somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘আপনার’ অবস্থান পরিস্কার করুন…

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সত্যিই প্রত্যেকে মনে করছি যেদিন তৈরি হবো ওইদিনই সব পাল্টে দিবো। কিন্তু সমস্যাট হয় অন্য যায়গায়। আমরা অস্ত্র চালনা শিখেছিলাম পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে। কিন্তু লক্ষ যেহেতু পরিষ্কার ছিলো না তাই এই অস্ত্র লুটপাটে ব্যবহার হয়েছে দেশ স্বাধীনের পর। আবার চরম সততা নিয়ে নকশাল বাড়ি আন্দোলন গড়ে উঠলেও লক্ষ পরিস্কার না থাকায় তারাও মুখ থুবড়ে পড়েছিলো। তেমনি আমাদের তরুন কবি, সাহিত্যিক, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং সঙ্গীত শিল্পিরা যারা অন্তত দেশ ও দশ নিয়ে ভাবেন তারা বলছেন আগে নিজেকে তৈরি করি, তারপর।

তৈরি হয় বটে। তবে ততদিনে প্রযোজক, স্পন্সর, বিজ্ঞাপন দাতা, টিভি চ্যানেল, রেডিও, সংবাদ মাধ্যম এতো সকলের শেকলে বন্দি হয়ে যায়। সেই সময় আসলে করারও কিছুই থাকে না। কারণ ভিত্তিহীন অবস্থানে থাকা কারো পক্ষে তখন আর নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট কথা বলা সম্ভব হয় না। সব কিছুর পেছনে একটা ফিলোসফিকাল আসপেক্ট থাকতে হয়। আমি বললাম আমি কোন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের দারস্ত হবো না আমার শিল্পকর্ম নিয়ে। বললাম আর হয়ে গেলো? এতো সহজ এসময়ে এই কথা বলা? প্রশ্নতো এসেই যায় কেনো যাবেন না? উত্তর কি? আমি ফারুকিদের মতো সিনেমা বানাবো না। মৃনাল সেন বা জহির রায়হানদেরও ছাড়িয়ে যাবো। যান, মানা করে নাই কেউ। কিন্তু এতো মানুষ থাকতে এরা কেনো? মানুষ নিয়েই আপনাকে কাজ করতে হবে কেনো? গরীবের কি এতোই ঠেকা আপনার কাছে?

অনেককেই বন্দি করা যায়নি শেকলে। কারণ তারা তাদের অস্ত্রের পাশাপাশি চেতনাতেও শান দিয়েছিলেন প্রত্যেকদিন। ছিলেন যুথোবদ্ধ। আন্দোলন যারা করেন তার কি বিচ্ছিন্ন হয়ে তা করেন? কখনোই নয়। অনেকগুলো মানুষ মিলে একটা চিন্তা। তারা কি তাদের চেতনায় শান দিতে গিয়ে নিজেদের অস্ত্র চালনা শেখেননি? অবশ্যই শিখেছেন। অস্ত্রের সঠিক ব্যবহার করেছেন বলেই তাদের নিয়ে আজ এতো কথা হয়।

এতোই সহজ একটা চলচ্চিত্রে গণ মানুষের কথা বলা। গানে গানে প্রতিবাদ করা? কবিতা লিখেই হুলিয়া মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো? আমি তাদের কথা বলছি যারা বলতে চান। যারা শুধু এটা দিয়েই রাষ্ট্রের ভিত নাড়াতে চান। যদি নাই নাড়াতে চান তাহলে অল্টারনেটিভ অল্টারনেটিভ বলে গলা ফাটানোর কি আছে? চর্চাটা কি শুধু ভালো শট, ভালো স্ক্রিপ্ট, গ্রামার মানা এবং ভাঙা; গানে নতুন নতুন নোটের খেলা, কবিতায় সবচেয়ে কঠিনতম শব্দের ব্যবহার, অনুপ্রাস মেনে মেনে ছন্দ তৈরি ইত্যাদিতে বন্দি থাকবে? আমার প্রশ্ন তাদের কাছে যারা অন্য দশজনের মতো গতানোগতিক চিন্তার দিক থেকে আলাদা কিন্তু সমাজের দশজন নিয়েই চিন্তা করেন।

