somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ময়লা প্যান্ট আর সাদাসিধে পোশাক ।

২৫ শে মে, ২০১৪ বিকাল ৫:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দিনটা ছিলো অন্যান্য দিনের মত একটা সাধারন দিন । যেকটা দিন জীবনে স্বরনীয় যেকটা দিন আছে, এটা তার মাঝে অন্যতমত ।

হ্যা 4 জানুয়ারীর কথা বলছি । বিকেলে কোচিং শেষে বাসায় ফিরছিলাম ।
খুব ভয়ে ছিলাম । এই বুঝি ককটেল মারলো রে ! এই বুঝি গাডির গ্লাস ভাংলো রে । চারিদিকে কেমন যেন একটা থমথমে পরিবেশ । জি ই সি তে গাডির আশায় তীর্থর কাকের মত দাডিয়ে আছি ।
প্রায় ২০ মিনিট পর একটা সোনার হরিন (টেম্পো) এলো ।
আমি সহ যাত্রি 7 জন ।
আমার পাশেই একটা ময়লা প্যান্ট আর সাদাসিধা পোশাকের এক ভদ্রলোক বসলেন । একটা ইয়া মোটা চশমা পরা । দেখে মনে হচ্ছিলো দুচোখে যেন দুটো ম্যগনিফাইং গ্লাস পরে আছে ।
হাতে ছিলো অদ্ভুদ আকৃতিয় একটা বিশাল ব্যাগ ।

তো, গাড়িতে আমি আমার মত পরীক্ষার প্রশ্নটা বের করে দেখছি কটা ভুল হল ।
কিন্তু লোকটা দেখি ট্যেরা চোখে প্রশ্নটা পডার চেষ্টা করছে ।

লোকটার আগ্রহ দেখে মনে হল যেন উনি পরিক্ষার হলে বসে প্রশ্ন কমন না পড়ায় আতংকে আছেন ।
তার চোখে মুখে সেরকম ই একটা ছাপ ।
তাই নিজে থেকেই প্রশ্নটা বাডিয়ে দিলাম ।
প্রশ্ন দেখবেন তো ?
এই নিন ।
( লোকটা খুশি মনে প্রশ্নটা দেখছে ।)

-আংকেল , কেমন দিলা পরিক্ষা ?

জি ! বেশি ভাল না ।

-কেন আংকেল ? প্রশ্নতো অনেক মানসম্মত হইছে ।

ইয়ে মানে , জি হ্যাঁ ।তবে পডে যাই নাই তো ।

- ও। তা কিসে পড ?

ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে ।

-ভাল ।
তা বড হয়ে কি হবা ?
(মনে মনে লোকটার কথায় বিব্রত হচ্ছিলাম । তার পর ও জবাব দিলাম ।)

-হু বুজলাম । অনেক বড আশা ।তা এমন গন্ডগোলের মাঝে বের হইছ যে ।

(লোকটা এমনভাবে কথা বলছিলো যেন আমি তার ঘরজামাই হই।)

বিরক্তি নিয়ে উত্তর দেই , গন্ডোগোর ভালো ই লাগে । তাছাড়া , বাসায় আর কত বসে থাকবো ? বলেন ?

-হ্যাঁ তাও ঠিক । তো , সাবধানে চলাফেরা করবা । চোখ কান খোলা রেখে চলবা ।

কেন ? কি হইসে ? আমার চোখ কান খোলা না থাকলে নিশ্চই আপনায় সাথে কথা বলতে পারতাম না । তাই না ?

-আংকেল , কানে একটা ডিশ এন্টেনার মত বিশাল হেডফোন দিয়ে চলাচল করাটা কি ঠিক ?

