somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ বাল্যবন্ধু

০৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজকাল অফিস শেষে বাসায় ফিরে মুভি দেখা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে তৌহিদের।গতমাসে ক্লাবের নিয়মিত আড্ডায় একটা অযাচিত ঝামেলার পর থেকে তৌহিদ অফিস থেকে সোজা বাসায় ফিরে আসে।যদিও ছবি দেখতে দেখতে   বেশি রাত হয়ে গেলে চমন চেঁচামেচি করে,কখনও কখনও আপত্তিজনক কথাবার্তা বলে তবুও অভ্যাসটা তৌহিদ ছাড়েনি। কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার বলে তত বেশি তাড়া নেই।এখন রাত প্রায় এগারোটা  এদিন সবাই কমবেশি রাত জাগে। নয়টার দিকে হঠাৎ মোবাইলে একটা unknown number এ কল আসতে কলটা রিসিভ না করে ফোন মিউট করে রেখে আবার মুভি দেখায় ব্যস্ত হয়ে পড়ল তৌহিদ । ছবি শেষ হবার আগেই খাবারের ডাক পড়ল।এই ফাঁকে   ফোন চেক করে দেখে সেই নম্বর থেকে আঠারোটা মিসকল দেখাচ্ছে।
কে এত বার কল দিচ্ছে কে জানে।জরুরিই হবে হয়তো।
যদিও রাত হয়ে গেছে তবুও তৌহিদ কল ব্যাক করলো।
- হ্যালো।
ওপাশ থেকে মুহুর্তে কথা ভেসে এলো
- হ্যালো তৌহিদ আমি জাফর বলছি। চিনেছিস?
- স্যরি,কে জাফর? মনে করতে পারছি না। আমি কি আপনাকে চিনি?মানে.. দেখা হয়েছে আগে কখনও আমাদের?
- রেসিডেন্টসিয়াল মডেল হাই স্কুল ১৯৯২ ব্যাচ। নুরজাহান রোড।
একটুখানি ভাবতেই চলচ্চিত্রের মত সব স্মৃতি সামনে চলো এলো।
তৌহিদ সহাস্যে বলল
- ও আচ্ছা আচ্ছা মনে পড়ছে ২০/১২ এর জাফর মানে জাফর ইকবাল তাই তো।
-হু।
- তো বল কি ব্যপার?
- আমি তোর সাথে একটু দেখা করতে চাই।বিশেষ প্রয়োজন আছে।
-আসলে আমি তো ব্যস্তই থাকি তেমন করে সময় পাই না। কি বলবো...আচ্ছা যা বলার ফোনে বলতে পারিস।
- ব্যপারটা ইমারজেন্সি। না হলে বিরক্ত করতাম না। আমরা সরাসরি কথা বলি?
- ঠিক আছে আয় কাল বিকালে চারটা থেকে পাঁচটা নাগাদ সময় হবে।কিন্তু বেশি সময় দিতে পারবো না। বাসা চিনিস তো?
- হ্যাঁ আমাদের পুরানো পাড়া, চিনব না কেন। তুই খোঁজ না রাখলেও  তোর সম্পর্ক আমি  কিছুটা হলেও খোঁজ খবর রাখি।
পরদিন বিকাল সাড়ে চারটা নাগাদ নিচ থেকে  দারোয়ান কল দিল   জাফর নামে একজন দেখা করতে চায়। 
অনেকগুলো বছর   বেশি পরে দেখা। কত পরিবর্তন!  কিন্তু সময়ের ব্যবধানে কত কিছু বদলে যায়। কে বলবে এই জাফর তৌহিদের জিগরি দোস্ত ছিল একসময়।
জাফরের আধভাঙ্গা চেহারা, পোশাকে চরম দারিদ্র্যের ছাপ তৌহিদকে অস্বস্তিতে ফেলল। একসময় এ পাড়ায় জাফরের বাবাই  সবচেয়ে পয়সাওয়ালা ও সম্মানীয় মানুষ ছিলেন। তৌহিদের মা আর জাফরের মা দুই ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিলেন।দুই পরিবারে মেলামেশা ছিল আত্নীয়ের চেয়ে বেশি।সব চলছিল ভালোই হঠাৎ জাফরের বাবার আত্মহত্যায় সবকিছু বদলে গেল ক্রমশ। কিছুদিন পর হুট করে একদিন মা ছেলে উধাও হয়ে গেল।বয়স অল্প ছিল বলে অত কিছু মনে নেই তৌহিদের। তবে জাফরকে সে ভীষণ মিস করতো একসময় ।
আজ এত বছর পর জাফরকে এমন হতদরিদ্র রূপে দেখে
তৌহিদ  একটু থমকেই গেল। তার স্ত্রী চমন রুমেই ছিল।ভেবেছিল বাল্যবন্ধুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে কিন্তু  তৌহিদ খুব দ্রুত  তার সিদ্ধান্ত বদলালো।  সে চমনকে বলল
-তুমি ভিতরে গিয়ে বসো আমি এর সাথে একটু  কথা বলি।
চমন বিনা বাক্য ব্যয়ে ভেতরে চলে গেল। তার মনোযোগ মোবাইল স্ক্রিণে। বান্ধবীদের সাথে উরাধূরা গ্রুপ চ্যাটিং চলছে ।  পরিচিত অপরিচিত কারো সাথে আলাপের সময় এখন এই মুহুর্তে  তারও খুব একটা নেই। 
জাফর তখনও দাঁড়িয়ে আছে দেখে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তৌহিদ তাকে আপ্যায়ণ করলো
- বসো বসো আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে। তা কি ব্যপার ঝটপট বলে ফেল । আমার হাতে কিন্তু সময় নেই। মেয়েকে নিয়ে বেরোতে হবে।
- আমরা তুই করে কথা বলতাম তৌহিদ।
- ও তাই নাকি? মনে নেই কতদিন আগের কথা।তবে সময়ে সবকিছু বদলে যায়।
- হ্যাঁ বহুদিন। তোরা ক'ভাইবোন খালাম্মা সবাই আমাদের বাসায় প্রতিদিন নিয়ম করে   টিভি দেখতে যেতিস। আমরা কত মজা করতাম...মিরপুর রোড পেরিয়ে সংসদ ভবনে পাথর কুড়াতে যাওয়ার কথা মনে আছে তোর?
