

ক্ষমতার খামখেয়ালী, তিস্তাপাড়ে তাস খেলে রাজ্য বাজী ধরা, ভূখন্ডের উপর সিরিল রেডক্লিফের অদূরদর্শিতাময় আঁচড়- কোনকিছুই কখনও ভাবায়নি এমন একটি দুর্দশার কথা, যেখানে মানুষের ঘর থাকবে একদেশে আর তার শৌচাগার থাকবে আরেক দেশে, একলোকের ছেলে পড়বে ভারতের ইস্কুলে, মেয়ে পড়বে বাংলাদেশে। কখনও ভাবায়নি এমন একটি নৃশংস মানসিকতার কথা- যেখানে প্রসবযন্ত্রণায় কাতর মহিলাকে চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানাবে ভিন্ন দেশের চিকিৎসালয়ের চিকিৎসকেরা
৬৮ বছরের বঞ্চিত, নিগৃহিত এই প্রাণগুলো কখনও রংপুর ও কোচবিহারের মুঘল আমলের রাজাদেরকে অভিশাপ দিয়েছে কি না বা রেডক্লিফের প্রাণ তাঁর এই অবিমৃষ্যকারীতায় কখনও কেঁদেছে কি না, ইতিহাসের কোন বইয়ে তা পাওয়া যাবার কথা নয়। মুক্তির জন্য ভারতবরর্ষ লড়াই করেছে ১৯০ বছর। বাংলাদেশ ২৪ বছর(৪৭-৭১)। এই দুটি দেশের স্বাধীনতা যতটা মহিমান্বিত, ছিটমহলবাসীদের স্বাধীনতা ততটা নয়। যদিও তাদের বন্দীদশার হাহাকারময় ইতিহাস ৬৮ বছরের। কারন, তারা বন্দুক হাতে মুক্তির জন্য রক্ত ঝরায়নি। তাদের মধ্যে তৈরী হয়নি কোন বিপ্লবী সূর্যসেন, প্রীতিলতা- অথচ হওয়া উচিত ছিল। রক্ত তাদের ঝরেছেই, শুধু বিপ্লবীদের মত ঝরেনি।
হয়ত এটাই তাদের ভুল। এই স্বাধীনতার অধিকার তাদের পাওয়া উচিত ছিল অনেক আগেই। ভারতবর্ষীয় রাজনীতির অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব গলার কাটার মত বিঁধে ছিল কংগ্রেসের। দেশপ্রেমের ধ্বজাধারীদের শিৎকারে পিছিয়ে গিয়েছিলেন মনমোহন সিং।
সময়ের পালাবদলে সেই বিজেপি’ই আবার ত্রাতা, ছিটমহলবাসীদের আরাধ্য দেবতা।
যেভাবেই হোক, ওরা এখন স্বাধীন। স্বাধীনতার একরাশ অভিনন্দন রইল সাবেক এই ছিটমহলবাসীদের জন্য। তাদের স্বাধীন জীবন সত্যিকারের স্বাধীন হোক- জীবনযাপনের, চিন্তার, ভালোবাসার, ঘৃণার, জন্মের ও মৃত্যুর; স্বাধীনতা উছলে উঠুক গঙ্গা-পদ্মার সবক'টা কূল জুড়ে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০১৫ সকাল ১১:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



