
আমার ছোটবেলার বন্ধুদের আমি জীবনের এক জটিল বাঁকে এসে হারিয়ে ফেলি।অনেকদিন তাদের সাথে কোন দেখা নেই,কথা তো দুরের ব্যপার। দীর্ঘ বিচ্ছেদ,কিন্তু ছোটবেলার বন্ধুদের কি ভোলা যায়? বয়স যত বাড়ছে ছেলেবেলার বন্ধুদের কথা ,স্কুলের মিষ্টি স্মৃতিগুলো ভীড় করে বারে বারে মনের ভিতরে। ইচ্ছে করে আবার তাদের কাছে একটানে ছুটে যেতে কিন্তু ইচ্ছে হলেই মানুষের সব আশা পূরণ হয় না।এ ক্ষত্রে আমারো হয়নি।আর আমি যেখানে থাকি মানে আমার যেখানে বর্তমান অবস্থান সেখান থেকে ঢাকায় এসে বারবার খোঁজ খবর করা বেশ মুশকিল।
তো যাই হোক ছোটবেলার আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু ছিলো রায়হান নামে একটা ছেলে। সে খুব ভালো রবীন্দ্র সংগীত গাইতো। কি যে চমৎকার গলা। গায়কীও খুব সুন্দর। এখনো কানে বাজে তার কন্ঠের রবীন্দ্র সংগীত যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে।
সেই রায়হানের সাথে আমার যেমন ভাব আবার তেমনি খুনসুটি ঝগড়া লেগেই থাকতো। কোন কোন সময় এই ঝগড়া এতোটাই বেশি থাকতো যে আমার এক দুসপ্তাহ পর্যন্ত কথা বলতাম না। অবশ্য এর মাঝে কেউ যদি কোন কারণে স্কুলে অনুপস্থিত থাকতাম তো খোঁজ খবর ঠিকই চলতো উভয় পক্ষ হতেই।
তখন আমি মোহাম্মদপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস সেভেন এ পড়ি। এরকম মান অভিমানের মধ্যে দীর্ঘ চার মাস আমি যশোরে এসে থাকলাম এক বিশেষ কারণে। তারপর যখন আবার আমার প্রিয় স্কুলে ফিরে গেলাম তখন গিয়ে দেখি আমার প্রিয় বন্ধু রায়হান আর নেই। আর নেই বলতে পাঠক আবার অন্য কিছু ভেবে বসেন না।আর নেই বলতে রায়হানের বাবা বেশ আগে থাকতেই কানাডায় থাকতেন ওদের কাগজ পত্র সংক্রান্ত ঝামেলার কারণে ওরা কানাডা যেতে পারছিলো না। আর আমার অনুপস্থিতকালে ওরা কানাডায় চলে যায়। কি যে মন খারাপ হয়েছিলো কি আর বলবো।
তখন তো আর যোগাযোগের এতো মাধ্যম ছিলো না আর বয়সে আমিও ছিলাম নিতান্ত ছোট।হারিয়ে গেলো বন্ধু আমার।ওকে স্যরিটুকুও বলা হলো না।
তারপর অনেককাল পরে তখন প্রযুক্তি অনেক উন্নত হয়েছে। কত মানুষ তার হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনকে খুঁজে পাচ্ছে প্রযুক্তির কল্যাণে।আমিও আমার সামর্থ অনুযায়ী খোঁজ করছি আমার বন্ধুকে। বন্ধুকে বলা ভুল কারণ ততদিনে আমার সব ছোটবেলার বন্ধুকে হারিয়ে ফেলেছি।
আহ তারা কোথায় আছে কেমন আছে কে জানে? কোনদিন হয়তো তাদের সাথে আর দেখা হবেনা।
হঠাৎ একদিন ইউ টিউবে গান শুনছি নিশিরাত বাঁকাচাঁদ সেখানে একটা কমেন্টে চোখ আটকে গেলো।প্রোফাইল পিকচার দেখে মনে হলো চেনা চেনা । মনে হলো আমাদের বাড়ির পাশে থাকতো আমিনুলের মতো। সেও তো ইউ এস এ তে চলে গেছে। আমি তাকে আমিনুল ভেবে মেইল করলাম। তার কমেন্টে মেইল এ্যাড্রেস দেয়া ছিলো।তিনি রিপ্লে করলেন। কিছু মেইল বিনিময় হলো। তবে তেমন একটা সাড়া পেলাম না যখন তিনি বুঝলেন আমি তার চেনা কেউ না। কিন্তু উনি উনার প্রথম মেইলে আমাকে জানিয়েছিলো তিনি একজন ব্লগার। তিনি সামহ্যোয়ারইন ব্লগে ব্লগিং করেণ। তার ব্লগ নিক জগতারণ। তারপরও একটা মেইল করলাম তিনি আর জবাব দেবার প্রয়োজন বোধ করলেন না। খুব কষ্ট পেলাম। যাক তখন সিদ্ধান্ত নিলাম আমি তো লেখালিখি করি। তো এই ব্লগে রেজিষ্ট্রেশন করে নেই ।কোন দিন কোন লেখায় হয়তো তার মন্তব্য পাবো। তাতেই আমার ভালো লাগবে।
আমি লেখা শুরু করলাম। সেই সময় সামুতে আমি প্রথম, তেমন কিছুই জানতাম না বা পারতাম না।দ্বিতীয় পোস্টে সেই জগতারণ নিকের লাইক পেলাম।এটা অবশ্য আমি জেনেছি অনেক অনেক পরে কারণ লাইক কে করেছে তা কিভাবে দেখতে হয় সেটা আমি জানতাম না। তারপরেও অনেক পোস্টে সে লাইক করেছে কিন্তু মন্তব্য রাখেনি।তিনি আমার কবিতাগুলো পছন্দ হয়েছে বলেই লাইক করেছেন। কারণ তিনি আমার ব্লগ নিক জানতেন না।তারপর একদিন হঠাৎ মন্তব্য পেলাম। আমি তার নিক জানতাম মন্তব্য পেয়ে আমি সত্যি অভিভুত হলাম। এতোটাই অভিভূত হলাম যে কি আর বলবো।মন্তব্যটা ছিলো এরকম।
জগতারন বলেছেন:
কবি ইসিয়াক-এর এই খোকার ইচ্ছে কবিতাটি দ্বিতীয় শ্রেনী বাংলা বইতে সংযোজন করার আবেদন করিতেছি ।
লেখক বলেছেন: প্রিয় আকিম ভাই,
আমি সত্যি অবাক । আপনি কী আমাকে মনে করতে পারছেন?
