somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আগডুম বাগডুম-০১

২৭ শে মে, ২০১৪ রাত ১২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তারিখঃ ২০ শে অগাস্ট,২০১২

সময় তখন রাত ৪ টা।
একমাসের practice করার ফলস্বরূপ ঘুম ভেঙ্গে গেলো।
মনে পড়লো আজ ঈদ!
বুঝলাম এখন আর ঘুম আসবে না।
বাইরের আকাশে তখন বৃষ্টি হবার প্রস্তুতি চলছে।
৫ টার কিছু আগে জুতো পায়ে বেরিয়ে পড়লাম। নদীর পাঁড় ধরে চললাম পার্কের দিকে।
আকাশের অবস্থা দেখে বুঝলাম আজ আর অন্য দিনের মত সূর্যোদয় দেখা হচ্ছে না।
অগত্যা নদীর পাড়ে কিছুক্ষণ ঝিম মেরে বসে থেকে বাসায় এসে দিলাম একটা ঘুম।
আম্মুর ডাকাডাকিতে একসময় ঘুম ভাঙল।
সবাই নামাজ পড়তে চলে গেছে।
মহল্লার এক মসজিদে একলাই ঈদের নামাজ পড়তে গেলাম।
নামাজ পড়ে আসার সময় মাথায় একটা আইডিয়া আসলো।
দুটো বেলুন কিনে রওনা দিলাম বাসার কাছে নদীর দিকে।
উদ্দেশ্য, একটা নৌকা ভাড়া করবো আর বেলুন দুটোকে নদীর মাঝখানে নিয়ে ভাসিয়ে দিবো!
তারপর এক ঘণ্টা ভাসন্ত বেলুনের পিছু পিছু যাব।
আইডিয়া টা কেমন হলো?
কিছুটা পাগল কিছিমের হলো। কিন্তু খুব একটা মন্দ না।
যাই হোক...হাতে দুটো বেলুন নিয়ে হাঁটছি।
নৌকা খুঁজছি।
এমন সময় দেখলাম বিপরীত দিক থেকে দুটো ছোট্ট মেয়ে দৌড়ে আসছে।
আমার কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়ে পড়লো।
পিচ্চি দুটোর সাঁজ দেখে হাসি আটকাতে পারলাম না।
রঙের পিছনে আসল মুখটা দেখতেই পাচ্ছি না।
হঠাৎ খেয়াল করলাম ওরা আমার হাতের বেলুনের দিকে তাকিয়ে আছে।
তাদের চোখের ভাষা বুঝতে পেরে কাছে গিয়ে জিগ্যেস করলাম বেলুন নিবে কিনা।
মুহূর্তে তাদের হাসি কান পর্যন্ত চলে গেলো।
হাতে বেলুন ধরিয়ে দিতেই দুজনেই ছুট লাগালো।
তাদের দিক থেকে অন্য দিকে ফিরতেই দুজনের দৌঁড়ে পালানোর কারণটা বুঝতে পারলাম।
১০/১২ টা পিচ্চি পোলাপাইন। আমার দিকে তাকিয়ে হাসতেছে।
একজন তাকেও একটা দিতে বললো।
কি আর করা!
সবাইকে অপেক্ষা করতে বলে গেলাম বেলুন কিনতে।
১৫ টা বেলুন আর কিছু চকলেট কিনে ফিরে আসলাম।
চকলেট সবাই পেলো কিন্তু বেলুন দেয়া শেষ করে রইলো আরো একটা।
কাওকে ডাবল দেয়া যায় না।
তাই শেষের টা আমার কাছেই রইলো।
কোন পিচ্চিই কোন কথা বলে না। দাঁত বের করে হাসছে শুধু ।
অজ্ঞাত কারনে আমিও দাঁত বের করে হাসছি! মনে হয় মেঘ কিছুটা হলেও কেটে গিয়েছিলো...

সামনে একটা নৌকা দেখে পিচ্চিগুলোর কাছ থেকে বিদায় নিলাম।
ঘন্টাখানেকের জন্য নৌকা ভাড়া করলাম।
মাঝির হাসাহাসি উপেক্ষা করে নৌকার পাল খুলে লম্বা রশিতে লাগালাম শেষ বেলুনটা...
মাঝিকে বললাম চুপ করে বসে থেকে স্রোত যেদিকে যায় নৌকাকে সেদিকে যেতে দিতে ।

কিছুক্ষণ পর...
নৌকায় হেলান দিয়ে শুয়ে ছিলাম।
মাঝির হাসির শব্দ শুনে হাসির কারন জিগ্যেস করতে পাঁড়ের দিকে চাইতে বললো সে।

নদীর পাঁড়ের দিকে তাকিয়ে মনটা খুশি হয়ে গেলো।
একটু আগে বেলুন দেয়া সবগুলো পিচ্চিই নদীর পাঁড় ধরে বেলুন নাড়াতে নাড়াতে দৌড়াচ্ছে ।
আমি তাদের দিকে ফিরে হাত নাড়াতে তারাও পাল্টা হাত নাড়লো।

কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি শুরু হলো।
নদীর দুপাশে মানুষজন খুব একটা দেখতে পাচ্ছি না।
মাঝ নদী দিয়ে নৌকা চলছে...
সামনে বিস্তৃত ঝাপসা দিগন্ত...

একসময় মানুষের সাড়া পেয়ে খেয়াল করি পার্কের কাছে এসে পড়েছি।
সামনেই একটা নৌকা।
নৌকায় তিনজন আরোহী...
একজন পুরুষ,একজন মহিলা আর একটা পিচ্চি...
পিচ্চিটা ছাতা নিয়ে বসে থাকা মার কোলে আর পিচ্চির বাবা ভিজে চুপচুপ হয়ে বসে আছে।
তিনজনই হাসছে...

অবশ্যই দৃশ্যটা ভালোলাগার।
কিন্তু কেনো জানি দৃশ্যটা একটু আগে পাওয়া আনন্দ টা বাসি করে দিলো ।
পালের দড়ি থেকে বেলুন টা নামিয়ে ফেলে দিলাম নদীতে।
মাঝি কে বললাম পাল উড়িয়ে দিতে। ফিরে যাবো যেখান থেকে এসেছিলাম...

নৌকা চলছে পূর্ণগতিতে...
আর আমি তখন নিজের সামনে ঘুমিয়ে পড়ার অভিনয়ে ব্যাস্ত!
জেগে জেগে ঘুমুচ্ছি...
বাহ!
মচৎকার!

”Annoying GOD i am sleeping and sleeping”.
Remember it?
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×