somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মধ্যরাতের আতঙ্ক

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মধ্যরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। অনুভব করলেন আপনার বুকের ওপর ভারী কিছু চেপে বসে আছে। এত ভারী যে নিঃশ্বাস আটকে আছে। সবচেয়ে ভয়ংকর হলো যে আপনি শরীরের কোনো অংশ নাড়াতে পারছেন না, এমনকি গলা দিয়ে কোনো আওয়াজও করতে পারছেন না। কী ভীতিকর পরিস্থিতি! এ রকম পরিস্থিতিতে কী কখনো পড়তে হয়েছে?
কম-বেশি অনেকেরই হয়তো হয়েছে। আর একে মুরব্বিরা বলে থাকেন বোবায় ধরা। এ নিয়ে আছে অনেক কুসংস্কার। অশুভ কিছু বা ভৌতিক বলেও অনেক সময় আখ্যা দেওয়া হয় একে। কিন্তু এই সমস্যারও আছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
বোবায় ধরা কী?
বিশেষজ্ঞরা বলেন যে বোবায় ধরা বা স্লিপ প্যারালাইসিস একধরনের ইন্দ্রিয়ঘটিত ব্যাপার। যখন আমাদের মস্তিষ্ক গভীর ঘুমের একপর্যায় থেকে আরেক পর্যায়ে যায়, তখন এ ঘটনা ঘটতে পারে। বোবায় ধরলে একেকজনের অভিজ্ঞতা একেক রকমের হয়। কেউ ঘরের ভেতর অশরীরী কিছুর উপস্থিতি টের পান, কেউ কোনো দুর্গন্ধ পান, কেউ আবার কোনো ভয়ংকর প্রাণীর কথা ভাবেন। অর্থাৎ নানা ধরনের হ্যালুসিনেশনের (কল্পিত দৃশ্য) সৃষ্টি হয়। এ সময় মস্তিষ্ক সতর্ক হয়ে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুললেও ইন্দ্রিয় তখনো ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে বলে সবকিছু অবাস্তব মনে হয় এবং আধঘুমে ঘটছে বলে মনে হয়। এ অবস্থায় শ্বাসকষ্টও হতে পারে। এটা অতিলৌকিক কোনো ব্যাপার নয়, বরং শারীরবৃত্তীয় বিষয়।
কেন বোবায় ধরে?
বোবায় ধরা আসলে একটি ঘুমজনিত অস্বাভাবিকতা বা স্লিপ ডিসঅর্ডার। যাদের ঘুমের সমস্যা আছে, তাদেরই এটি বেশি হয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত মানসিক চাপ, যথেষ্ট বিশ্রামের অভাব, অনিয়মিত ঘুম এর জন্য দায়ী। ঘুম বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঘুমের এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে উত্তরণের সময় শরীর সাবলীলভাবে নাড়াচাড়া করতে পারে না বলেই বোবায় ধরেছে বলে মনে হয়। এ ছাড়া ঘুমের সময় নির্দিষ্ট না থাকা, অতিরিক্ত উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, নানা ধরনের ঘুমজনিত সমস্যা, বিষণ্নতা, অনিদ্রা, হাত-পায়ের মাংসে খিঁচ ধরা ইত্যাদি এই সমস্যার সৃষ্টি করে।
পরিত্রাণ কী?
সাধারণত এটি সাময়িক সমস্যা। কিন্তু বারবার এবং ঘন ঘন ঘটতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উচিত। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য সুস্থ ঘুম চাই। সুস্থ ঘুম মানে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে জাগা। সুন্দর ও নিরিবিলি পরিবেশে ঘুমানো। ঘুমানোর আগে টিভি দেখা বা মস্তিষ্কে চাপ ফেলে এমন কোনো কাজ না করা .

সূত্র : ডাঃ এ বি এম আবদুল্লাহ,
ডিন, পিজি হসপিটাল
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ২:০৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×