একটা কৃতজ্ঞতা জানাবার ছিলো ।আপনার মাধ্যমেই আমি কিন্তু সামু ব্লগের সন্ধান পাই।বিরক্ত হবেন ভেবে আমি আপনাকে মেইল দেইনি। আসলে আমি জানতাম না আমার লেখা গুলো কোথায় পাঠাবো বা লিখবো এর আগে আমার লেখা অনেক কবিতা গল্প
প্রকাশিত হবার আগেই নষ্ট হয়ে বা হারিয়ে গেছে।যা হোক আপনাকে শত শত সালাম ও কৃতজ্ঞতা জানাই।আপনার জন্যই আমার লেখা গুলোর অনেকে পড়ছে।আশা করি আমার লেখা গুলো পড়বেন।আমার ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। হিসাবে এটা তো আপনার ই ব্লগ।ধন্যবাদ।
মো রফিকুল ইসলাম।
জগতারন বলেছেন: আ-রে !
এ দেখি কবি ইসিয়াক ভাই সাহেব!!
বিশ্বাস করুন আমি ঠাহরই করিতে পারি নাই যে সেই কবি ইসিয়াক।
আপনার সাথে আমি ডাল্লাসে থাকা কালীন জী-মেইলে যোগাযোগ হইয়াছিল।
আমি এক্ষন ঢাকায় (ঢাকা উদ্দান-এ) অবস্থান করিতেছি।
শীগ্রই আমি আবার চলে যাবো।
জী-মেইলে যোগাযোগ করিবেন, ফোন নম্বর দিবো।
ডল্লাস যাওয়ার আগে একবার সাক্ষাত করিবার ইচ্ছা রহিল।
*ব্লগে সবার ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছি।প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা পেয়েছিবার বহুবার প্রায় সবার কাছ থেকেই।অচেনা অদেখা মানুষজনদের কাছ থেকে এতোটা ভালোবাস আমার কল্পনার বাইরে ছিলো। সব ব্লগার ভাই ও বোনদের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা রইলো। আর কৃতজ্ঞতা রইলো সামহোয়্যার ইন ব্লগের প্রতি।
ব্লগে যাদের অনুপ্রেরণা আমার লেখালেখিকে গতিশীল করেছে তাদের নাম দিয়ে ভালো লাগা প্রকাশ করছি।
রাজীব নুর, খায়রুল আহসান,মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন ,স্বপ্নবাজ সৌরভ,বিজন রয় ,আরোগ্য,হাবিব স্যার ,ওমেরা ,নজসু,পদাতিক চৌধুরি ,জুনায়েদ বি রাহমান, রূপক বিধৌত সাধু,দৃষ্টিসীমানা,আখেনাটেন,মুক্তা নীল,রাকু হাসান ,আনমোনা ,সোনালী ডানার চিল ,শায়মা ,কবি হাফেজ আহমেদ ,শাহিন বিন রফিক ,এমজেডএফ,শেহজাদী১৯ ,অজানা তীর্থ,ডঃ এম এ আলী ,কিরমানী লিটন,গিয়াস উদ্দিন লিটন,শুভ্রনীল শুভ্রা ,শিখা রহমান,সুলতানা শিরীন সাজি,করুণাধারা,সাইন বোর্ড,বিদ্রোহী ভৃগু,জোবাইর ,মা.হাসান,জুন ,আহমেদ জী এস ,রানার ব্লগ ,সোহানী,শাহরিয়ার কবীর,ওমেরা ,শের শায়রী ,ভুয়া মফিজ,প্রেক্ষা ,সাড়ে চুয়াত্তর,পগলা জগাই ,জগতারন,,ঢুকিচেপা,মিরোরডডল ,নেওয়াজ আলি,কল্পদ্রুম ,সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, নূর মোহাম্মদ নূরু,
সম্রাট ইজ বেস্ট,ল,কাওসার চৌধুরী ,আর্কিওপটেরিক্স ,ব্লগার_প্রান্ত ,তারেক ফাহিম ,সাদা মনের মানুষ,সুমন কর ,নীলপরি,সচেতনহ্যাপী,ফরিদ আহমদ চৌধুরী ,সনেট কবি,প্রামানিক ,পুলক ঢালী ,মাহমুদুর রহমান,ল,স্বপ্নের শঙ্খচিল,মোঃ মাইদুল সরকার ,আরোহী আশা ,কবীর হুমায়ূন ,তারেক_মাহমুদ ,লক্ষণ ভান্ডারী ,শাহিন-৯৯ ,নীলপরি,নীল আকাশ ,ঠাকুরমাহমুদ ,মিথী_মারজান ,কাজী ফাতেমা ছবি ,সেলিম আনোয়ার ভাই।অনেকের নাম হয়তো বেখেয়ালে দেয়া হয়নি। দয়া করে নিজ গুণে ক্ষমা করবেন। সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। শুভকামনা রইলো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


