ময়- মুরুব্বিদের ধারণা আল্লাহ্ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। ছোটোবেলা থেকে শুনে আসছি। সত্যি বলতে কি একটু একটু বিশ্বাস ও করা শুরু করেছিলাম। তাই যেকোনো দুঃসংবাদে মনে মনে নিজেকে সান্ত্বনা দিতাম, হয়তো যা হয় তা ভালোর জন্যই হয়।
কিন্তু আজকাল আর কথাটির উপর ঠিক ভরসা হয় না। আমার জীবনে ঠিক এই মুহূর্তে যা ঘটছে, তাতে আমি অনেক সাধ্য সাধনা করেও কোনও ভালো দিক খুঁজে পাচ্ছিনা, নিজের ও না, আমার জীবনের সাথে যারা জড়িত তাদেরও না।
ছোট্টমনি নুহা যে বুকভরতি অভিমান নিয়ে অজানার পথে পাড়ি জমাল, তাতে কার কি ভালো হোল? নুহার বাবার? মা'র? আমাদের সবার?
যে বয়সে কিশোরী মেয়েটির দু'চোখে রঙ্গিন স্বপ্ন দেখবার কথা, অন্য সবার মতো বেণি দুলিয়ে স্কুলে যাবার কথা সে বয়সে কেন তাকে হাকিমের খাসকামরায় বসে দুঃসহ স্মৃতিগুলোকে বারবার মনে করতে হচ্ছে? হ্যাঁ, আমি ভিকারুন্নিসা'র ছাত্রীটির কথাই বলছি। শিক্ষক নামের এক পশুর কাছ থেকে সে জীবনের সবচেয়ে জঘন্যতম পাঠটি পেলো, তাতে তার কি ভালো হোল?
মিরশরাই এর কচি প্রানগুলো অকালে ঝরে গেলো, বাকরুদ্ধ করে গেলো আমাদের সবাইকে, এতে কার কি ভালো হোল? আছে কোনও জবাব?
আমার ছোট মাথায় এত বড় ভাবের কথা ঢোকে না, শুধু জনে জনে জিজ্ঞেস করতে মন চায়, কিভাবে আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন? কিভাবে?
তবে এতটুকু বুঝি, সুপারহিট হিন্দি সিনেমার সুপারহিট বুলি কপচালেই জীবন সুখকর হয়ে ওঠেনা। হৃদয়ের ঠিক ওপরের চামড়ার আবরণটি শুধু দুটি কোমল আঘাতে রক্ত নিষ্কাশনের গতি কমিয়ে দেয় না। প্রয়োজন আরও বড়, আরও গভীর কিছুর, কি - তা আমি নিজেও জানিনা।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ৮:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


