somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ইসিয়াক
কেন মিছে ভাবো আমায় নিয়ে? আমি আছি আমার মতো।

রহস্য গল্পঃ অনামিকা

০৯ ই এপ্রিল, ২০২০ ভোর ৬:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


[১]
বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলাম। বেড়াতে এসেছিলাম বললে ভুল বলা হবে ,বাবা মাকে দেখতে এসেছিলাম। অনেক দিন নানা ব্যস্ততায় নিজের বাড়ির দিকে আর আসা হয়নি। কিন্তু এবার মনটা এত বেশি প্রিয় মুখগুলোর জন্য ছুটলো যে আর কোন ব্যস্ততার বাধা, বাধাই রইলো না।চলে এলাম সব ছেড়ে ছুড়ে বাবা মাকে দেখতে।
দেখতে দেখতে বেশ ক’দিন হয়ে গেলো,ফেরার তারিখ আরো দুদিন আগে ছিলো বাবা বললেন আরো দুদিন থেকে যেতে। তাই বয়স্ক মানুষটার অনুরোধ আর ফেলতে পারলাম না ।থেকে গেলাম আরো দুটো দিন।
যশোহর শহরটা আমার খুবই চেনা এবং একান্ত আপন। তবু ইদানিং এই শহরটা আমাকে আগের মতো খুব একটা টানে না।এর কারণ সম্ভবত সঙ্গ। আসলে এই শহরে এসে সবসময় কেমন যেন ঘর বন্দি হয়ে আছি।বন্ধু বান্ধব যা ছিলো সবাই কম বেশি জীবন জীবিকার সাথে সময়ের প্রয়োজনে আষ্টে পৃষ্টে জড়িয়ে গেছে।
আবার কেউ কেউ ঘোরতর সংসারী হয়েছে , বিদেশেও অবস্থান করছে অনেকে।এককথায় সোনালী অতিত হারিয়ে সবাই যার যার নিজের কাজে ব্যস্ত। এর মধ্যে ও কারো কারো সাথে দেখা হলে কথা বলে কিন্তু আন্তরিকতার অভাব যেন কোথাও একটা থেকেই যায়। দুএকটা কথা বলে ই দে ছুট দে ছুট ভাব। আবার কেউ কেউ দেখা হলে এড়িয়ে যায়।কষ্ট লাগে খুব কষ্ট লাগে তবু বুঝতে দেই না হাজার হলেও ছোট বেলার বন্ধু।তারপর কি আর করা শহর ঘুরে ঘুরে দেখা, ছোট্ট শহর কয়েক পাক ঘুরতেই সব দেখা শেষ। তারপর আর সময় কাটে না।মা বলেন খোকা তুই এতো ঘরকুনো কবে থেকে হলি। আমি হাসি উত্তর দেই না।

ঢাকায় নতুন চাকরিটা বেশ ভালো লাগছে, বিশেষ করে বস জহির সাহেবের ব্যবহারটা অমায়িক।অনেকেই বলে চাকরির প্রথম জীবনে ভালো বস পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার ।সেক্ষেত্রে বলতেই হবে আমার বস ভাগ্য খুব ভালো।

