সাপ খেকো মানুষ মজাহার (৩৫)। কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়ায় তার বসবাস। শুনে অত্যাশ্চার্য মনে হলেও তা বাস্তব। বলদিয়া বাজারে গেলেই একটি ব্রয়লার মুরগীর দোকানে তার দেখা মেলে। প্রতিদিন সে খেয়ে থাকে এক একটি বিষধর সাপ। খাবার তালিকায় বিষধর সাপগুলোর মধ্যে আলাদ ও দারাশ তার প্রথম পছন্দ। দিনে যে কোন সময় সে বেড়িয়ে পড়ে সাপের সন্ধানে। জীবন্ত আলাদ বা দারাশ পেলে সেটি ধরে প্রথমে দাঁত দিয়ে কামড়িয়ে সাপের ধর থেকে মাথা আলাদা করে চামড়া শুদ্ধ চিবিয়ে খায়। কোন দিন কোন কারনে এদুটি সাপের সন্ধান না পেলে ইঁদুর, গুইসাপ, বেজি, মরা মুরগী অথবা কাচা গরুর মাংস তার খাওয়া চাই। নইলে তার মাথা ধরে যায়, গা ব্যথা করে। এটা তার ১৩ থেকে ১৪ বৎসরের অভ্যাস। কথা গুলো শুনে নিজের মনে আগ্রহ জন্মালে, আগ্রহের উপাত্ত সংগ্রহে গেলে হাতে ধরা দারাশ সাপটি নিয়ে খেতে খেতে সে জানায়, আপনি আসবেন শুনে সাপটির কিছু অংশ খেয়ে রেখে দিয়েছি। এখন সেটাই খাচ্ছি। অবশ্য অনেক খোজাখুজি করলাম, পেলে জীবন্ত সাপ খেয়ে দেখাতাম। স্থানীয় বাসিন্দা অহির উদ্দিন ও কচাকাটা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক রফিকুল ইসলাম জানালেন সাপ খাওয়া মজাহার শব্দটি শুনতে খারাপ শোনা গেলেও সে থাকাতে গত কয়েক বছরে এ এলাকায় একটিও সাপে কাটা রোগী মারা যায়নি। রোগীকে সে নিজের আয়ত্ত্বে নিয়ে ঝাড়-ফুক দিয়ে বিষ পায়ের মধ্যে নামিয়ে নতুন ব্লেড দিয়ে সে জায়গাটা চিড়ে ফেলে মুখ লগিয়ে বিষ তুলে গ্লাসে রাখে। রোগী বিষমুক্ত হয়ে সুস্থ্য হলে সে বিষটুকু চুমুক দিয়ে খেয়ে ফেলে।
কেন কিভাবে এ অভ্যাস গড়ে ওঠে এ কথা জানতে চাইলে মজাহার বলেন, সে অনেক কথা। আমি তখন ৭/৮ বছরের বালক। ক্লাশ টু তে পড়ি। রাগের বসে একদিন বাড়ী থেকে বেড়িয়ে যাই। ভারত সীমান্ত আমাদের বাড়ী থেকে কাছাকাছি এবং তখনকার দিনে অপেক্ষাকৃত সীমান্ত পাহাড়ায় এতটা কড়াকড়ি না থাকায় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে ঢুকে ঘুরতে ঘুরতে আগরতলা পর্যন্ত যাই। একদল ছেলে ধরা আমাকে ধরে বিক্রি করে দেয় অন্যত্র। চোখ বাঁধা অবস্থায় সেখানে গিয়ে চোখ খুলে আমি দেখতে পাই, আমাকে যে জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেটা একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। চারিদিকে অথৈ পানি। মাঝের দ্বীপটাতে প্রায় ২০০/৩০০ গারো উপজাতির বাস। তাদের প্রত্যেকের পেশা সাপ প্রতিপালন ও বিক্রি। সাপ, ব্যাঙ, কেঁচো, ইঁদুর, বেজি ও কুকুর তারা সবকিছুই খায়। অনেক পরে শুনেছি সে জায়গাটার নাম নাকি চেরাপুঞ্জ নামক একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। পেটের ক্ষুধা সইতে না পেরে তাদের দেখাদেখি আমিও সবকিছু খাওয়া শুরু করি। অতপর, জীবন্ত সাপও চলে আসে আমার খাবারের তালিকায়। এ অবস্থায় সে জায়গায় ১১ বছর কাটানের পর বাড়ীর কথা মনে পড়লে এক সময় পালিয়ে চলে আসি। তখন থেকে বাড়ীতে। এ এলাকায় এবিষয়টি দৃষ্টিকটু হলেও আমি এখনও এ অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারিনি।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সকাল ১০:২২