somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"তমার পেঁচা" (পর্ব - ২)

২৩ শে মে, ২০১৫ দুপুর ১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিকেলে ছাদে বসে সিগারেট টানছি।
ভাবছি অনেক কিছু। আমি সবার মত
ভাবতে পারি না। আমি সবকিছু অন্য
ভাবে ভাবি। তেমন ভাবে কিছু একটা ভাব
ছিলাম ।

হঠাৎ পেছন
থেকে কে জেনো বলে উঠলো:

-হেমন্ত ভাইয়া

পিছন ফিরে তাকাতেই দেখি তমা।
সাথে সাথে মুখ ঘুরিয়ে নিলাম। কারন
আমি ভুল দেখেছি, তমার এখানে আসার
কথা না।
হয়তো আমি তমাকে নিয়ে ভাবতে ছিলাম
তাই সে কল্পনাতে ধরা দিয়েছে। এমন
কিছু হবে। তাই আবার সিগারেট টানতে শুরু
করলাম।

এবার পিঠে কিছু একটা পড়লো।
না এটা স্বপ্ন কিংবা কল্পনা না, এটা সত্যি। কারন আমি এটা অনুভব করছি। পিছন
ফিরে তাকাতেই আবার তমাকে দেখতে পেলাম। না এবার ভুল
হতে পারে না। সত্যিই তমা। রাগ মুখে দাড়িয়ে আছে। কিন্তু কিভাবে সম্ভব?

-ওই হনুমান। এমন ভাব নিচ্ছেন যেন
আমাকে প্রথম দেখছেন
-তুমি এখানে কিভাবে এলে তমা?
-যাদু দিয়ে উড়ে এসেছি

কথাটা বলেই তমা সুন্দর করে হাসি দিল।
তমা নিশ্চই যাদু জানে নাহলে পাশের
রোডে যার বাসা সে কিভাবে আমাদের
বাসায় আসলো!? তা ও আবার উড়ে!?
আমি শুনেছি পরীরা উড়তে পারে।
হয়তো তমা ও পরী। পরী না হোক সে পরীর মত দেখতে।

আমি পরী দেখিনি তবে শুনেছি পরী খুব
সুন্দর হয় । তমা ও খুব সুন্দর।

-কি ভাবছেন পেঁচা?
-তুমি কি সত্যিই আসছো এখানে
-কেনো সন্দেহ আছে?
-হুম,যথেষ্ট
-দাড়ান দেখাচ্ছি

এই বলে তমা একটা আস্ত একটা ইট হাতে নিল।
একটু আগে ছোট এক টুকরা ইট
মেরেছে এবার আস্ত একটা ইট!

-মারবো?
-কেনো?
-আপনার ঘোর ভাঙানোর জন্য
-না থাক
-এবার বিশ্বাস হচ্ছে আমি এসেছি
-হ্যাঁ. কিন্তু কিভাবে?
-আমরা আপনাদের বাড়িতে ভাড়ায়
এসেছি
-ও
-কি বলেছিলাম না সারপ্রাইজ দিবো?
কেমন দিলাম?

তমা আমাকে বেশ কিছুদিন আগে বলেছিল
"আগামী মাসে একটা সারপ্রাইজ দিবো" ।
সারপ্রাইজটা যে এটা হবে তা ভাবতেই
পারি নি। কিন্তু এই বাসায় আসার
যুক্তিটা বুঝলাম না। ওদের আগের
বাসা যথেষ্ট ভালো ছিল।

-ওই হনুমান
-বলো তমা
-কি ভাবছেন?
-না কিছু না
-আপনি আবার সিগারেট খাচ্ছেন!?

তমা খুব অবাক হয়ে কথাটা বলে।
সে এতক্ষন লক্ষ করেনি যে আমার
হাতে সিগারেট। আমার ও খেয়াল ছিল
না। আমি সিগারেট টা লুকানোর
চেষ্টা করার সাথে সাথে তমা বলল:

-লুকাচ্ছেন কেন?

আমি ও ভাবছি কেন লুকাচ্ছি?
অন্যকাউকে দেখে তো লুকাই
না তাহলে কেন লুকাচ্ছি।
হয়তো তমা মেয়ে বলে লুকাচ্ছি। কিন্তু
অন্য কোন মেয়েকে দেখলে ও
তো আমি সিগারেট লুকাই
না তবে কেনো তমাকে দেখে লুকাচ্ছি?

-কি হলো?
-বলো তমা
-এতো সিগারেট খান কেনো
-খাই ন তো
-তাহলে
-টানি
-ষ্টুপিড। দুইটা একই,

তমা ভুল বলছে। আসল টানা আর খাওয়া ২ টা এক নয়। সিগারেট খাওয়া যায়া না ।
টানা যায়। তবে এই কথাটা আমি তমাকে বুঝাতে পারবো না।

-হেমন্ত ভাইয়া
-বলো তমা
-এতো কি ভাবেন আপনি?
-কিছু না
-তবে বলেন
-কি?
-সিগারেট কেন খান
-এমনি
-এমনি কেউ সিগারেট খায় না। কারন
থাকে
-কি কারন
-কেউ কষ্ট পেয়ে খায়,কেউ নেশা করার
জন্য খায়,কেউ কি জন্য খায় তা নিজে ও
জানে না
-অনেক কিছু জানো দেখছি
-হুম। এবার বলেন
-নেশা করার জন্য
-না, আপনাকে দেখে তা মনে হয় না।
আসলে আপনি কেন খান তা নিজে ও
জানেন না

এবার তমা ঠিক বলেছে। আমি কেন
সিগারেট খাই তা নিজে ও জানি না।
মাঝে মাঝে আমি ও ভাবি, আমি কেন
সিগারেট খাই?

-কি হলো?
-না কিছু না
-কিছু না মানে?

শেষ কথাটা বলতে বলতে নিচে তাকালো।
নিচে তাকিয়ে সে অবাক কারন
নিচে অনেক গুলো সিগারেট এর ফিল্টার
পরা ছিল ।

-এগুলা সব আপনি খেয়েছেন?
-হুম
-কেন?
-এমনি
-আমি আর আপনার সাথে কথা বলবো না।
আপনি একটা পেঁচা
-পেঁচা দেখতে খুব বিশ্রী তাই না?
-না, আমার পেঁচা টা খুব কিউট
-তোমার পেঁচা কে?

তমার মা তখনই তমাকে ডাক দিল।
তমা চলে গেল । যাওয়ার আগে এই
কথটা বলে গেল:

আমার একটা কিউট পেঁচা আছে। সে আবার
সিগারেট খায় । আমি পেঁচাটাকে আমার
মনের খাঁচায় বন্দি করবো,,,,,,,,,,,,
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এটাই কি সামুর প্রথম পোস্ট?

লিখেছেন অধীতি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩১


https://www.somewhereinblog.net/blog/deborah/9
২০১৩ সালের দিকে ঢাকায় আসি। তখন মাত্র মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করেছি। ঢাকায় এসে যেই বিষয়টা নেশার মত হয়ে যায় তা হলো বিভিন্ন জায়গায় কম্পিউটার চালানোর জায়গা ছিল। ডেমরা রানী মহল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫৬


ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করা গেছে, কিন্তু পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। অন্তত প্রযুক্তির দিকে তাকালে এমনটাই মনে হচ্ছে। যে আওয়ামী লীগ এতদিন মানুষের ভোট, মতামত, রাজপথ, রাষ্ট্রযন্ত্র সবকিছুর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×