somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"প্রিয় সেজুতি"

০৬ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ৮:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


-এক্সকিউজ মি, আপনার কাছে লাইটার হবে?

কথাটা শুনেই হাঁটা বন্ধ করে দাড়ালাম। পিছনে ফিরে তাকাবো কি না তা ভাবছি।
এতো ভাবাভাবির কিছু ছিল না। যদি কোন ছেলের কন্ঠ শুনতাম। তাহলে বলতাম, না ভাই আমার কাছে লাইটার নেই। আপনি আমার সিগারেট থেকে আগুন নিতে পারেন। নো প্রবলেম।

কিন্তু আমি যেই কন্ঠটা শুনেছি তা একটি মেয়ের কন্ঠ। সুতরাং ভাবার ই কথা।
আচ্ছা মেয়েটা লাইটার দিয়ে কি করবে? সিগারেট খাবে না তো!

-এই যে হ্যালো! শুনতে পাচ্ছেন?

মেয়েটা একটু বিরক্ত হয়েই কথাটা বললো। আমি পিছনে ফিরে তাকালাম। হ্যাঁ সত্যিই একটা মেয়ে।

-জ্বি বলেন?
-লাইটার হবে?
-লাইটার দিয়ে কি করবেন?
-দরকার আছে
-না নেই। তবে সিগারেট থেকে আগুন নিতে পারবেন
-না থাক দরকার নেই।

মেয়েটা একটু রাগ হলো। কথাটা বলা আমার ঠিক হয় নি। যখন বলে ফেলেছি তখন আর ফেরত নেয়া তো যাবে না। মেয়েটার নাম জিজ্ঞেস করা দরকার।

-আচ্ছা আপনার নাম কি?
-সেজুতি

"সেজুতি" এই নামটা একটু বিশ্লেষন করা যাক। সে+জুতি =সেজুতি। যে কেউ এই নামটা শুনলে মনে করবে তার পাশের জনের নাম বলেছে। সে জুতি। তবে "জুথি" হলে ভাল হতো।
আমি যেহেতু বুঝতে পেরেছি তার নাম সেজুতি তাই এটা নিয়া প্যাঁচানো কোন মানেই হয় না। তবু ও একটু পেঁচানো দরকার। আর সবথেকে বড় কথা আমার মেয়েটিকে পরিচিত মনে হচ্ছে।

-কই আপনার পাশে তো অন্য কাউকে দেখতে পাচ্ছি না
-মানে?
-জুতি কই?
-জুতি মানে?
-বললেন না সে জুতি?
-আমার নাম সেজুতি সেটা বলছি
-ও আচ্ছা। সুন্দর নাম
-থ্যাংকস
-আপনার নাম নিয়ে একটা কবিতা আছে । পড়ছেন?
-না তো। কি কবিতা?
-আছে একটা
-শুনান তো একটু

সেজুতি আমাকে বিপদে ফেলে দিলো কবিতা শুনাতে বলে। আদৌ তার নামে কোন কবিতা আছে কি না তা আমি জানি না। এখন আমি কবিতা কোথায় পাবো? আর আমি কবি না যে কবিতা লিখে ফেলবো সেজুতি কে নিয়া। আর গড় গড় করে বলে ফেলবো।

-কি হলো বলছেন না যে?

আমি চোখ বন্ধ করে গড় গড় করে বলতে লাগলাম:

সেজুতি সেজুতি
তুমি কোন জুতি?
সেজুতি সেজুতি
তুমি কি আমার জুতি?

সেজুতি কবিতা শুনে রাগ হয়ে বললো, যাষ্ট স্যাট আপ।

আমি কবিতা বলা থামিয়ে দিলাম। রাগ হবার ই কথা এমন কবিতা নেই।

-আপনি এই কবিতা কোথায় পড়েছেন
-বই এ
-কোন ক্লাসের?
-ওয়ান, টু, থ্রি, ফোর, ফাইভ,,,,,,
-স্টপ। আপনি সেই ওয়ান থেকে টেন পর্যন্ত বলে যাবেন আর আমাকে তা ই বিশ্বাস করতে হবে?
-না বিশ্বাস করার কোন দরকার নেই
-এমন কোন কবিতা নেই। মিথ্যা বলা পছন্দ করি না আমি

