somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপকর্ম ও ঘৃণার উত্তরাধিকার

০৩ রা নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জামাতিদের ইতিহাস লজ্জার ইতিহাস। জামাতিদের ইতিহাস গোপন ইতিহাস। জামাতিদের ইতিহাস এমন ইতিহাস, যা বলা যায় না। জামাতিদের ইতিহাস, ছি:'র ইতিহাস।

যদিও জামাতিরা জানে, একটা মানুষ যখন মিথ্যা বলে, তখন তার ঈমান থাকে না।
একটা মানুষ যখন মিথ্যা বলে, এবং মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং মিথ্যাকে সমুন্নত রাখে, তখন সেই মানুষটার বা সেই সংঘের কারোই ঈমান থাকার প্রশ্ন ওঠে না।

জগতের বাচ্চা বাচ্চাও আজকে জানে, রাসূল দ. বলেছেন, আমি মধ্যপন্থী, আমার উম্মাহ মধ্যপন্থী। তিনি দ. বলেছেন, তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না, অতীতে বহু জাতি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে বিলীন হয়ে গেছে। কুরআনের কথা, একজন নিরপরাধ মানুষকে যে হত্যা করে সে পুরো মানবজাতিকে হত্যার মত জঘন্য দায় বহন করে। নবী দ. বলেছেন, যে কোন একত্ববাদী (মুওয়াহিদ) কেও হত্যা করে, সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না, যদিও জান্নাতের ঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়। তিনি দ. বলেছেন, শত্রু ঘোষিত নয়, এমন কোন ব্যক্তি অমুসলিমকেও যদি কেউ হত্যা করে, সে জান্নাতে যাবে না। তিনি দ. বলেছেন, হে মানবজাতি! (লক্ষ্যণীয়, মুসলিম জাতি নয়, মানবজাতি, আইয়ুহান্ না-স!) তোমাদের জন্য পরস্পরের রক্তকে আজ থেকে হারাম (পবিত্র ও নিরাপদ) ঘোষণা করা হল। এবং এই ঘোষণা তিনি অতি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পুনর্বার দিয়েছেন, বাইশ বছরের নবুয়্যত শেষে বিদায় হজ্বের দিন। তিনি দ. বলেছেন, কিছু মানুষ কুরআন পাঠ করে চেহারা অত্যন্ত উজ্জ্বল করবে এবং প্রতিবেশীকে মুশরিক বলে হত্যা করতে উদ্যত হবে- যারা হত্যা করতে যাচ্ছে তারাই মুশরিক।

এইসব বাণী কিছু অপক্ক ভ্রুণের নার্ভাস সিস্টেমে কোনকালেই আন্দোলন তৈরি করতে পারেনি। এই অপরিপক্ক ভ্রুণসমূহের মধ্যে অগ্রগামী যুগে যুগে সন্ত্রাসবাদী উগ্র ইসলাম বিকানো দলগুলো যাদের মধ্যে জামাতিস্লাম অন্যতম।

এই কামারু মুক্তিযোদ্ধাদের আঙুল কাটতো। তাদের দোষ, তারা স্বাধীন একটা দেশ চেয়েছিল। আলবদর বাহিনীর প্রধান নিজামী আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এই সেই নিজামী, যে ও যারা শুধু নয়মাস সব ধরনের গণহত্যা করায়নি, গণধর্ষণ করায়নি, বরং বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ শহীদের লাশকে ঘুর্ণিঝড়ের লাশ বলে চালিয়েছে। কাশেম চট্টগ্রাম আল বদরের নেতৃস্থানীয় ছিল। এরা নয়মাস অত্যাচার দেখেছে। এরপরও এদের চোখ ফেরেনি। এরা হার মানার দুদিন আগে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে শুধু একটা কারণে, হায়, বিক্ষত দেশটা যেন পঙ্গুও হয়। এদের এই দেশে পুনর্বাসিত থাকতে দেয়া হয়েছে। যুদ্ধ করা ভাল, একটা জনপদে সেই জনপদের মানুষ হিসাবে সারা পৃথিবীতে অপপ্রচার কতটুকু ভাল সেটা সময় বলে দিচ্ছে। ঠিক এজিদের মত, ঠিক ইবনে জিয়াদের মত, কারবালায় আহলে বাইতে রাসূলিল্লাহর পবিত্র মস্তক যারা বহন করে নিয়ে গিয়েছিল, সেই শুয়ারগুলোর মত, ইমাম হুসাইন রা.'র পবিত্র দেহ যারা ঘোড়ার ক্ষুরে ক্ষতবিক্ষত করেছিল, ঠিক সেগুলোর মত প্রত্যেকটাই চরম ঘৃণিত ও নিগৃহীত অবস্থায় মৃততুবরণ করবে ও করছে।

