯৭৯)১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের সময় লাখ লাখ মানুষের প্রবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×