somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"হেমন্ত"র নিশিযাপন"

১১ ই জুন, ২০১৫ বিকাল ৩:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমার পাশে যে ভদ্রলোক শুয়ে আছে তার নাম রহমান। সবাই রহমান সাহেব বলে ডাকে। তিনি বিশেষ কেউ নয় তবু ও তাকে রহমান সাহেব ডাকে। ভদ্রলোক খুব হৃষ্টপুষ্ট।

দূর্ভাগ্য কিংবা সৌভাগ্যবশত তার সাথে আমার খাট শেয়ার করে শুতে হয়। শুধু খাট ই না কম্বল ও।

প্রচুর শীত। দুইজনের একটি মাত্র কম্বল। কম্বলটা রহমান সাহেবের একাই লাগে। আমার গায়ের উপর থেকে কম্বলটা সরে যাচ্ছে তার টানাটানিতে। শীতে ঘুমানো যাচ্ছে না।

রহমান সাহেব কে ডেকে তুলবো কি না ভাবছি। ডেকে তুলে কম্বলটা ভাল মতো নিয়ে ঘুমাবো। এই শীতে কম্বল ছাড়া ঘুমানো কল্পনা করা ও পাপ!
মোটা মানুষের ঘুম বেশী। আর রহমান সাহেবের নাক ডাকার স্পষ্ট আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। তাই তাকে ডেকে অযথা গলা ব্যাথা করে লাভ নেই। তার থেকে বরং শীতের রাত টা একটু দেখা যাক।

আমি বিছানা থেকে উঠে মেসের জানালা টা খুললাম। একদম নিচতলায় আমাদের মেস টি। তাই ভাল লাগছে না। জানালাটা খুলে ও না। কিন্তু অদ্ভুত একটা জিনিস খেয়াল করলাম। একটা মানুষের ছায়া! ভূত নয় তো! না ভূতের নাকি ছায়া থাকে না। মানুষ হয় তো।

আমি দরজা খুলে বাহিরে গেলাম। লাইটের আলোতে একটা চিকন চাকন লোক কাধে একটা বস্তা নিয়ে যা পাচ্ছে তা নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তিনি আমাকে দেখেন নাই। টোকাই নাকি চোর?

তবে উনি একটা বালতি রেখে বাকি নেবার মতো তা নিচ্ছিলেন। আমি বললামঃ

- ওই প্লাস্টিকের বালতি টা কার জন্য ফেলে যাচ্ছেন? ওইটা ও নিয়ে যান

লোকটার হাত থেকে বস্তাটা পরে গেল। এপাশ ঘুরে দাড়ালেন। ভয়ে কাঁপতে লাগলেন। বুঝতে পারছি না আমার চেহারা টা কি খুব ভয়ংকর নাকি!

- শীত লাগছে খুব? তাহলে বাসায় চলেন? একটা কম্বলে আপনি আর রহমান সাহেব ঘুমাবেন আর আমি জেগে থাকবো

- ভাইজান আমারে মাফ করে দেন

- কেন?

- আমি এই কাজ জীবনে ও করুম না

- কোন কাজ?

- চুরি

- চুরি মানে!?

- হ ভাইজান, আমি চোর। আপনের আল্লাহ্'র দোহাই আমারে পুলিশে দিয়েন না।

ছোটবেলা চোরের নাম শুনলে ভয়ে আঁতকে উঠতাম। ভাত খেতে না চাইলে আম্মু ভয় দেখিয়ে বলতো "ভাত খাও নয়তো চোর আসবে"। আর আজ একটা চোর আমার সামনে দাড়িয়ে! কিন্তু ভয় পাচ্ছি না! ছোটবেলা আম্মুকে বলতাম, "আচ্ছা আম্মু চোর দেখতে কি রকম? মানুষের মতো?"
সেই প্রশ্নের উত্তর টা পেয়ে গেছি।

লোকটা প্রচন্ড কাঁপছে। শীতে কাঁপছে না। ভয়ে কাঁপছে। আমি তার ভয় দূর করার জন্য বললামঃ

- ভয় নেই। আমি আপনাকে পুলিশে দিবো না

- সত্য কইতাছে?

