somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তুতনের দাদুভাই

২৯ শে মে, ২০১৪ রাত ১০:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“ তুতনের দাদুভাই ”

এই তুমি তুতনকে চেনো?

আরে সেই যে নেহারীপাড়ার গলির মুখে ‌একটা দুইতলা বাসা,সেই বাসাটার ব্যালকনিতে সারা বিকেল গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে থাকা পিচ্চি ছেলেটা,কে.জি টু-তে পড়ে।

যাক,চিনেছ তাহলে।

জানো, তুতনের না কোন খেলার সাথী নাই!তাদের বাসার মস্ত বড় সদর দরজাটায় ইয়া বড় একটা লোহার তালা ঝুলানো থাকে সারা দিনমান,সেই তালা খোলার চাবিটা তুতনের কাছে নাই। তার সমবয়েসী কেউ তাদের সাড়ে পাঁচ-ফুটি কাঁচ-গাথা পাঁচিলটা ডিঙিয়ে তার সাথে খেলতে আসার সাহসও করতে পারে না।তার খেলনা আর খেলার সাথী বলতে শুধু একটা জিনিসই আছে।তাদের বাড়ির পাকা উঠোনের এক কোণায় অনেকদিন ধরে পড়ে থাকা একটা পরিত্যাক্ত মোটর গাড়ি।বিকেলের ব্যালকনিতে অনেকটা সময় বাদুড়-ঝুলন ঝুলার পর ,তার হঠাৎ করে সেই গাড়িটা কথা মনে পড়ে।তখন এক দৌড়ে গুণে গুণে আঠারোটা সিঁড়ি মাড়িয়ে সে উঠোনে নেমে আসে,বসে পড়ে সেই গাড়িটার ড্রাইভিং সিটে।মুখে,ঠোঁটে,জিহ্­বায় অদ্ভূত শব্দ করে করে সে গাড়িটা স্টার্ট দেয়।হয়ে যায় দুনিয়াদারির রাজা!এই পরিত্যাক্ত মোটরগাড়িটাকে মাঝে মাঝে তার পঙ্খিরাজ ঘোড়া মনে হয়।হোক না গাড়িটার চুপসে যাওয়া টায়ার-টিউব,ছানি পড়ে যাওয়া দুইটা হেডলাইট,চটে যাওয়া শরীরের রং।তার মাঝে মাঝে এই ভেবে অবাক লাগে যে গাড়িটা স্টার্ট দিতে তার কোন চাবি লাগে না,চোখ আর মনের ইশারা পেলেই কখনো মাটিতে,কখনো বাতাসে উড়ে চলে তার পঙ্খিরাজ গাড়িটা।চাবি সে অনেক খুঁজেছে,পায় নি,তার ব্য‍স্ত বাবা সেই চাবিটা হারিয়ে ফেলেছে অনেক আগেই,কোন এক বাঁকা পথের মোড়ে।কারও কোন আফসোসও নেই সেই চাবিটা খুঁজে না পাওয়ায়,শুধু মাত্র তুতন ছাড়া।তার বাবা সেই গাড়িটাকে কবে শহরতলীর একটা গ্যারেজে বেচে দিতে চেয়েছিলেন।বাবার বন্ধুরা বাসায় বেড়াতে এলেই তার বাবাকে বলতো,উনি কেন এই আবর্জনাটাকে এখনো আঁকড়ে ধরে আছেন,উঠোনের কি অবস্থা এই বাজেমালটার কারণে!কিন্তু তার বাবা অনেক চেষ্টা-চরিত্র করেও গাড়িটাকে বেচে দিতে পারে নি,একমাত্র তুতনের কারণেই।গাড়িটাকে গ্যারেজে রেখে আসার কথাটা উঠলেই তুতনের দুই চোখ জলে ভরে যায়,মা-বাবার সাথে কথা বলা বন্ধ হয়ে যায় তার,একমাত্র খেলার সাথীটাকে হারানোর ভয়ে তার নাওয়া-খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।একমাত্র ছেলের এই অবস্থা দেখে তুতনের মা-বাবাও আর উল্টো কিছু করার সাহস পায় না।সেই সাথে গাড়িটাও থেকে যায় তুতনদের পাকা উঠোনের এককোণে,তুতনের ভালবাসায়,বাকি সবার অবহেলায়।

তুতনের দাদুভাইয়ের আজ জন্মদিন।ঘরের সবাই জানে,কিন্তু কেউ যাপন করছে না সেই উৎসবটা,একমাত্র তুতন ছাড়া।কিচেনের কোন এক মাকড়সার জাল মোড়ানো কোণ হতে সে যোগাড় করেছে একটা আধজ্বলা মোমবাতি।তার স্কুল ব্যাগের চোরা পকেটে আছে একটা মিল্কি লজেন্স।আজকে সন্ধ্যায় মোমবাতি জ্বলবে, মোমবাতি নিভবে।মিল্কি লজেন্স ভাগাভাগি হবে পরম্পরার হাত ধরে।তুতনের বুড়ো দাদুভাইটাও হয়তো তার অনেক খোঁজা একটা প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন আজকে - এই নিরাসক্ত,বিচূর্ণ আশিতে পৌঁছেও উনি কেন নিজের শেষ গন্তব্যটা খুঁজে পাচ্ছেন না ? থাক গন্তব্যটা দূরেই থাক,ঐ নিঃসঙ্গ পিচ্চি ছেলেটার একমাত্র খেলার সাথী হয়ে বেঁচে থাকাটাও নেহায়েৎ অজটিল না।তবুও খুনসুটির ফাঁকতালে কখনো–সখনো বেজে ওঠে বাউরি ব্যথার সরোদ –ঐ পরিত্যাক্ত হয়ে যাওয়া মোটরগাড়িটার সাথে তুতনের বুড়ো দাদুভাইয়ের কি অসম্ভব মিল!
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×