somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ছেলেবেলায় আল্লাহর কাছে চাওয়া ও প্রেমিকাদের জন্য দোয়া প্রার্থনার গল্প

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ঢাকার মোহাম্মদপুরে (বাসস্ট্যান্ড) কাটাসুর থেকে শিয়া মসজিদের দিকে একটা রাস্তা চলে গেছে বাঁশবাড়ী হয়ে। এই রাস্তাতে যাওয়ার পথে পড়ে সাত গম্বুজ মসজিদ। আমরা বন্ধুরা মিলে প্রত্যেক শুক্রবার গোসল সেরে পরিষ্কার অথবা নতুন পোষাক পরে আতর মেখে সাত গম্বুজ মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে যেতাম।

আমরা থাকতাম শের শাহ শুরী রোডে।যদিও আমাদের বাড়ির আশেপাশে মসজিদের অভাব ছিলো না কোন।তবু ও অপেক্ষাকৃত দুরের এই মসজিদে যাওয়ার মজাই ছিলো আলাদা। অন্যান্য নামাজ খুব একটা পড়া হতো না ।কিন্তু জুম্মার নামাজ মিস হতো না। বলাবাহুল্য পথে যেতে যেতে বাদরামি,ত্যদরামি সবই হতো ঝাক্কাস ষ্টাইলে।
সে সব অন্য গল্প যা আরেক দিন হবে।
যাহোক সব নামাজ শেষে মোনাজাত ও দোয়ার একটা ব্যপার থাকে।
সেই সময় নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া চাইতাম, সেই চাওয়াগুলো বেশ মজার। সেই সব কিছু মজার চাওয়া পাওয়ার কথা আজ আমি শোনাবো আপনাদের ।

যথানিয়মে নামাজ শেষ হতো।তারপর মোনাজাত এবং দোয়া।নামাজের সময় খুব সিরিয়াস না হলেও দোয়ার সময় ও খুব সিরিয়াস।
এই সময় আল্লাহর কাছে প্রথমে চাইতাম হে আল্লাহ তুমি আমারে বেহেস্তে নিও।কারণ ছোটবেলা থেকেই এত পরিমান বেহেস্তের কথা শুনেছি যে সেখানে না যেতে পারাটাই যেন মানুষের জীবনের ব্যর্থতা ।আর সব ভালো মন্দ কাজের মধ্যে বেহেস্তের হিসাব টা মাথায় থাকতো সব সময়।
যা হোক আল্লাহর কাছে চাওয়ার মাঝে কিছু চাওয়া ছিলো যেমনঃ-
১। বেহেস্তে যেন আমার একটা লাইব্রেরি থাকে যেখানে আমার সব প্রিয় প্রিয় বই থাকে। সব বই! পৃথিবীতে যত রকম বই আছে সব, আর আমি মারা যাবার পর যেসব বইগুলো বের হবে সেই সবও থাকে। আমি বেহেস্তে বসে বই পড়ে সময় কাটাতে চাই।
২্। সব ভালো ভালো গান যেন আমি শুনতে পাই, বেহেস্তে যেন সব ধরনের গান আমার সংগ্রহে থাকে।আমি মরে যাবার পর যেসব ভালো গান তৈরি হবে সেগুলোও আমি বেহেস্তে বসে আমি শুনতে চাই।
৩।সব রকম মজার মজার খাওয়া দাওয়া যেন না চাইতেই পেয়ে যাই।খাবারে অবশ্য আমার অরুচি নাই।সব খাবারই আমার চলে।
৪।বেহেস্থে আমার প্রিয় নাটক ও সিনেমাগুলো যেন সব আমার সংগ্রহে থাকে এবং সেগুলো যখন খুশী যেন দেখতে পাই।

একটা বয়স পর্যন্ত এগুলোই মোটামুটি চাওয়ার ছিলো নিয়মিতভাবে তারপর যখন কৈশর পেরুলাম তখন এই চাওয়ার সাথে আরো যোগ হলো সুন্দরী কোন মেয়ে ....।পছন্দ হয়েছে এমন মেয়ে। কথা বলল না বা পাত্তা পেলাম না এরকম মেয়ের জন্য দোয়া,যাতে সে আমার হয় । দোয়ার পরেও যেকোন কারণে হোক হাত ফসকে অন্যের হয়ে গেছে সেই মেয়ের জন্য তখন মনে খুব কষ্ট হতো । কেঁদে কেটে বুক ভাসিয়ে , বালিশ ভিজিয়ে একাকার অবস্থা। তখন পৃথিবীর অন্য সব মেয়েদের ডাইনী, রাক্ষসী আর ছলনাময়ী মনে হতো্।
তারপর একদিন কলেজের কোন মেয়ে একটু আমার দিকে তাকিয়েছে তো অমনি মন গলে পানি । আবার নতুন চিন্তা ভাবনা নতুন স্বপ্ন । নতুন করে বুকের মধ্যে ডিপডিপানি। সেই সাথে আল্লাহর কাছে দোয়া। আমি বুঝতে পারতাম সবাই আমায় নিয়ে খুব জোর হাসি মজা করতো । অবশ্য এটা নতুন না আমি বরাবরই একটু পাগলাটে টাইপের । যাহোক এই সব মেয়েরা আমার সপ্নে বরাবরই থাকতো ফুলপরি হয়ে ।
মায়ালু ভাব নিয়ে তাদের নিয়ে ভাবতে আমার খুব ভালো লাগতো। এখনো যে মেয়েদের নিয়ে ভাবতে ভালো লাগে না তা না । ভালো লাগে বরং একটু বেশিই লাগে।
যাহোক যা বলছিলাম সেই সময় আল্লাহর কাছে এই সব প্রেমিকাদের নিয়ে বলতাম আল্লাহ তুমি অমুক অমুক অমুকরে আমার সাথে বেহেস্তে দিও ....। মজার না?
আমার কিন্তু এই চাওয়াগুরোএখনো আছে......মেয়েরা মাইন্ড খাইয়েন না। আল্লার কাছে মনের ইচ্ছাগুলি কি কি তা বললাম আর কি।
শেষ কথা
সুধী পাঠক, আপনাদের ভালো লাগলে আরো লিখবো , আর না লাগলে এখানেই সমাপ্তি।
শুভসন্ধ্যা ।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:২৮
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×