- হুম,, চুরি করেন কেন?

- অভাবের তাড়নায়। বউ-বাচ্চাদের খাওয়াতে পারি না তাই চুরি করি

- কোন কাজ করতে পারেন না?

- করতাম হোটেলে। চুরির দায়ে বাইর কইরা দিসে। কিন্তু আমি চুরি করি নাই। তহন থেইকা সিদ্ধান্ত নিসি এহন থেইকা চুরি ই করুম

- আর চুরি করবেন না আপনি। চুরি বাদে অন্য কোন কাজ করবেন। অন্য কি কাজ পারেন?

- রিক্সা চালাইতে পারি

- তাহলে তাই করবেন

- আইচ্ছা

- এখন চলে যান। নয়তো কেউ দেখে ফেলবে

- আপনে মানুষ না ভাই ফেরেস্তা

- এসব বললে গুনা হয়। এসব আর বলবেন না

লোকটা বস্তাট রেখে চলে যাচ্ছে। আমি বললামঃ

- বস্তাটা নিয়ে যান

- না ভাই

- আরে নেন। আমি বলসি। সমস্যা নেই। চুরির শেষ স্মৃতি হিসেবে রেখে দিবেন

- না আমি নিতে পারুম না

- তাহলে পুলিশে দিবো

- নিতাছি ভাই নিতাছি

- এবার যান

- স্লামালেকুম ভাই

- ওয়ালাইকুম আসসালাম

লোকটা বস্তাটা আগের মতো কাধে নিয়ে চলে যাচ্ছে। লোকটা পুলিশ কে প্রচন্ড ভয় পায়। পুলিশের মার খেয়েছে হয়তো।

শীত ভালই লাগছে। গরম কাপড় পড়িনি বলে শীতটা ভাল ভাবে উপভোগ করতে পারছি।

একটা অদ্ভুত বিষয় খেয়াল করলাম। সিগারেট ছাড়াই আজ মুখের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের করতে পারছি! অদ্ভুত!

আচ্ছা এখন আমার সাথে তমা থাকলে কি বলতো?
বলতোঃ

-হেমন্ত ভাইয়া আপনি আবার সিগারেট খাচ্ছেন?

আমি বলতাম, "না"। তারপর দেখিয়ে দিতাম যে কিভাবে যেন এটা হচ্ছে। যার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আমার জানা নেই।

তারপর তমা বলতো, "একি এতো শীতেও আপনি গরম কাপড় পড়েন নি কেনো? শীত লাগেনা আপনার? আপনার চামড়া কি গন্ডারের চামড়া দিয়ে বানানো? আর কতোবার বলছি এই কালো শার্ট টা আর পড়বেন না?"

তখন আমি বলতাম, "আমার একটাই শার্ট তমা। "

তমা তখন রেগে বলতো,, "উফ্! আপনি আসলেই একটা পেঁচা!"


#অপ্রিয়_প্রিয়
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১৫ বিকাল ৩:৩৪
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এটাই কি সামুর প্রথম পোস্ট?

লিখেছেন অধীতি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩১


https://www.somewhereinblog.net/blog/deborah/9
২০১৩ সালের দিকে ঢাকায় আসি। তখন মাত্র মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করেছি। ঢাকায় এসে যেই বিষয়টা নেশার মত হয়ে যায় তা হলো বিভিন্ন জায়গায় কম্পিউটার চালানোর জায়গা ছিল। ডেমরা রানী মহল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫৬


ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করা গেছে, কিন্তু পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। অন্তত প্রযুক্তির দিকে তাকালে এমনটাই মনে হচ্ছে। যে আওয়ামী লীগ এতদিন মানুষের ভোট, মতামত, রাজপথ, রাষ্ট্রযন্ত্র সবকিছুর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×