প্রতিদিনের মতো আজও গভীর রাতে খুব গোপনে আস্তে আস্তে দরজা খুলে সিড়িতে দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরায় রুপঙ্কর। সিগারেট টানতে টানতে বাড়িরর কার্ণিশে লাগানো গাছগুলো দেখে। বৃষ্টিও পড়ছে গুড়ি গুড়ি। তার এই বৃষ্টিতে ঘর ছাড়তে মন চায়। কিন্তু বজ্জাত বাড়িওয়ালা সদর দরজায় খিল লাগায় রাত ১১টা বাজলেই। হঠাৎ রুপঙ্করের চোখ পড়ে পাশের বাড়ির দিকে। যে বাড়ির দিকে সে প্রায়ই রাতে তাকায়। তাকিয়ে সে ভয় পায় এই ভেবে যে, সমমনা সবাইকে একেরপর এক মেরে ফেলা হচ্ছে। যদিও রুপঙ্কর এমন গুরুত্বপূর্ণ কেউ নয়। কিন্তু যে ভীতির সঞ্চার হয়েছে মনের মধ্যে ইদানিং রুপঙ্করও মনে করছে তার সাথেও এমন কিছু হয়তো ঘটতে পারে। বাড়িটার সাথে ভয়ের একটাই সম্পর্ক, ওই বাড়ি থেকে কিছুদিন আগে একদল সনাতনী ধর্মান্ধ সন্ত্রাসীদের ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। সনাতন ধর্মের নানান কৃসংস্কার নিয়ে সে তেমন না লিখলেও নাস্তিকদের সাথে ওঠা বসা, হত্যার প্রতিবাদ এবং ধর্মী গোঁড়ামির বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে কিছু বলা বা লেখার কারনে তাকে শহরের কিছু মানুষ নাস্তিক মনে করে। সে সুত্র মতে ধর্মান্ধ সন্ত্রাসীদের ধারণা সেদিন রাতে রুপঙ্করই পুলিশে খবর দিয়েছিলো। এবং যে কোন সময় সে মারা পড়বে অন্যদের মতো। এসব ভাবতে ভাবতে রুম্পঙ্কর তার প্রেমিকার সাথে শেষ কি কথা বলেছিলো তা নিয়ে ভাবতে থাকে। ভাবনার এক পর্যায়ে সিগারেট শেষ হয় আবার আরেকটি সিগারেট ধরায় রুপঙ্কর; এবার শুধুমাত্র প্রেমিকার কথাই ভাবে, ভাবে স্বপ্নের কথা। ভয় চলে যায় রুপঙ্করের। সকল ভাবনা শেষে জীবনানন্দের একটি কবিতার শেষ কয়েকটা লাইন ফিস ফিস করে বলতে বলতে সিড়ি ভাঙে, ঘরে ফিরে সে....
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক ব'লে মনে হয়
মহত্ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।
(০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫, পল্টন)
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


