somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা-ছোট গল্প।

১০ ই আগস্ট, ২০১৪ সকাল ১০:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সারজিন বারান্দায় বসে আছে।ওর বয়স ৫০ এর মতো কিন্তু দেখায় আর ও অনেক কম।ও বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রী নিয়ে বর্তমানে একটা বিদেশী কোম্পানিতে উচ্চপদে কাজ করছে।তার দুই ছেলে।বড় ছেলে সোহাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রথম বর্ষের ছাত্র।ছোট ছেলে আকাশ এস এস সি পরীক্ষার্থী।সারজিন এর স্ত্রী সাদিয়া গৃহিণী।সারজিন সাংসারিক দিক দিয়ে পরিতৃপ্ত একজন মানুষ।আজ ১৬ নভেম্বর,সারজিন এর বন্ধু নিষাদ এর মৃত্যু বার্ষিকী দিন।বন্ধুর মৃত্যুতে সবার ই অনেক লাগে কিন্তু সারজিন অনেক বেশী কষ্ট পায়,সেই ১৫ বছর আগে যতোটা পেত,এখনো ঠিক ততোটা ই পায়।
প্রায় ২০ বছর আগের কথা।আমি,নিষাদ আর সারজিন একসাথে পড়াশুনা করি।আমাদের ক্লাস এ কিছু মেয়ে ও ছিল,তার মধ্যে একজনের নাম তুলি।সারজিন,নিশাত দুইজন ই অনেক ভালো ছাত্র ছিল।তারা অনেক ভালো বন্ধু ও ছিল।তারা দুইজন ই তুলি কে পছন্দ করতো কিন্তু এটা তাদের মাঝে তেমন কোন প্রভাব ফেলে নি।একসময় সারজিন আর তুলি এর মাঝে একটা সম্পর্ক সৃষ্টি হয়।নিশাত এটা মেনে নিয়েছিলো কিন্তু কলেজ এ যেয়ে যখন তুলি আর সারজিনকে একসাথে বসে থাকতে দেখত তখন তার অনেক কষ্ট হতো।সে কলেজ এ আসা বন্ধ করে দিলো।
সারজিন কখনো ই নিশাতের খারাপ চায় নি।সে তুলি কে বলত তুমি একটু নিশাতের সাথে কথা বল,ওকে বুঝাও।তুলি কথা বলত নিশাতের সাথে।যতক্ষণ কথা বলত ততোক্ষণ ভালো লাগতো কিন্তু কথা শেষ হইলে ই মনে হতো যেন পৃথিবী ধ্বংস করে দেয়।ও মানা করতো তুলিকে ফোন দেওয়ার জন্য কারণ কথা শেষ হওয়ার পর ই নিশাতের আর কিছু ই ভালো লাগতো না।
কলেজ জীবন শেষ হওয়ার পর তারা ঢাকা আসে।নিশাত রাজনীতিতে জড়িয়ে পরে।রাজনীতিবিদ বলতে ই যে আমরা খারাপ মানুশকে বুঝি কিন্তু রাজনীতিতে যে দুই একজন ভালো থাকে আমাদের নিশাত তাদের একজন কিন্তু সে ব্যাস্ত হয়ে যায়।তার বন্ধুদের সাথে দেখা করতে পারে না।তুলির কথা তেমন আর মনে হয় না।সারজিন মনে করে নিশাত খারাপ হয়ে যাচ্ছে,সে তুলি কে অনুরোধ করে নিশাতের সাথে কথা বলার জন্য।তুলি একদিন নিশাত কে দেখতে পায়।সে নিশাতকে দেখে নিয়ে এসে বুঝাতে থাকে,তুমি এইটা করো না,ঐটা করো না।নিশাত আসলে কিছুই শুন্তেছিল না কারণ আগের কথা গুলো মনে পরে যাচ্ছিলো।সে এই অবস্থায় রাস্তা পার হওয়ার সময় একটা দুর্ঘটনায় নিশাতের মৃত্যু হয়।তুলি এর অপরাধবোধ জেগে উঠে এবং মানুষিক ভারসম্য হারিয়ে ফেলে।

সারজিন বিয়ে করে অন্য একজন কে কিন্তু তার মনে এমন অনেক জায়গা আছে,যেটা সে কাওকে দিতে পারবে না।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×