পাকিস্তানে কালকে পরশু তরশুও প্রতিবাদ সভা হয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করা যুদ্ধাপরাধ নয়। অবশ্যই, কারো পক্ষে যুদ্ধ করাই যুদ্ধাপরাধ নয়।

কিন্তু পিশাচের ছাওরা এটা কেন স্বীকার করে না, যে তারা পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করেছিল? শুধু পাকিস্তানীরা কেন সেটা বলে? কারণ জগতের সবাই জানে, পাকিস্তানী সেনাবাহিনী শুধু যুদ্ধ করেনি। যুদ্ধাপরাধ করেছে। পাকিস্তানি রাজাকার, আলবদর, আল শামস, শান্তি কমিটি, জামাতে ইসলাম, নেজামে ইসলাম, মুসলিম লিগ, ছাত্রসংঘ শুধু যুদ্ধ করেনি, যুদ্ধাপরাধ করেছে। গণ-ধর্ষণ যুদ্ধ নয়। জনপদে অগ্নিসংযোগ যুদ্ধ নয়। সিভিলিয়ান হত্যা যুদ্ধ নয়। যত্রতত্র ব্রাশ ফায়ার করা যুদ্ধ নয়।

এইগুলোই যুদ্ধাপরাধ, যে কলঙ্ক অস্বস্তির কাঁটা পশ্চাদ্দেশে নিয়ে হাজারো বছর ধরে জামাতিস্লাম এবং সমমনাদের চলতে হবে।

পিশাচ কাদের মোল্লা যখন মরল, তার আগ পর্যন্ত তার 'পরিবার' কেন বলে বেরিয়েছে পিশাচ কাদের ছিল মুক্তিযোদ্ধা? কেন ও লটকে যাবার পর পাকিস্তানের পার্লামেন্ট বলল, ও পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করেছিল? এই পরিবার কেমন পরিবার? এই সন্ততি কেমন সন্ততি? আল্লাহ শুধুশুধু বলেননি, পবিত্র মানুষের জন্যই পবিত্র পরিবার। কাঁটাবনে গোলাপ জন্মায় না। কাঁটাগাছই জন্মায়।

আজকে যারা নব্যপ্রজন্ম হত্যাকারী হতে যাচ্ছে ও হচ্ছে সারা বিশ্বব্যাপী, যারা বোমাহামলাকারী, নারী-শিশু হত্যাকারী, সিভিলিয়ান হত্যাকারী, চাপাতি-রামদা দিয়ে জবাইকারী হতে যাচ্ছে, ফতোয়া খুঁড়ে খুঁড়ে রেইপের মত জঘন্য কাজে লিপ্ত হচ্ছে, তাদের জেনে রাখা উচিত, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও তাদের পরিচয় হবে লজ্জার। আজকে জামাতিরা যেভাবে নিজেদের প্রকৃত পূর্বসূরীদের কৃতকর্মের লজ্জা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়, তাদের অনুসারীরাও ঠিক তেমনিভাবে তাদের লজ্জার আকর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইবে অথবা আজকের জামাতিদের মত প্লেইন মিথ্যা কথা বলবে।

একবার ঢুকে গেলে, একবার এইসব সন্ত্রাসী সংগঠনের সমর্থক-কর্মী হয়ে গেলে এই পৃথিবীতে লজ্জার কোন অভাব হবে না, থুতুর কোন অভাব হবে না, এবং ওই পৃথিবীতেও। দশবার ভাবা উচিত।

কুকর্মের লজ্জা এমনই লজ্জা, যা ভি সাইন দেখালে যায় না- বরং আরো বাড়ে। মিথ্যা বলে যা ঢাকা যায় না। সব ধরনের কুকর্মের পর যা বাকি থাকে এবং ইসলামের সমস্ত কিছুকে অস্বীকার করার পর যা বাকী থাকে, তার নাম কখনোই ইসলাম নয়, বড়জোর কুফর হতে পারে।

ধর্ম থাক বা না থাক, ঈমান থাক বা না থাক, বোধসম্পণ্ন মানবজাতির কাছে বিলুপ্তপ্রায় জামাতিদের মিথ্যা ছাড়া আশ্রয় নেই। তাদের ঈমানের প্রয়োজন নেই, তাদের শুধু টিকে থাকার প্রয়োজন।

অতিকায় হস্তি বিলুপ্ত হলেও তেলাপোকা টিকে আছে, টিকে থাকা সার্থকতা নয়। জামাতিদের, জগতজুড়ে ইসলামের নামে সন্ত্রাস করে বেড়ানো ডজন ডজন সংগঠনের টিকে থাকা তাই তেলাপোকার টিকে থাকার চেয়েও অধম। কেননা, তেলাপোকা মিথ্যা বলতে পারে না। তেলাপোকা কীট হতে পারে, আপন চক্রবৃদ্ধি কর্মফলে ঘৃণ্য নয়।
১৮টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×