এবার বাড়িতে বেড়াতে এসে দেখলাম বাবা ও মায়ে দুজনের ই বয়সটা যেনো আরো বেশি বেড়ে গেছে।আমাকে তারা খুব বেশি মিস করে সেটাও বুঝতে পারলাম, ঠিক করলাম এবার ফিরেই বাবা মাকে ঢাকায় নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করতে হবে।নিজের কাছে রাখতে হবে।তাতে তাদের দেখাশোনাটা নিজের মতো করে করতে পারবো অন্তত।
তাছাড়া এমনিতেও নতুন বাসা নিতে হবে ,মা বাবা দুজনেই বিয়ের জন্য তাড়া দিচ্ছে , বয়স হয়ে যাচ্ছে সেটা আমিও বুঝতে পারছি। কিন্তু কি আর করা, এতোদিন পড়াশোনার চাপে ঠিত মতো এদিকটায় নজর দেয় হয়নি। মাঝে মাঝে যে প্রেম বিয়ে এসবে ইচ্ছা হতো না তা কিন্তু নয়।তবু নিজে পায়ে না দাড়িয়ে আরেকজনের দায়িত্ব নেয়া সত্যি সত্যি বোকামি সেটাও মাথায় রাখতাম।
[২]
আজ ঢাকা ফিরে যাচ্ছি ,বাসা থেকে উঠতে
একটু দেরিই করে ফেললাম ।কাউন্টারে পৌছে তাড়াহুড়ো করে বাসে উঠলাম। ভেবেছিলাম বাস হয়তো ছেড়ে দিয়েছে।এদিকে কাউন্টার থেকে বারবার ফোনে তাগাদা দিচ্ছিলো।কি করবো, যে রিকশায় ছিলাম সেই রিকশাটার বারবার চেইন পড়ে যাচ্ছিলো।শেষে যখন কাউন্টারে পৌছলাম তখন একরকম হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। যাক বাবা গাড়ি ছাড়েনি।কিন্তু বাসে উঠেই ভ্রু কুচকে গেলো একি বাস তো ভর্তি,আমার ছিট কই? এদিক ওদিক তাকিয়ে বিব্রত বোধ করছি। এভাবে তো এতোটা পথ যাওয়া সম্ভব না । ঠিক তখনই দেখি সুপারভাইজার উঠলেন গাড়িতে আমি বললাম,
ভাইয়া আমার সিটটা তো বুকড মনে হচ্ছে।
-টিকিট দেন।টিকিট চেক করে সুপারভাইজার নির্দিষ্ট আসনে গিয়ে বললেন,
এই সুমন উঠতে হবে, ইঞ্জিন কভারে যা।লোকটি এক কথায় উঠে গেলো।
যাক শেষমেষ ভালোই হলো আমি একটু গুছিয়ে নিয়ে বসতেই দেখি আমার পাশের যাত্রীটি একজন তরুনী। আড় চোখে দেখে নিলাম মেয়েটিকে এক ঝলক, দেখতে শুনতে মন্দ না।ভাব জমালে সময়টা মন্দ কাটবে না কিন্তু ভাব সাব দেখে তো মনে হচ্ছে কাটখোট্টা অবশ্য আমিও মেয়েদের ব্যপারে একেবারে অনভিজ্ঞ বলা যায় আর মানুষের চেহারা দেখে তার ভেতরটা ধরা যায় না অবশ্যই। আগে এড়িয়ে গেলেও ইদানিং ভেতর থেকে মেয়েদের প্রতি অনেক গভীর টান অনুভব করি।তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করি। নাহ বিয়েটা তাড়াতাড়ি সেরে ফেলতে হবে।আমার মনে হয় প্রেমিকা ট্রেমিকা আমার কপালে নেই ।
এসব আবোল তাবোল ভাবছি হঠাৎ শুনি কে যেনো মিষ্টি কন্ঠে বলছে,
-ভাইয়া এখন কয়টা বাজে? ।
একটু চমকে উঠলেও,নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম,
-আমায় বলছেন?
-আর কাউকে তো দেখছি না শুধু আপনাকে ছাড়া!
-ওহ সরি,ঠিক আছে ঠিক আছে কি যেনো বলছিলেন?
-এখন কয়টা বাজে? আমার ফোনের চার্জ হঠাৎ শেষ হয়ে গেছে।কি বিপদ বলুন তো।
