somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের পোড়ে, তাই আমরা চুপ থাকতে পারি না

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৪:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাত্র কিছুদিন আগেই আমরা নতুন বছরের জন্য কতই না শুভকামনা করলাম। নতুন বছরের শুভেচ্ছা, আতশবাজি আর হর্ষধ্বনিতে ভরিয়ে দিলাম চারদিক।

আজ মাসের ৮ম দিন। এর মধ্যেই ৮ জনেরও বেশি মানুষ এবছর অপঘাতে মারা গিয়েছে। অনেকগুলো যান-বাহন আগুনে পুড়েছে। আগুনে ঝলছে গেছে কয়েকজনের শরীর। উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কয়েকটি পেট্রোলবোমা। দেশজুড়ে চলছে বি.এন.পি সহ বিশ দলের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ। ঢাকার বাহিরের অবস্থা আরও বেশি খারাপ। প্রতিদিনেই নৃশংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু জীবন থেমে নেই। পরিস্থিতিটাকে একটু বোঝার চেষ্টা করি।

গত ৫ তারিখ বি.এন.পি’র সাথে যা করা হয়েছে সেটা মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়। বি.এন.পি চেয়ারপার্সনকে তাঁর কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়েছে। রাস্তার দুপাশে বালুভর্তি ট্রাক দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ঘটনাগুলো যতটা না পরিতাপের তার থেকেও বেশি হাস্যকর। পৃথিবীর অন্য কোন দেশে কোন রাজনৈতিক নেতার ঘর থেকে বের হওয়া ঠেকাতে বালুভর্তি ট্রাক ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তার জন্য নিশ্চই ইতিহাসবেত্তাদের শরনাপন্ন হতে হবে।

বি.এন.পি সবসময়ই বলে আসছে, তারা অন্তবর্তী নির্বাচন চায়। না হলে তারা সরকারকে অন্তবর্তী নির্বাচন দিতে বাধ্য করবে। যদি তাদের দাবী মেনে নেই, তাহলে বলতে হয়, তার জন্য যা করা দরকার, যতখানি প্রস্তুতি দরকার তার কিছুই বি.এন.পি’র নেই। বি.এন.পি’র মাঠ পর্যায়ের নেতা কর্মীদের মধ্যে অনেক না পাওয়া, অনেক হতাশা কাজ করছে। বি.এন.পি’র কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা এমনকি বেগম খালেদা জিয়া নিজেও পারতেন প্রতিটি জেলায় গত একবছরে অন্তত একবার করে ঘুরে আসতে। কিন্তু তাঁরা সেগুলোর কিছুই করেননি। বরং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামাতকে ত্যাগের ব্যাপারটি নিয়ে তাঁরা সবসময়ই আশ্চর্য রকম নিরবতা বজায় রেখেছে। সেগুলো আমাদেরকে হতাশ করে।বি.এন.পি’র দুর্বলতা প্রকাশ্যে চলে আসে।

তাই, আমার ঠিক মনে হয় না, এই সরকারকে অন্তবর্তী নির্বাচনে বাধ্য করার জন্য বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবী বাস্তাবায়নের জন্য যে পরিমাণ জনবল বা জনসমর্থন দরকার তা বি.এন.পি’র এই মুহূ্র্তে আছে। যার প্রমাণ আমরা পাচ্ছি তাদের এই অনির্দিষ্টকালের অবরোধে। ঢাকা শহরে মাঝে-মধ্যে ককটেল ফাটার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। কিছু জায়গায় দুর্বৃত্তরা বাসে আগুন দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এসব ছাড়া ঢাকা শহর মোটামুটি স্বাভাবিক। ঢাকার বাহিরে কিছু জায়গায় যদিও পরিস্থিতি ভিন্ন। কিন্তু এ আন্দোলনে বি.এন.পি কতটুকু মানুষের সমর্থন পাচ্ছে, এটি ভেবে দেখার মত। এ ধরণের বিচ্ছিন্ন আন্দোলন দিয়ে তাদের পক্ষে খুব বেশি দূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।

