somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন বলি'র বকরা এবং একটি বর্বর জাতি!

১৯ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ৩:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পত্র-পত্রিকায় আজ একটি খবর পড়ে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। ফেসবুকের কল্যাণে ব্যাপারটি প্রথম জানতে পারি এবং এতটাই কষ্ট পাই যে অনেকদিন পর সামুর ছায়া না মাড়িয়ে পারলাম না।

আমি কাজী মোহাম্মদ রেজোয়ানুল আহসান নাফিস এর কথাই বলছি, যে ছেলেটি মাত্র নয় মাস আগে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় পাড়ি দিয়েছিলো '' স্বপ্নের দেশ'' আমেরিকায়। মাত্র নয় মাস! আমার মনে পড়ে প্রথম যখন আমি ইংল্যান্ড এ আসি। পাক্কা এক বছর লেগেছিল এই নতুন ধরনের জীবন যাত্রায় অভ্যস্ত হতে, পড়ালেখার তুমুল চাপের কথা তো বাদই দিলাম। সেখানে এই ২১ বছরের সদ্য তরুণ ছেলেটির পক্ষে কি আদৌ সম্ভব আমেরিকার মত সদা সন্দিহান একটি দেশের নাকের ডগা দিয়ে এমন একটি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়া? ষড়যন্ত্র যে আসলে কে কার বিরুদ্ধে করছে সেটাই দেখার বিষয়।

ফক্স নিউজ এর একটা সংবাদ দেখছিলাম ইউ টিউব এ। সংবাদ পাঠক বার বার নাফিস কে Middle Eastern নামে বলছিল। হয় সে
জানেনা বাংলাদেশ কোথায় অথবা সে এশিয়া বলতে কেবল ঐ জায়গাকেই চেনে। অবাক হবার কিছু নেই অবশ্য। ঐ বিশেষ জায়গার বিশেষ তৈল সম্পদ কে তারা খুব ভালই চেনে, এশিয়াকে চিনবার দরকার তাদের নেই।

তাদের খবরটি পুরোমাত্রায় স্ব-বিরোধী। একবার তারা বলছে যে FBI নকল বিস্ফোরক নিজেরাই যোগান দিয়েছে ছেলেটিকে ফাঁদে ফেলবার জন্য আবার অন্যদিকে বলছে যে ছেলেটি এই দেশেই এসেছে এই ''মহান'' দেশকে ধ্বংস করে দেবার জন্য!

এই প্রসঙ্গে অনেকগুলো ব্যাপার মাথায় একসাথে ঘোরাঘুরি করছে। প্রথমত, ছেলেটির নামটি অতিমাত্রায় ইসলামিক, সঙ্গত কারনেই তাকে তার নামের জন্যই বেছে নেয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বেশ কিছুদিন আগে হিলারির বাংলাদেশ ঘুরে যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে হিলারি-ইউনুস-হাসিনা জটিলতা-টা ঘনীভূত হওয়া, সন্দেহের আওতায় পড়ে। শেখ হাসিনার সর্বশেষ যুক্তরাজ্য ভ্রমন এবং BBC তে boastfully ইউনুসকে নিয়ে কথা বলায় পুরো ব্যাপারটি আরও বাজে দিকে মোড় নিয়েছে। এবং তৃতীয়ত, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এমন একটি সুড়সুড়ি মার্কা ঘটনার খুব দরকার ছিল আমেরিকার ( more precisely, ওবামার)।

যতদূর জানি, ছেলেটির বাবা একটি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট, নিঃসন্দেহে বেশ ধনী। এমন ধনী বাবার NSU পড়ুয়া সন্তানের খুব বেশী ধার্মিক হবার কথা না, যে সে আগ-পাছ চিন্তা না করে জিহাদের ডাকে সাড়া দিয়ে নিজেকে বিলিয়ে দেবে। ধরে নিচ্ছি সে হয়ত টাকার লোভে পড়েছিল, তাহলে যে তাকে লোভ দেখিয়েছিল সে কে এবং কোথায়? তাকে নিয়ে কেন কোন উচ্চ-বাচ্য করা হচ্ছেনা? এই যে ছেলেটি একটি কদর্য দেশের ততধিক কদর্য ঝামেলায় জড়িয়ে পড়লো, কে তাকে রক্ষা করবে? তার বাবা দেশের ১ নাম্বার ধনী হলেও তার পক্ষে নিজের ছেলেকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। পারেন শুধু দু'জন, তাদের একজন হলেন আমাদের পুঁথিগত প্রধানমন্ত্রী! সৌদি আরব থেকে আটটি নরমুণ্ড দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনবার যার ক্ষমতা নেই, ন্যায় বিচার দাবী করা তো দূরের কথা, তিনি করবেন কোথাকার কোন নাফিস কে বাঁচাবার চেষ্টা? তার চেয়ে বরং আপনারা ছেলেটিকে একটি দুঃস্বপ্ন মনে করে ভুলে যান! প্রধানমন্ত্রী গিয়ে ওবামার পা জড়িয়ে ধরলেও তা আর সম্ভব নয়। কথায় আছে না, বাঘে ছুঁলে এক ঘা, পুলিশ ছুঁলে আঠারো ঘা আর আমেরিকা ছুঁলে পিতৃদত্ত জীবনটাকেই ভুলে যেতে হবে!

দ্বিতীয় এবং শেষ জন আর কেউ নন, স্বয়ং ডঃ ইউনুস! তিনি চাইলেই এর একটা ব্যবস্থা করতে পারেন। কিন্তু আমি জানি, তিনি তা করবেন না, ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করবার (অর্থাৎ হাসিনাকে উচিত শিক্ষা দেয়া) জন্য। ছেলেটির জন্য আর তার পরিবারের জন্য সত্যি খুব কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু কি-ইবা করার আছে আমাদের, অভাগী দেশমাতার হতভাগা সন্তান হিসেবে রঙ্গমঞ্চের এই নাটক চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া?

খবর গুলো পড়ে নিন এখানে---

লিংক ১- View this link

লিংক ২- http://www.youtube.com/watch?v=yj3KXvaH__c

যারা আমেরিকায় বসবাস করেন তারা সবাই জানেন এবং বোঝেন, তারপরও আমি আর একটি বার সতর্ক করে দিতে চাই, আপনারা যারা নিয়মিত মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়েন তারা একটু সাবধানে থাকবেন এবং এই বিষয়টি নিয়ে ওদেশীদের সাথে কোনোরকম সংলাপে যাবেন না প্লিজ। :|

এবার দেখুন আমাদের বোদ্ধামহল এই ব্যাপারে কি কি বাণী দিয়েছেন, View this link

Click This Link

আমরা বাংলাদেশী, একটি ইতিহাস সমৃদ্ধ গরীব কিন্তু গর্বিত জাতি। তাই আমরা আশায় বুক বাঁধি বার বার, আমাদের দেখবার যে কেউ নেই! আসুন হাত তুলে এই বাচ্চা ছেলেটির জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করি, সে যেন অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসতে পারে তার মায়ের বুকে। আমীন।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০১২ ভোর ৪:০৫
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×