-ও ঠিক আছে বলছি.....দশটা বেজে আঠারো।
-থ্যাংকস।
-না না ইটস ওকে।বাই দা বাই আপনার নামটা কি জানতে পারি? কিছু মনে করবেন না প্লিজ, নাম জানলে কথা বলতে সুবিধা হয় তাই আরকি জিজ্ঞসা করছি।
-অনামিকা।
-বাহ সুন্দর নাম।আমি রাজীব ।
-ভালো রাগলো আপনার সাথে পরিচিত হয়ে মিঃরাজীব।
-শুধু রাজীব বলতে পারেন মিঃ বললে পর পর মনে হয়।
-আপনার কি ধারনা আমরা দুজন দুজনের খুব চেনা?
-না না ঠিক তা বলছিনা। আচ্ছা ঠিক আছে আপনার মতো করে আপনি ডাকুন।
-বাহ বেশ মজার লোকতো আপনি?তাই বলে আমায় কিন্তু আবার মিস অনামিকা বলে ডাকাডাকি করবেন না। আমার মিস শুনতে একটুও অভস্ত্য নই।
কথায় কথায় আমাদের সময় অনেক সুন্দর কেটে গেলো,এক সময় আমি অনামিকার ফোন নাম্বারটা চাইলে অনামিকা জানালো ফোন নম্বর তার মুখস্থ নেই ,ফোন তো চার্জ শেষ তাই সে আমার ফোন নাম্বারটা নিলো পরে যোগাযোগ করবে বলে। দুজনেই স্মৃতি হিসাবে ফেরি ঘাটে কিছু ছবি তুললাম।আসলে অনামিকাকে যত দেখছিলাম ততই আমার মুগ্ধতা বেড়ে যাচ্ছিলো ।আমার ঠিক করলাম ঢাকায় গেলে আমরা অবশ্যই তার সাথে দেখা করবো। অনামিকা থাকে মিরপুরে আর আমি থাকি মোহাম্মদপুরে এর বেশি জানাশোনা থেকে বিরত রইলাম ইচ্ছা করেই।মেয়েটি যদি মাইন্ড করে ,পরে না হয় সময় করে সবটুকু চেনা জানা করা যাবে। কথায় আছে সবুরে মেওয়া ফলে।
ঠিক হলো বাস থেকে গাবতলীতে নেমে যে যার মতো বাড়ি চলে যাবো। অনামিকার কাছে তো আমার ফোন নাম্বার আছেই সে কাল দশটায় ফোন দেবে ,তারপর আমরা দেখা করবো সুবিধা মতো জায়গাতে।
বাসায় ফিরে গোসল করতেই মনটা আরো ফুরফুরে হয়ে গেলো।বারবার মনে হতে লাগলো অনামিকার আন্তরিকতা মাখা কথাবার্তাগুলো। আহ চমৎকার মেয়েটি।
এতটাই আবেগ প্রবন হয়ে পড়লাম যে রাতে ওকে নিয়ে জমজমাট এক স্বপ্ন দেখে ফেললাম। কি বলবো স্বপ্নে যা হলো ভাবতেই আমার নিজেই লজ্জা লাগলো। যা হোক সকাল সকাল গোসল সেরে নাশতা খেয়ে আমি রেডি।যে কোন মুহুর্তে অনামিকার ফোন আসতে পারে ।দশটা প্রায় বাজতে চলেছে। অপেক্ষার প্রহরগুলো দীর্ঘ লাগছিলো বলে আমি ফোন গ্যালারিতে কালকের ছবিগুলো চেক করতে লাগলাম। সময় কাটানোর জন্য।
কিন্তু একি কোন ছবিতে অনামিকা নেই কেন? আমি নিজেই থমকে গেলাম এটা কি করে সম্ভব?সব ছবিগুলোতে শুধু আমি একা। আরো অবাক ব্যপার একে একে এগারোটা, বারোটা ,একটা বেজে চলল অনামিকার ফােনের কোন খোঁজ নেই।খোঁজ নেই তো খোঁজই নেই.....।
এরপর আমি অনেক খুঁজেছি অনামিকাকে কিন্তু কোথাও পাইনি।
মানুষের জীবনের কিছু কিছু রহস্যের সমাধান কখনো হয়না এটাও আমার জীবনের তেমনি এক রহস্যময় ঘটনা।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০২০ ভোর ৬:০৬
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×