আর এই তো সুযোগ আওয়ামীলীগ এর, নিজেদের ইচ্ছেমত সবকিছু চালানোর, ছাত্র সন্ত্রাস বাড়ানোর, সন্ত্রাসীদের ভরণপোষণ করানোর। খুবই অবাক হই, যখন প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর হাতে হাতে পরীক্ষার আগেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ঘুরে বেড়ায়, আর দায়িত্বপ্রাপ্তরা অকপটে বলে বেড়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। পদ্মাসেতুর দুর্নীতি নিয়ে সরকার নিজেদেরকে এখনও পরিস্কার করতে পারেনি। রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি কল-কব্জায় দুর্নীতি আর নোংরামোর গন্ধ। সে গন্ধ দিন দিন এতই বাড়ছে যে সহ্য করা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।
তবুও তো মানুষ জীবন পাড়ি দিচ্ছে। সারাদিন খেটে পয়সা কামিয়ে পরিবার চালাচ্ছে। অনেক নামকরা অর্থনীতিবীদ অবাক হয়ে যান, কি ভাবে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে তা দেখে। এর কারণ খোঁজার জন্য তাঁরা গবেষণা করেন।

কিন্তু যে মানুষটি দিন আনে দিন খায়, সে মানুষটিকে যদি কাজে যেতে না দেয়া হয়, যদি সে মানুষটি দিন শেষে ঘরে ফেরার পথে আগুনে ঝলসে যায়, তবে সে কি খেয়ে, কি পড়ে বাঁচবে? বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় হরতাল-অবরোধ খুবই বেমানান, অনেক ক্ষতিকর, যদি না তাতে একেবারে সাধারণ মানুষগুলোর সমর্থন না থাকে।

সামনে বিশ্ব ইজতেমা। তাই অবরোধকে আপাতত অবরুদ্ধ করতেই হবে বি.এন.পি কে। পরবর্তীতে এমন আন্দোলনে নামার আগে, খুব ভালো হয়, যদি তারা নিজেদেরকে এত বড় আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করে নেয়, যদি তারা একেবারেই খেটে খাওয়া মানুষগুলোকে আন্দোলনে আনতে পারে, টাকা দিয়ে নয়, আদর্শ দিয়ে।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের যারা সরাসরি বিরোধিতা করেছে, তারা যদি কোন রাজনৈতিক দলের শক্তি হয়, সে শক্তি মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়। সেটা যেকোন রাজনৈতিক দলের জন্যই প্রযোজ্য। যদি বি.এন.পি. কে এই কথা বলা হয়, তবে তাদের উত্তর, অতীতে আওয়ামীলীগও তাদেরকে দলে নিয়েছে। সেটা ভুল ছিল না? হ্যা, অবশ্যই সেটা ভুল ছিল। সেটা খুবই গর্হিত কাজ ছিল। কিন্তু আওয়ামীলীগ এই ভুল করেছিল, তাই কি বি.এন.পি একই ভুল করে আওয়ামীলীগের সমান হবার চেষ্টা করছে? ভুলের প্রতিউত্তর কি ভুল হতে পারে? এই উত্তরটা কিন্তু পাওয়া যায় না।

একই দিনে একই দেশে কখনও ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ ও ‘গণতন্ত্র বিজয় দিবস’ হতে পারে না। যেকোন একটি ঠিক, একটি ভুল। তবে যদি ভোটাভুটি করা যায়, তবে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ এর পক্ষেই রায় যাবে বলে মনে হয়। কিন্তু, আমাদের এক রাজপুত্র লন্ডনে বসে দিনের পর দিন যা সব বলে যাচ্ছেন, সেগুলো মেনে নেয়া যায় না একেবারেই।

আর আমরা, অর্থাৎ, যারা জনগনের কাতারে আছি, তারা শান্তিতে বাঁচতে চাই। রাস্তা-ঘাটে কয়লা হয়ে মরতে চাই না। হঠাৎ করে শুনতে চাই না, আমাদের প্রিয়জন অগ্নিদগ্ধ করে হাসপাতালে ভর্তি আছে। এসব আন্দোলনে সবথেকে বেশি ক্ষতি হয় আমাদের অর্থাৎ সাধারণ মানুষের। যার যায় সেই তো বোঝে। নেতারা বুঝবেন কি করে! তাদের তো কিছু যায় না, সবই আসে।

এগুলো একেবারেই আমার নিজের চিন্তা-ভাবনা। সবার সাথে মিলবে, তার কোন কারনই নেই। বরং কথাগুলো অধিকাংশ জনেরই খারাপ লাগাবে হয়ত। কিন্তু, শান্তি তো আমরা সবাই চাই। আর,আপনারা যারা দেশ চালান, তাঁরা আমাদের এটুকু চাওয়া বোঝেন, আমরা তা বিশ্বাস করি। প্লিজ, আপনারা আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। মানুষের ভালো করার জন্যই রাজনীতি। ক্ষমতায় যাওয়াটার জন্য যাচ্ছেতাই করাটা রাজনীতি না।।

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×