(এভাবেই লোকটা আমাকে তাঁর অমৃত মিশ্রিত উপদেশবানী শোনাচ্ছিলেন । ঠিক আমার আব্বার মত ।)

কথা বলতে বলতে আকবর শাহ্ পার হচ্ছিলাম ।লোকটার কথাবার্তার কোন শ্লীলতা ছিলোনা । যা তা জিঙ্গেস করা শুরু করলো ।

কয় ভাই বোন ? কে কিসে পডে ? এমন কি তাদেয় বয়স ও !

কিছুক্ষনের মধ্যেই আমার সহ্যের সীমা চরমে পৌছলো ।

তবুও ভদ্রতার খাতিরে অনেকটা অনিহার সাথেই জিঙ্গেস করলাম ।

কই যাবেন ?
লোকটা উত্তরে কোন একটা বস্তি এলাকার নাম বলল ।

গাডিতে তখন 4 জন যাত্রি ।
হঠাত্‍ হৈ চৈ শোনা গেল ।
হ্যাঁ । ঐ তো , কিছু লোক লাঠি শোটা হাতে আমাদের গাডিটার দিকেই তো আসছে ।
গাডিটা থামানোর চেষ্টা করছে ।
ড্রাইভার পরিস্থিতি সামলে নিয়ে জোরে একটা টান দিলেন । হারামিগুলা বৃষ্টির মত পাথর ছুডছিলো ।
লোকটা আমায় বলল মাথা নিচু করে বসে থাকতে ।
আমি তাই করলাম । কিন্তু হঠাত্‍ একটা কাঁচের ভাঙা টুকরাতে এক যাত্রির হাত কেটে গেল । প্রচন্ড বেগে রক্ত বেরুচ্ছে ।
ঠিক তখন ই চোখ পডলো পাশের লোকটার দিকে ।
দেখে অবাক হলাম ।ব্যাগের চেইন টা খুলে কি সব নিয়ে আহত লোকটার দিকে ছুটে
গেলেন । আহত লোকটাকে শান্ত করে ওনার কাটা হাতে একটা ব্যান্ডিস লাগিয়ে দিলেন ।
তারপর তাড়াতাড়ি গাডি থেকে নামলাম আমরা ।
লোকটা চলে যাচ্ছিলো । যাওয়ার আগে নিজের আগ্রহ থেকেই লোকটাকে বিনয়ের সাথে জিঙ্গেস করলাম ,

-আংকেল কিছু মনে না করলে একটা প্রশ্ন করবো ?

অবশ্যই ।কর কর ।

-আচ্ছা আংকেল আপনি কি করেন ?

পকেট থেকে পরিচয় পত্রটা বের করে উত্তরে যা বললেন পুরোটাই স্তম্ভিত হয়ে যাই । বিশ্বাস ই হল না ।মনে হয় 20 সেকেন্ড হা করে দাড়িয়ে ছিলাম । তাঁনি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের কোন এক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ! ! ! !
আমি শুধুই তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিলাম !

-দুঃখিত স্যার । আসলে গাডিতে আপনার সাথে খারাপ ভাবে কথা বলছি । কিছু মনে করবেন না ।

না না ঠিক আছে ।আর আমাকে আংকেল বলেই ডেকো ।

- জি । আচ্ছা , আপনি ঐ বস্তিতে কেন যাচ্ছেন ? আপনার কেউ থাকে নাকি ?

হ্যা । ওখানে আমার অনেক রুগি আছে । আজ ওদের ওখানে আমার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে । আজ আশি ।

-জি হ্যাঁ । ভাল থাকবেন ।

যেতে যেতে পেছনে ফিরে মিষ্টি একটা মুচকি হাসি দিয়ে আমায় বিদায় জানালেন ।


এদের মত মানুষ পৃথিবীতে আছে বলেই আজ ও আমাদের মত মানুষেরা বেচে আছে ।
প্রকৃত ডাক্তার বলতে যা বুঝায় ওনি ছিলেন তার ই এক জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি ।

হাজার সালাম আর শ্রদ্ধা জানাই এই মানুষটিকে ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×