“তেলচোরার গান”
“অনেকে বলে আমারে গাও না একটা তেলচোরার গান
তেলচোরা যে বিষম চোরা সে যে অনেক ক্ষমতাবান।।
দেখরে ভাই বিচার করে তেলচোরা রয়েছে ঘরে
সুকৌশলে চুরি করে চোরে জানে চুরির সন্ধান।।
ভূতত্ত্ববিজ্ঞানী যারা,চিন্তা ভাবনা করেন তারা।
মনে প্রাণে চেষ্টা করা ,এই যে তাদের কর্মবিধান।।
বহু খোঁজাখুঁজির পরে,তেল মিলেছে হরিপুরে।
আনন্দ সবার অন্তরে,যারা বাংলা মায়ের সন্তান।।
হরিপুরে হরিলুঠ কেন,দেশবাসী কি খবর জান?
তেলচোরা তেল নিল শোন এদেশকে করতে চায় শ্মশান।।
এই ভাবে তেল দেয়া যায় না দেশবাসী তা মানতে চায় না।
করেন সবাই বিবেচনা এই তেল মায়ের দুধের সমান।।
দেশের সম্পদ দেশবাসীর হয় ব্যক্তিগত মালিক কেউ নয়।
রয়েছে তেলচোরারই ভয় দেশবাসী হও সাবধান।।
দেশের সম্পদ রক্ষা কর মনের দুর্বলতা ছাড়।
দেশের কর্ম নিজে কর চোরে চায় না দেশের কল্যাণ।।
বাউল আবদুল করিমে গায় পড়েছি বিষম ধাঁধায়।
সাধুজনায় অসুবিধায়,বেড়ে গেছে তেলচোরার মান।।”
এ গানটি শুনে মনেই হয় না যে এটি রচিত হয়েছিল ১৯৫৪ সালে।আজ যে দেশের তেল-গ্যাস তথা খনিজসম্পদ রক্ষার জন্য সচেতন মানুষেরা একতাবদ্ধ হচ্ছে,আবদুল করিম যেন তাদের মনের কথা সেই ১৯৫৪ সালেই প্রকাশ করে গিযেছেন।এ গানে সাম্রাজ্যবাদের চরিত্র,ক্ষমতা ও এ দেশ শ্মশান করায় তাদের ষড়যণ্ত্রের সাথে তার দেশপ্রেমও চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।সাম্রাজ্যবাদ ও শোষণ বিরোধী যেসব সঙ্গীত তিনি রচনা করেছেন,ভা ও ভাষা ছাড়াও তার বাণীর আবেদন সময়ের সীমানা পেরিয়ে ক্ল্যাসিকে উন্নীত হয়েছে।“তেলচোরা” গানটি তার এমনই একটি সৃষ্টি।।
সূত্র: -
**** আবদুল করিমের সমাজসচেতনতা-শেখ ফজলে এলাহী>>>>>>>>বাউল সম্রাট-অপূর্ব শর্মা সম্পাদিত।।
**** ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



