
ঢাকার মোহাম্মদপুরে (বাসস্ট্যান্ড) কাটাসুর থেকে শিয়া মসজিদের দিকে একটা রাস্তা চলে গেছে বাঁশবাড়ী হয়ে। এই রাস্তাতে যাওয়ার পথে পড়ে সাত গম্বুজ মসজিদ। আমরা বন্ধুরা মিলে প্রত্যেক শুক্রবার গোসল সেরে পরিষ্কার অথবা নতুন পোষাক পরে আতর মেখে সাত গম্বুজ মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে যেতাম।
আমরা থাকতাম শের শাহ শুরী রোডে।যদিও আমাদের বাড়ির আশেপাশে মসজিদের অভাব ছিলো না কোন।তবু ও অপেক্ষাকৃত দুরের এই মসজিদে যাওয়ার মজাই ছিলো আলাদা। অন্যান্য নামাজ খুব একটা পড়া হতো না ।কিন্তু জুম্মার নামাজ মিস হতো না। বলাবাহুল্য পথে যেতে যেতে বাদরামি,ত্যদরামি সবই হতো ঝাক্কাস ষ্টাইলে।
সে সব অন্য গল্প যা আরেক দিন হবে।
যাহোক সব নামাজ শেষে মোনাজাত ও দোয়ার একটা ব্যপার থাকে।
সেই সময় নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া চাইতাম, সেই চাওয়াগুলো বেশ মজার। সেই সব কিছু মজার চাওয়া পাওয়ার কথা আজ আমি শোনাবো আপনাদের ।
যথানিয়মে নামাজ শেষ হতো।তারপর মোনাজাত এবং দোয়া।নামাজের সময় খুব সিরিয়াস না হলেও দোয়ার সময় ও খুব সিরিয়াস।
এই সময় আল্লাহর কাছে প্রথমে চাইতাম হে আল্লাহ তুমি আমারে বেহেস্তে নিও।কারণ ছোটবেলা থেকেই এত পরিমান বেহেস্তের কথা শুনেছি যে সেখানে না যেতে পারাটাই যেন মানুষের জীবনের ব্যর্থতা ।আর সব ভালো মন্দ কাজের মধ্যে বেহেস্তের হিসাব টা মাথায় থাকতো সব সময়।
যা হোক আল্লাহর কাছে চাওয়ার মাঝে কিছু চাওয়া ছিলো যেমনঃ-
১। বেহেস্তে যেন আমার একটা লাইব্রেরি থাকে যেখানে আমার সব প্রিয় প্রিয় বই থাকে। সব বই! পৃথিবীতে যত রকম বই আছে সব, আর আমি মারা যাবার পর যেসব বইগুলো বের হবে সেই সবও থাকে। আমি বেহেস্তে বসে বই পড়ে সময় কাটাতে চাই।
২্। সব ভালো ভালো গান যেন আমি শুনতে পাই, বেহেস্তে যেন সব ধরনের গান আমার সংগ্রহে থাকে।আমি মরে যাবার পর যেসব ভালো গান তৈরি হবে সেগুলোও আমি বেহেস্তে বসে আমি শুনতে চাই।
৩।সব রকম মজার মজার খাওয়া দাওয়া যেন না চাইতেই পেয়ে যাই।খাবারে অবশ্য আমার অরুচি নাই।সব খাবারই আমার চলে।
৪।বেহেস্থে আমার প্রিয় নাটক ও সিনেমাগুলো যেন সব আমার সংগ্রহে থাকে এবং সেগুলো যখন খুশী যেন দেখতে পাই।
একটা বয়স পর্যন্ত এগুলোই মোটামুটি চাওয়ার ছিলো নিয়মিতভাবে তারপর যখন কৈশর পেরুলাম তখন এই চাওয়ার সাথে আরো যোগ হলো সুন্দরী কোন মেয়ে ....।পছন্দ হয়েছে এমন মেয়ে। কথা বলল না বা পাত্তা পেলাম না এরকম মেয়ের জন্য দোয়া,যাতে সে আমার হয় । দোয়ার পরেও যেকোন কারণে হোক হাত ফসকে অন্যের হয়ে গেছে সেই মেয়ের জন্য তখন মনে খুব কষ্ট হতো । কেঁদে কেটে বুক ভাসিয়ে , বালিশ ভিজিয়ে একাকার অবস্থা। তখন পৃথিবীর অন্য সব মেয়েদের ডাইনী, রাক্ষসী আর ছলনাময়ী মনে হতো্।
তারপর একদিন কলেজের কোন মেয়ে একটু আমার দিকে তাকিয়েছে তো অমনি মন গলে পানি । আবার নতুন চিন্তা ভাবনা নতুন স্বপ্ন । নতুন করে বুকের মধ্যে ডিপডিপানি। সেই সাথে আল্লাহর কাছে দোয়া। আমি বুঝতে পারতাম সবাই আমায় নিয়ে খুব জোর হাসি মজা করতো । অবশ্য এটা নতুন না আমি বরাবরই একটু পাগলাটে টাইপের । যাহোক এই সব মেয়েরা আমার সপ্নে বরাবরই থাকতো ফুলপরি হয়ে ।
মায়ালু ভাব নিয়ে তাদের নিয়ে ভাবতে আমার খুব ভালো লাগতো। এখনো যে মেয়েদের নিয়ে ভাবতে ভালো লাগে না তা না । ভালো লাগে বরং একটু বেশিই লাগে।
যাহোক যা বলছিলাম সেই সময় আল্লাহর কাছে এই সব প্রেমিকাদের নিয়ে বলতাম আল্লাহ তুমি অমুক অমুক অমুকরে আমার সাথে বেহেস্তে দিও ....। মজার না?
আমার কিন্তু এই চাওয়াগুরোএখনো আছে......মেয়েরা মাইন্ড খাইয়েন না। আল্লার কাছে মনের ইচ্ছাগুলি কি কি তা বললাম আর কি।
শেষ কথা
সুধী পাঠক, আপনাদের ভালো লাগলে আরো লিখবো , আর না লাগলে এখানেই সমাপ্তি।
শুভসন্ধ্যা ।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


