somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডায়েরিটা খুলে দেখে নিব ?

২৫ শে মে, ২০১৪ বিকাল ৫:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চট্টগ্রামের এ. কে. খান মোর থেকে বাসটা ছাড়লো ।বাসের একেবারে সামনের সিটটায় তখনো কোট টাই পরা ভদ্রবেশী অমানুষ টা বসে ছিলো । অথচ কালো সালোয় কামিজ পডা মেয়েটা তখন ও দাডিয়ে । একটা নীল রঙের ওড়না পডা । কাধে ঐকটা কলেজ ব্যাগ । একপাটি নুতন জুতা ছিলো ধবধবে পায়ে । কপালে বিন্দু বিন্দু গাম , চোখে তার ঝাপসা ঝাপসা আবছা আবছা অনিশ্চিত ভবিশ্যতের কালো ছায়া । ডান হাতটা দিয়ে সে বাসের রেলিং টা ধরেরাখার প্রানপন চেষ্টা করছে । শীতের শিশিরে মত এক ফোঁটা জল তার চোখের কোনায় টলটল করছে । মনে হয় ও কাদছে । আশেপাশে চেয়ে দেখলাম , কিন্তু কই ? আর কেউতো কাদছে না ,
তবে শুধুই মেয়েটা কাদছেন কেন ?

*******

বাসটা তখন জি ই সি এর মোরে থামলো , কোট পরা লোকটা তখন ও মহিলা সিটটায় বসা । ড্রাইভার টা তার সর্বশক্তিতে সিগারেট টেনে চলেছে । আর ওদিকে বাসের যাত্রিরা নামছে ।
যে ট্ট্রাফিক পুলিশটা প্রতিদিন এখানে দুহাতে দায়িত্ব পালন করতো , আজ তাকেও দেখছিনা । কি যে হয়েছে আজ ? এরিমধ্যে একটা চোট্ট পিচ্চি বাসে উঠলো । পত্রিকা বিক্রি করবে বলে । ওরকাছ থেকে একটা পত্রিকা কিনলাম । কিছুক্ষনের মধ্যে পুরো বাসটা প্রায় খালি হয়ে গেছে ।
কোট পরা লোকটা তখনো মহিলা সিটেই বসা । আর সেই মেয়েটা তখনো কাদছে । আমি একেবারে পেছনের সিট থেকে 5 সিট সামনে এগিয়ে আসলাম।
উদ্দেশ্য একটাই ।যেকরেই হোক মেয়েটার সাথে আমাকে কথা বলতেই হবে ।জানতে হবে ওর অভিমানের কারন । এর পরেই
ও একটা বসার সিট পেলো।
পেপার পডার বাহানায় বার বার তাকাচ্ছিলাম মায়াভরা চাঁদমুখো মেয়েটার দিকে । মনে হয় ও তখনো কাদছিলো ।কিন্তু কাউকে কিছু বুঝতে দিচ্ছিলো না ।
হারামজাদার কোট পরা বেহায়া লোকটা তখনো মহিলা সিটেই বসা । ওখানে যেন এক শক্ত ঘাটি গেডেছে।

আমার চোখ আবার তাহার উপর ।দেখছি, দেখছি। কি অপরুপ এক মায়া তার দুচোখে। ওখানে অশ্রু শোভা পায় না ।
চুলগুলো অন্ধকার রাত্রির মত কালো। হালকা বাতাসে এদিক ওদিক দুলছে।কপালটা কুচকানো । ব্যাগ থেকে সবুজ রুমালটা বের করে একবারটি চোখটা মুছে নিলো ।
কোট পরা লোকটা মনেহয় মহিলাসিটেই ঘুমাবে ।লোকটা মৃত্যু যেন ওখানেই হবে ।।।
এর কিছুকক্ষন পর ই ট্রাফিকে সবুজ বাতি জ্বলে উঠলো।
4 নম্বর বাসটা আবার তার যাত্রা শুরু করল ।
ওয়াসা যেতেনা যেতেই এক বৃদ্ধ উঠলেন বাসে ।বসলেন ওই মায়াবী মেয়েটার পাশেই।
ধুর ! কুটনি বুরিটা বসার আর জায়গা পেলোনা ?ওনার জন্য তো ওকে আর দেখাই যাচ্ছে না !
যাই ,একটু সরে বসি ।।

