
বাইরে ফাটাফাটি বৃষ্টি হচ্ছে ।একেই বলে নাকি ঝুম বৃষ্টি।এর আরো একটা নাম আছে ,যাকে বলে কুকুর বেড়াল বৃষ্টি ।বছরের প্রথম বৃষ্টি । এই সময়ের বৃষ্টির সাথে শিল পড়ে ।নীলা মহা আনন্দে খোলা ছাদের বৃষ্টিতে ভিজতে লাগলো ।তার খুব ভালো লাগছে। বৃষ্টির প্রতিটি ফোটা অদ্ভুত এক শিহরন জাগাচ্ছে তার মনে।শিল খুব ঠাণ্ডা।নীলা দাঁত দিয়ে কুড়মুড় করে শিল চাবাতে লাগলো । এর ফাকে দুহাত পেতে আজলা ভরে সে বৃষ্টি ধরছে , কখনো বৃষ্টির পানি সে মুখে ছিটাচ্ছে আবার ছেড়ে দিচ্ছে।মহা আনন্দ । আর দিন কয়েক পর তার শুভবিবাহ ।বিয়ে মানে একধরণের দ্বায়বদ্ধতা । এরকম করে ভেজার স্বাধীনতা হয়তো সে আর পাবে না কোনদিন ।বাড়িতে কেউ নেই তাই মানা করারও কেউ নেই।নীলা মৃদু স্বরে গেয়ে উঠলো ।
'আজি ঝরঝর বাদল ও দিনে
জানি নে জানি নে ।। '
ছোটবেলায় সুরবিতানে নিয়মিত নাচ শিখতে যেতো সে।এখন আর অতোটা মনে নেই ।তবু সে মনের আনন্দে ভুলভাল ষ্টেপে নাচতে লাগলো মনের আনন্দে । বৃষ্টি মনে হচ্ছে আরো জোরে হবে।আকাশের মেঘগুলো আরো ঘনকালো হয়ে উঠেছে ।হঠাৎ করে কারো স্পর্শে নীলা ভীষণভাবে চমকে উঠলো।
-কে?
-আমি গো আমি ।
-ওহ দুলাভাই চলে এসেছেন ?কেনাকাটা সব শেষ ।আপা কোথায় আপা ? মা আসেনি ।
- না গো না শালিকা, কেউ আসেনি শুধু আমি ।কেনাকাটা শেষ হবে কি করে সবাই তো নিউমার্কেটে বৃষ্টিতে আটকা পড়েছে। ঢাকা শহরের চারদিকে থইথই পানি । তোমার আপা তোমার চটির মাপ ভুল করে রেখে চলে গেছে । সেটাই নিতে এলাম ।
- ও..
নীলার খুব অস্বস্তি হচ্ছে ।দুলাভাই এভাবে ধরে আছে কেন ? মনে হচ্ছে ক্রমশ চাপ বাড়াচ্ছে ।
-আহ দলাভাই ছাড়ুন । লাগছে.........।
-ছাড়ার জন্য কি ধরেছি নাকি।
-আমার এসব ফাজলামি একদম পছন্দ নয় ।
-আমি আবার কি করলাম। তুমি আমার শালিকা তোমার কাছে আমার তো একটা দাবি আছে । কি বলো ।
-দুলাভাই ছাড়েন ভালো হচ্ছে না ।
- কেন ভালো লাগছে না । আমি কিন্তু মামুনের চেয়ে অনেক বেশী এক্সপার্ট । দশ বছরের অভিজ্ঞতা বলে কথা। হা হা হা ।
-ছিঃ ।
-ও তুমি যতোই ছিঃ বলো না কেন তোমাকে আমি আজ ছাড়ছিনা।
- দুলাভাই প্লিজ । আপার কথাটা একটু ভাবুন। আমি আপনাকে ভাই এর মতো দেখি ।
- ভাই হি হি তবে দুলাভাই ।আচ্ছা আমার আদর তোমার ভালো লাগছেনা ।
-এতে ভালোলাগালাগির কি আছে ।এসব নোংরামি আমার পছন্দ নয়। ছাড়েন।
-উহু আমি তো ছাড়তে আসিনি ।তোমার খুব তেজ ।আমার অনেক দিনের আশা। আজ তোমার সব তেজ ভাঙবো । দুদিন পর মামুনের সাথে এসব ডালভাত হয়ে যাবে । এখন না হয় আমি বউনি করি ।
-ছি দুলাভাই ছিঃ আপনি এমন মনমানসিকতা নিয়ে চলেন আমার জানা ছিল না ।
-তোমার জানাজানিতে কিছু যায় আসবে না । তোমার বোনকে বলবে ?বলনা বলগে যাও। সোজা তালাক দিয়ে পাঠিয়ে দেব । সঙ্গে দুইটা ফ্রি ।
মেয়েরা প্রকৃতিগতভাবে দূর্বল । তার উপরে এই ফাকা বাড়ি। শয়তানটা তার অতি প্রিয় বোনের স্বামী , যাকে সে মনপ্রান দিয়ে ভালোবাসে। কি করবে নিলা । চিৎকার দিয়ে গলা ফাটালেও কেউ এগিয়ে আসবেনা । পালানোর পথও বন্ধ । দুলাভাই খুব ধুরন্ধর লোক .......... ।
কিছুক্ষণ সে ঘোরের মধ্যেই ছিল ।পুরুষ মানুষের স্পর্শ যে এত কুৎসিত হতে পারে তা তার জানা ছিল না।লোকটিকে মনে হচ্ছে নোংরা কোন নরকের কীট । নীলা থুহ করে থুথু ফেলল । তার গায়ের ভিতরটা বিশ্রি ঘিনঘিন করছে।
- কি শ্যালিকা থুতু ফেল কেন ?
- কুত্তা........
-কিচ্ছু করার ক্ষমতা নাই তোর। বিয়া আর করতে হবেনা । সব ভিডিও হয়েছে ।
সমস্ত শরীরটা হঠাৎ করে ভেঙে পড়লো যেন। নীলা উঠে বাথরুমে ঢুকলো তার প্রচুর বমি পাচ্ছে । শাওয়ার ছেড়ে সে গলা ছেড়ে কেদে উঠলো। এ যে কি কষ্ট কে বুঝবে ।বারবার তার মনে হচ্ছে সে নিজে এত বছর ধরে যা জমিয়ে রেখেছিল একজন কে দেয়ার জন্য তা যেন কেউ নিমেশে লুটে নিলো। সে কীভাবে মুখ দেখাবে মামুনকে ।
ভুলভ্রান্তি থাকলে পরে ঠিক করছি । প্লিজ কিছু মনে করবেন না
ছবি গুগোল থেকে
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