সেজুতি ঠিক বলেছে এমন কোন কবিতা নেই। তাহলে আমি কেন বললাম? মেয়েটাকে কেমন যেনো পরিচিত মনে হচ্ছে।

-আর কিছু বলবেন আপনি?
-আচ্ছা সেজুতি আমার কি তোমাকে চেনার কথা?
-একটা অপিরিত মেয়েকে "তুমি" করে বলছেন?
-পরিচিত মনে হচ্ছে
-আপনি কি সত্যিই আমাকে চিনতে পারছেন না প্রিয়?

সেজুতি আমার নাম জানে! তার মানে সেজুতি আমাকে চিনে। কিন্তু আমি চিনতে পারছি না কেন?

-প্রিয় আপনি কি সত্যিই আমাকে চিনতে পারছেন না?
-আচ্ছা সেজুতি তুমি মগবাজার এ থাকতে তাই না?
-না
-তাহলে?
-কোথাও না। আমি যাই

সেজুতি চলে যাচ্ছে। আমাকে অবাক করেই চলে যাচ্ছে। কিভাবে আমাকে চিনে? আর আমি ই বা চিনতে পারছি না কেন!

ভাবতে ভাবতে পার্কের বেঞ্চে একটা কাক এসে বসল। "কা কা" বলে আমাকে ডাকছে। ভাতিজার কথা শুনতে হয়।

-কি রে কেমন আছিস?
-কা,, কা,,,
-আমি ও ভাল আছি
- কা,,,কা,,,,
-ওই মেয়ে টা কে? আচ্ছা ওর নাম সেজুতি
-কা,,,,কা,,,,,
-না আমি চিনতে পারছি না মেয়েটাকে,,।কিন্তুু আমাকে চিনে। আমার নাম ও জানে
-কা,,,,,,কা,,,,,
-আরে ধুর ওসব কিছু না। কি যে বলিস তুই
-কা,,,,কা,,,
-আরে না আমার কিছু হয় না
-কা,,,কা,,,,
-হাসিস না। চল হেঁটে আসি
-কা,,,,কা
-আচ্ছা যা। ভাল থাকিস

কাক ভাতিজার তার নীড়ে যেতে হবে। তার পরিবারের কাছে। তার আগে তাকে খাবার জোগাড় করতে হবে তার পরিবারের জন্য। তাই আমাকে একাই হাঁটতে হবে।

আবহাওয়াটা খারাপ না। মনে হচ্ছে বৃষ্টি হবে। আমি পকেট থেকে সিগারেট বের করলাম। সিগারেট টা ধরাতে যেয়ে দেখি আমার কাছে লাইটার আছে!
তখন সেজুতি র কাছে নেই বলেছি কেন?
যদি বলতাম আছে তাহলে হয়তো কথায় কথায় সেজুতির পরিচয় টা বের করতে পারতাম।

না আগে সোজুতি কে খুজতে হবে। খুজে বের করতে হবে ওকে। তারপর বলতে হবে :-

সেজুতি সেজুতি
তুমি কোন জুতি?


#অপ্রিয়_প্রিয়(খালেদুল ইসলাম প্রিয়)
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ৮:০৭
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এটাই কি সামুর প্রথম পোস্ট?

লিখেছেন অধীতি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩১


https://www.somewhereinblog.net/blog/deborah/9
২০১৩ সালের দিকে ঢাকায় আসি। তখন মাত্র মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করেছি। ঢাকায় এসে যেই বিষয়টা নেশার মত হয়ে যায় তা হলো বিভিন্ন জায়গায় কম্পিউটার চালানোর জায়গা ছিল। ডেমরা রানী মহল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫৬


ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করা গেছে, কিন্তু পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। অন্তত প্রযুক্তির দিকে তাকালে এমনটাই মনে হচ্ছে। যে আওয়ামী লীগ এতদিন মানুষের ভোট, মতামত, রাজপথ, রাষ্ট্রযন্ত্র সবকিছুর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

×