somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের শৈশব-০১

২৭ শে মে, ২০১৪ রাত ১২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রমজান মাস, ২০১২
______________________
সময় টা ছিলো ১৯৯৯ সাল।
বাবার চাকরিসূত্রে থাকতাম জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায়।
জন্মের পর থেকে সেখানেই বড় হওয়া...ছিলাম সেখানে ক্লাস ৪ অবধি।
মোটামুটি মফস্বল এলাকা ।
স্কুল,পড়াশোনা আর বিকেলে ঘণ্টা দেড়েকের ছুটি ছাড়া বাইরে বেরুনোর খুব একটা সুযোগ হতো না।
কিছুটা বাঁধাধরা নিয়মে ছিলাম বলেই কিছু কিছু জিনিস খুব আকর্ষণ করত।
বকশীগঞ্জ ছিলো ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ বর্ডার এলাকা।
আর আমরা শেষ যে বাসাটায় থাকতাম সেখান থেকে ভালো করে খেয়াল করলে বর্ডার এলাকার পাহাড় দেখা যেত।
কতদিন যে ইচ্ছে হয়েছিলো একলা একলা অই দূরের পাহাড়টা জয় করার টা গুনে শেষ করা যাবে না।
বাসার সামনের রাস্তাটা ধরে চলতাম আর দূর দিগন্তের দিকে হতাশ ভাবে চেয়ে থাকতাম।
অনেক চেয়ে-চিন্তে অবশেষে একদিন পাহাড়টায় যাওয়া হয়েছিলো বটে... কিন্তু আশা মিটে নাই।
বাবা-মা সাথে ছিলো ।
সেই বয়সে বাবা-মা সাথে থাকলে নিজের ইচ্ছে মত আর যাই হোক পাহাড়ে চড়া হয় না।

আর সবার মত সন্ধ্যার পর বাইরে থাকার ব্যাপারে ছিলো চরম restriction.
সেই বয়সে সেটাই ছিলো স্বাভাবিক।
তবু গোধূলি শেষে প্রায়ই ঘরটাতে ফিরে আসতে চরম অনিহা যাগতো।
রাতের আকাশ টা চষে বেরাতে ইচ্ছে করতো।
যথারীতি মাগরিবের আযানের আগে বাসায় ঢুকার নিয়মটা পালন করতাম বলে এই কাজটা খুব কমই করতে পারতাম

তখনকার আর একটা অভ্যাস ছিলো।
সম্পূর্ণ নিজ থেকে গড়ে উঠা...
বই পড়া।
এই "বই" প্রচলিত অর্থে বুঝায়মান "textbook" নয় (:p)।
"textbook" বিষয়টায় আমার চিরকালের এলারজি...
হাবিজাবি যাই পেতাম দম বন্ধ করে গিলে ফেলতাম।
ছাঁদে গিয়ে কিংবা টেবিল এ বসে বড় বইয়ের ভেতর বই লুকায়ে চিল্লায়ে চিল্লায়ে(!) কত দিন পড়ালেহা(!) করছি তার সিমা নাই।

ঝড় জিনিসটা আমার চিরকালই প্রিয় (বি.দ্র. পাকা ঘর উঠাইয়া নেওনের মতন ঝড় না(:p))।
সদ্য চলে যাওয়া বৈশাখ মাসেও এনজয় করার মত খুব কম ঝড়ই মিস করেছি।
কিন্তু সেই ছোটবেলায় যখন ঝুম বৃষ্টি বা ঝড়ো হাওয়ায় উদাস করা এলোমেলো বৃষ্টি নামতো তখন জানালার গ্রিল ধরে দেখে যাওয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় ছিলো না।

মনে হচ্ছে আমি আমার ছোটবেলার restriction গুলোর বর্ণনা দেওয়ার জন্য এই কথাগুলো বলছি?
ব্যাপারটা কিছুটা সত্য হলেও আজকের উদ্দেশ্য ভিন্ন।

সেই ১৯৯৯ সালের শেষ দিকে আমাদের ঘর আলো করে এসেছিলো আমার একমাত্র বোন "নাবা"...
আব্বু-আম্মুর একমাত্র মেয়ে ছিলো বলে মাঝে মাঝে আদর টা একটু বেশিই পেত ও (:O)।

অনেকে বলে জামালপুরের মানুষ রা একটু বিদঘুটে!
কিন্তু এখনো পর্যন্ত যত প্রতিবেশী পেয়েছি তার মধ্যে সেই বকশীগঞ্জের প্রতিবেশীদের মতন প্রতিবেশী পাই নাই।
নাবা হবার পর প্রায় একমাস পাড়া-প্রতিবেশীদের বাসায় দাওয়াত খেয়েই কাটিয়ে দিয়েছিলাম।

নাবা হবার পর প্রথম যে রমজান মাস আসে তখন হাড়কাঁপানো শীত ছিল।
সেই ছোট্ট পুতুলটাকে একটু গরম রাখতে সবার চেষ্টার কমতি ছিলো না...
তখন আমার এত seriously রোজা রাখা হতো না।

আজ ২০১২ সালের রমজান মাস...
সবাই মিলে সেহেরি খাচ্ছি...
সবার সাথে সেই "পিচ্চি" নাবাও আছে।
যদিও এখন তারে পিচ্চি বললে ক্ষেপে ভূত হয়ে যায় ।আর বলে "এই আমাকে পিচ্চি বলবানা, আমি কিন্তু ক্লাস ফাইভে পড়ি"।

আজ সেহেরিতে সবার খাওয়া শেষে দেখলাম সে এক গ্লাস পানি আর আম্মুর ওষুধ নিয়ে আম্মুকে বলতেছে..."আম্মু তোমার ওষুধ খাইসো?"
আমি চুপ করে যখন এটা খেয়াল করছি তখন সে আমার দিকে ফিরে বললো "ভাইয়া, নামাজ পইড়া ঘুমায়ো কিন্তু !"

পিচ্চিটা আসলেই যে একটু হলেও বড় হইসে তা দেখায়ে দিল...

কিছুক্ষণ ভেবে অনেক আগের নেওয়া ডিসিশনটা আবার মনে করলাম।
ছোটবেলায় যে মুহূর্ত গুলো মনে হতো খুব মিস করছি সেগুলো কোনটাই তাকে মিস করতে দিবো না...

পাগলীটাকে মাঝে মাঝে সূর্যোদয় দেখাতে নিয়ে যাই, রাতে বাইরে নিয়ে গিয়ে মাঝে মাঝে বুঝাই কেমন করে জ্বলে জোনাকি কিংবা চাঁদের বুকে কালো ছাপই বা কেন আছে, পরীক্ষা শেষ হলে পছন্দের বই এনে দেই, আম্মুর প্রবল নিষেধ সত্তেও ঝড়-বৃষ্টি তে ভিজতে নিয়ে যাই...
আর পাশে দাঁড়িয়ে অনুভব করি ছেলেবেলার হারানো সেই দিনগুলি আর আপন কেও কে সত্যিকারের কিছু দেবার আনন্দ...
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০১৪ রাত ১২:০৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×