আমার গন্তব্য টাইগারপাস । কিন্তু আমি নামলাম না ।
ওটাই ছিশো আমার সবচাইতে বড ভুল ! এখনো এর জন্য পস্তাতে হয় । আমাদের বাসটা যখন নিউ মার্কেট পৌছলো ,ভাবলাম মেয়েটা তো অবশ্যই এবার নামবে । তাডাতাডি পেপার টা গুছিয়ে নিলাম ।
হ্যঁ , ঐ তো মেয়েটা নামছে ।
আমিও নামবো । তবে নামার আগে ওই কোট টাই পরা লোকটার দিকে শেষবারের মত তাকালাম । কিন্তু হালার পো তখন ও ওই মহিলা সিটটা আগলে বসে আছে । মনে মনে আরও কিছু অভিশাপ দিলাম তারে ।
এরই মাঝে দেখলাম মেয়েটা রেল ষ্টেশনের দিকে যাচ্চে ।
আমাকে আর থামায় কে ?
ওর পিচু পিছু হাটছি । মনে পড়লো পেপার টা বাসেই রয়ে গেছ । ধুর ৪ টা টাকাই জলে । একটা লাইন ও তো পডলাম না । এইসব নিজে নিজেই বিডবিড করছিলাম । মেয়েটা মাত্র ষ্টেশনে ঢুকল ।
ঘডিতে তখন ১১.২৬ । শুনলাম ১১.৩০ এ নাকি একটা ট্রেন আছে । ওটার আপেক্ষায় ই ও হয়তো ছোট্ট পিলারটার পশে বসলো । ছোট কলেজ ব্যাগটা তখনো তার হাতে ।
একটা লোক ফেরিকরে বাদাম বিক্রি করছিলো । ৫ টাকার বাদাম কিনে খেতে খেতে ওর দিকে এগিয়ে গেলাম । যেকরেই হোক কথা আমাকে বলতেই হবে । ও কাদছিলো কেন তা আমাকে জানতেই হবে ।
হঠাত্ আমাকে অবাক করে দিলো মেয়েটা ।
আমার নাম ধরে ডাকলো ।
-তুমি তানভীর না ?
জি হ্যা ।
-একটু এদিকে আসোতো ।
(ভয়ে ভয়ে এগিয়ে গেলাম ।)
-আমার ব্যাগটা একটু রাখতে পারবা ?
- আমি একটু হাত মুখ ধুয়ে আসছি ।
আমি তো অবাক !আবার সন্দেহ ও হল । জিঙ্গেস করলাম , কি আছে এতে ?
ও বললো । এর নিজের লেখা একটা ডায়েরি , একটা পেন্সিল আর একটা কলম আছে ওখানে ।
এটা বলে ও চলে গেলো ।
আমিও বেকুপের মত ব্যাগটা নিয়ে ওর বসা জায়গাটার শূন্যতা পূরন করছি ।
তখন কাটায় কাটায় ১১.৩০ । ট্রেনটা স্টেশনে এসে দাডালো । কিন্তু কই ? ও এখনো আসছেনা কেন ? এদিক সেদিক তাকালাম , খুজতে লাগশাম তাকে । কই আসছেনা তো !তার নাম ই জানিনা , স্টেশনে কেন এসেছে তাও তো জানা হয়নী । এখন কোথায় খুজি তারে । তার দেয়া ডায়রিটা তখন ও হাতেই ছিলো । খুলে নাম ঠিকানা কিছু আছে কিনা একবার দেখে নিব ? নাহ থাক । অপেক্ষা আর অপেক্ষা ই করলাম । এরমাজে ফোনে মুজিব , দিপু , ইমু আর আদিত্যকে ঘটনাটা খুলে বললাম । ওরা বলল আরেকটু অপেক্ষা করতে । ট্রেনটা ততক্ষনে চলে গেছে ।
আরো ২ ঘন্টা অপেক্ষার পর ডায়রিটা খুললাম । । । ।
কি সুন্দর তার হাতের লেখা . . . পডা শুরু করলাম । । ।

এই ওঠ ।ওঠ বলছি । আর কত ঘুমাবি ? কোচিং এ যাবি না ? এ্যাই তানভীর ওঠ । মা , দাডাও ডায়েরি থেকে ওর নামটা অন্তত দেখে নেই ।কি সব বকছিস ?
তাডাতাডি ওঠ বলছি । তোর আব্বুকে ডাক দিবো ?
মা . . . .
আর পাঁচটা মিনিট ঘুমাতে দাও প্লিজ ।
কি ! তবে রে হতোচ্ছারা । । আজ তোর একদিন কি আমার একদিন । এই বলে এক জগ পানি ঢেলে দিলো । হাঁ । আমার ঘুম ভাঙলো ।
বিছানায় ডায়েরিটা খুজলাম । নেই তো !
তবে এতক্ষন আমার সাথে এসব কি ঘটলো ? এতক্ষন কি তবে স্বপ্ন দেখছিলাম ! ! ! !
ধুর ! দিনটাই মাটি হল ।
কিন্তূ ওটাকে স্বপ্ন মনে করতে এখনো কষ্ট হচ্ছে ।
কি আজব . . . . .
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×