কে যেনো বলেছিলেন; সবাই কবি নয়, কেউ কেউ কবি।
আমি বলি উল্টো; কেউ কেউ কবি নয়, সবাই কবি।
পুর্ণিমার রাতে রাস্তা না দেখে যে রিকসাওয়ালা ধবধবে
চাঁদটা দেখে; দেথে দেখে প্রিয় মুখ খোঁজে। যার কথা ভাবে-
সেই ভাবনা কি তবে; কবিতা নয়?
আমার মা, যে নিঃশব্দে আমার চোখে তাকিয়ে থাকে-
রাত করে বাড়ি ফিরলে। চোখ দিয়েই জানতে চায়-
‘কি হয়েছে বাপ; তোর চোখে পানি কেনো'?
সে কথা তো কোন কাগজে নেই। নেই কোন মহাগ্রন্থে। সেটা তবে কি?
ছোট ভাই আমার, যে প্রতিদিন তুলির আঁচড়ে নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখে।
লাল স্বপ্ন, সমতার স্বপ্ন; তার পেন্সিল অথবা তুলি কি কোনো কবিতা বলে না?
কৃষক যেমন ফসল বোনে, তেমনই আদরের বোন আমার-
পেতেছে ঘর; নব ফসলের আশায়।
এই ঘর; এই সংসার ঘিরে লালিত যে রঙ্গীন স্বপ্ন তার;
সেই স্বপ্নে কি কোনো কবিতা নেই?
অথবা দু’জনের দেখা প্রতিদিন
যুবক বলে না কিছু; যুবতী নীরব তাকিয়ে রয়-
কথা বলে তারা চোখে চোখে। তবু মুখ ফোটে না।
এই না বলা কথার কাব্য রুপ কি? কবিতা কি নেই এতে?
চোখের ভাষা কি কবিতা নয়?
শীতের সকালে উদাস যুবকের একটি চাদর খোঁজা,
পরম উষ্ণ যে চাদর পাওয়ার কথা ছিলো তার এই শীতে-
না পেয়ে শেষে; পোড়া স্মৃতি থেকে উষ্ণতা খোঁজে সে।
এই নিরলস চেষ্টায় কি কোন কাব্যিকতা নেই?
অথচ শীত বাড়ে; ভেতর বাহির হীম করে।
এই দহন আর একই সাথে চলা হীম বায়ুতে কি কেউ খুঁজে পায় না-
দ্বন্দ, অনুপ্রাস অথবা ছন্দ?
আমার মতে পৃথিবীর সকল সৎ চিন্তাই এক একটি কবিতা।
এক একটি কবিতার জনক জননী আমরা সবাই।
তাই, কেউ কেউ কবি নয়; আমরা সবাই কবি।
(০৭ ডিসেম্বর ২০১৪; পল্টন; ইউল্যাব; হাইকোর্ট)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