যাদের ঘিরে স্বপ্ন দেখেছিলাম রাজনীতি আর সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের একটি সেতু তৈরির। তাদের প্রত্যেকেই দুই আলাদা জগতের বাসিন্দা। যেসব শিল্পি এসবের মধ্যে নেই তাদের কথা বাদই দিলাম। নিজেকে বেচে বেচে খাওয়াটাকে সে স্বীকার করে। তাদের চেনা যায়। কিন্তু কালচারাল এক্টিভিস্ট অথবা পলিটিকাল কনসাস আর্টিস্ট অথবা পলিটিশিয়ান এরা প্রত্যেকেই বিচ্ছিন্ন দ্বীপের অধিবাসি। কেউ কাউকে চেনে না। আর পলিটিকাল লিডারদের ভন্ডামি চোখে পড়ে। কিন্তু ভাব ধরে থাকা গণ মানুষের শিল্পীদের চোখে দেখা যায় না। এক ধরনের সেলিব্রেটি লাইফ লিড করে বলেই এদের ভন্ডামী থাকে ধরা ছোয়ার বাইরে।

লাল বই মুখোস্ত থাকার দরকার নাই। কিন্তু কিছু বিষয় পরিষ্কার থেকে প্রতিনিয়তো একটিভিজমের মধ্যে না থাকলে কখনোই শক্ত আঘাতটা দেয়া সম্ভব হবে না। তবে একটা জিনিস মাইরি বেশ হয়। তা হলো নিজের লাভ। যে যত গালিগালাজই করুক না কেনো, প্রত্যেকেই কিন্তু বেশ ভালো অবস্থানে যায় একটা পর্যায় পর। মাননীয় সংস্কৃতি মন্ত্রীর অতীত আর বর্তমান দেখলেই বিষয়টা স্পষ্ট হয়। আমরা আসলে এটাই চাই। যোয়ান কালে ঋত্বিক ঘটক, মৃনাল সেন, চার্লি চ্যাপলিন, বব মার্লে, জন লেনন, রেজ এগ্যানিস্ট দ্যা মেশিন, মহীনের ঘোড়াগুলি, ভেনগগ, জয়নুল আবেদিন, হাংরি মুভমেন্ট, থার্ড সিনেমা মুভমেন্ট, নকশাল বাড়ি, কমিউনিস্ট পার্টি, নাস্তিকতা এইসব আমাদিগোকে টানলেও পরবর্তি জীবনে স্পিলবার্গ, ফারুকী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, চিরকুট ব্যান্ড, আনিসুল হক, প্রথম আলো, লাক্স চ্যানেল আই এই সবই আমাদের আপন হয়। পক্ষ কিন্তু দুইটা। বেছে নেয়াটাই মুল কথা।

ঋত্বিক ঘটকের জন্মদিনে তার সুবর্ণ রেখা চলচ্চিত্রের কয়েকটা সংলাপ বারবার ভিতরে বাজছে। কৃষ্ণকে হরোপ্রসাদ বলেছিলো "....দোকানে, হোটেলে, রেসের মাঠে সে যে কি বিভৎস মজা। তুমি দাঁড়াইয়ে দেখবা আর অবাক হইয়া যাবা। মাইনষে কেমন স্রোতে গা এলাইয়া দেয়। গড্ডালিকা প্রবাহই সত্য। এটাই খাটি। ভোগই মুক্তির পথ।..."। আসলেইতো ভোগেই মুক্তি। দিনশেষে তাই দাঁড়ায়। কারও দিকে আঙ্গুল তুলছি না। আঙ্গুলটা নিজের দিকেই দিলাম। কারণ শিরোনামে ‘আপনার’ বলতে আমার আমিকেই বুঝিয়েছি।

(০৪ নভেম্বর ২০১৪, পল্টন)
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:৪৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রচন্ড রোদে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০০

প্রচন্ড রোদে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

রূপসী এদিক ওদিক কী খুঁজো
মনের মতো কাঙ্ক্ষিত পুরুষ
এভাবে সোনালি কতোদিন বিনষ্ট করবে
আমায় একটু ভেবে দেখো।
শূন্য হৃদয় নিয়ে কেঁদে মরি
কেউ নেই পাশে, গেছে সবাই ছাড়ি।
দরিদ্র বলে জুড়েনি তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×