
-সেই তুমি এলে!
এতো দিন পরে? কেমন আছো প্রিয়তমা?
ওহ! চিনেছো তো আমায়?
আমি......নামটা নিশ্চয় বলে দেওয়া লাগবেনা।
নাকি মন থেকে মুছে ফেলেছো,ভালো থাকার আশায়।
-আমি চিনেছি অপূর্ব। উপহাস করছো? করো সমস্যা নেই। এসব আমার গা সয়ে গেছে।ভুলতে চেষ্টা করেছিলাম তোমায়।কিন্তু কেন যেন মন চায়নি তোমার মোহ থেকে মুক্তি নিতে।
-আমার মোহ......ঠিক বলছো তো, আমার কিন্তু বিশ্বাস হচ্ছে না।তুমি বরবরই রহস্যের আবরণে মোড়া।
-কবেই বা আমার কথা তুমি বিশ্বাস করেছিলে,বলতে পারো? তুমি কখনো কি আমায় বুঝতে চেয়েছো?
-আবারো অভিযোগের ডালা খুললে?
-খুব বেশি ভুল কি বলেছি আমি?
-নাহ তোমার সাথে কথায় পেরেছে কে কবে?
-তীর্যক কথার ধার শেষ বেলাতেও গেলো না দেখছি।
-সেটাই তো আমার সম্বল নাকি বলো!
-বিয়ে করলে না কেন?
-সে খবরও রেখেছো দেখছি?
-সব খবর আমার রাখতে হয়।জানতে হবে না তোমার শেষ পরিনতিটা কি হলো।
-শেষ পরিণতি?শেষ পরিণতি তো মৃত্যু।তাই দেখতে চেয়েছিলে বুঝি।
-আহ অপূর্ব তুমি না বড্ড বেশি হৃদয়হীন।
-এখন তো শান্তি পেয়েছো?নাকি আমায় এভাবে দেখে হতাশ।আমি কিন্তু বেশ আছি।
-আর শান্তি! তোমার সাথে দেখা হওয়াটা ছিলো,আমার জীবনে সবচেয়ে বড় ভুল। আর বেশ যে আছো সে তো দেখেই বুঝতে পারছি।
-আমি যাচ্ছি। এতো কথা বলার সময় নেই আমার।
-এতো অভিমান কেন তোমার কবি?
-গরীবের অভিমান টুকুই শেষ সম্বল।আর কি বললে, কবি! বাই দা বাই আমি কবিতা লিখি সে কথা তোমায় কে বলল?
-তোমার কবিতাগুলো কিন্তু বেশ।
- তোমার ভালো লেগেছে?
-খুব একটা না।আমাকে ভিলেন বানিয়ে দিয়েছো।ছিঃ।
-অ।
-তোমার আমার সম্পর্ক এভাবে পাবলিকলি না প্রকাশ করলেই পারতে।
-নাম তো বদলে দিয়েছি।
-মানুষ সব বোঝে।ঘাস খায় না।
-আমার মনে হয় না।ওরা আমাকে পাগল প্রেমিক মনে করে।ভালোই লাগে।
-তুমি নিজেকে এতো নিচে নামাচ্ছো কেন?সেদিন তোমার কবিতা পড়ে ও বলল…..এসব হাবিজাবি লিখে কি মজা পায় কে জানে, এ নাকি আবার কবি।
- "ও" সেটা আবার কে?
-সব বুঝে নাটক করার অভ্যাস কবে ছাড়তে পারবে আমায় একটু জানাবে?
-সারমেয়রের লেজ তো হাজার মন ঘি দিয়ে টানলেও সোজা হবার নয়।
-তোমাকে কেউ খারাপ বললে আমার খারাপ লাগে।
-এটা তোমার দয়া।
-এভাবে বলতে পারলে?তোমার মন এতটাই পাষাণ?
-আজ একটা প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিবে।মধুরিমা।
-বলো।
-তুমি কি আমায় সত্যি ভালোবাসতে?
-যে পুরুষ চোখের ভাষা পড়তে পারে না,তার সাথে ভালোবাসা বা প্রেম চলে না।
-বেশ অভিজ্ঞতা আছে দেখছি।
-আমি চললাম।তোমার সাথে কথা বলার রুচি আমার আর নাই। কোন কিছুতেই তো তোমার দেখি নূন্যতম আন্তরিকতা নেই।
-মধুরিমা.......
সব সময় মেয়েটি বড্ড বেশি অভিমানী।ও চলে গেলো। ঠান্ডা জলের ছিটায় হঠাৎ ঘুম ছুটে গেলো।ভালো করে তাকিয়ে দেখি মা ….... কিছুক্ষণ পরে বুঝতে পারলাম মধুরিমাকে স্বপ্নে দেখছিলাম।ভালো লাগছে,তবে বিষন্নতা মিশ্রিত ভালোলাগা ।জানালা দিয়ে উদাস চোখে তাকাতেই মেঘগুলো আমার মতো মনে হলো। উদ্দেশ্যহীন, ঠিকানাবিহীন।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০২০ দুপুর ২:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