তৌহিদ এসব পুরানো স্মৃতিতে বিরক্ত হলো তখন তাদের অবস্থা ততটা ভালো ছিল না। জাফরের বাবা সরকারের বড় চাকুরে হিসাবে বেশ উন্নত জীবনযাপন করতো। সেই তুলনায় তারা ছিল ছাপোষা। অথচ আজ পোশাকের বলে দিচ্ছে জাফরের চরম দুরবস্থা। এজাতীয় লোকজন স্মৃতি রোমন্থনে বেশি সুখ লাভ করে।সুযোগ খোঁজে। তৌহিদ  অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছে এদের পাত্তা দিলে সমস্যা বাড়ে। গরীব বাল্যবন্ধু আর গরীব আত্নীয় এরা সিন্দাবাদের ভুতের মত একবার ঘাড়ে চড়তে পারলে হয় আর নামা-নামির খবর থাকে না।
তৌহিদ কথা শেষ করতে চাইছিল।
- হ্যাঁ কি জন্য এসেছিস বল।ছুটির দিন। বোঝ নিশ্চয়।
জাফর বুঝলো সে ভুল জায়গায় এসেছে। তবুও নিরুপায়। টাকা তার জন্য ভীষণ জরুরি। সে আর ভান ভণিতা না করে বলল
- আসলে আমি তোর কাছে কিছু সাহায্যের জন্য এসেছি।
- সে আমি তোমাকে দেখেই বুঝেছি।বয়স হয়েছে   অভিজ্ঞতা কম তো হয়নি।
- একজন বৃদ্ধা মহিলা। সামান্য চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পাচ্ছে। তোর তো অনেক ক্ষমতা.. তুই যদি ভদ্র মহিলার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতিস...
তৌহিদ বেশ বিরক্ত হলো। এই ভিখারি জাতীয় মানসিকতার লোকজনদের সে ঘৃণা করে। হুটহাট যেখানে সেখানে হাত পাতে।সময় মত এসব সম্পর্ক লাগাম টানতে হয়।
- ও সব খবরই রাখা হয় দেখছি। যাহোক এখন ওসব দায়িত্ব নিতে পারবো না আমি অন্যত্র এনগেজড আছি।তবে বাল্যবন্ধু হিসাবে যখন হাত পেতেছিস তখন আর ফেরাই কি করে!  হাজার খানেক দিলে হবে? দুঃখিত এর বেশি ক্যাশ আপাতত আমার কাছে নেই।
তৌহিদের বলার ভঙ্গীতে কেমন একটা তাচ্ছিল্যের ভাব ছিল। জাফর কথা বলার ভঙ্গিতে  আহত হলেও সে হাত বাড়িতে টাকাটা নিল। আসলে টাকার ভীষণ দরকার।
তৌহিদ বাকি কথা শেষ করার জন্য ব্যস্ত হয়ে বলল
- আর শোন এভাবে হুটহাট বাসায় আসবে না।  আমার ওয়াইফ আবার এসব একদম পছন্দ করে না।আমরা দান খয়রাত যা করার একটা নির্দিষ্ট জায়গায়ই করি।একটা এতিমখানা ও একটা বৃদ্ধাশ্রমে আমাকে প্রতিমাসে বেশ বড় অঙ্কের টাকা পে করতে হয় চ্যারিটি হিসাবে। ওকে।উল্টাপাল্টা কিছু করার সুযোগ খুব বেশি নেই। বুঝিস তো লিমিটেড ইনকাম। তারপরও কেউ সাহায্য চাইলে ফেরাতে পারি না। হাজার হলেও আমাদের একটা স্ট্যাটাস আছে।
সেদিন রাতে খাবার টেবিলে  তমা ফোন দিল
- ভাইয়া কি৷ করেছিস? খুব ব্যস্ত?
- না বল।  কি খবর?
- আজ না বাসায়  ইকবাল ভাইয়া এসেছিল। আমি প্রথমে চিনতে পারিনি। পরিচয় দিল। তোর কথা বলল।
- ইকবাল? 
- আরে তোর জিগরি দোস্ত  জাফর। জাফর ইকবাল। 
- ওই ভিখারিটা তোর ওখানেও পৌঁছে গেছে দেখছি।খবরদার পাত্তা দিস না। টাকা চাইলো নিশ্চয়?
- কি করে বুঝলি? হ্যাঁ কার না কার চিকিৎসার জন্য টাকা তুলে বেড়াচ্ছে।
- কত দিলি?
- আরে দুই হাজার। জুবায়ের তো ভীষণ বিরক্ত। 
তবে একটা কৌতুহল থেকে ফোন দিয়েছি ওদের অবস্থা এত খারাপ হলো কি করে? জানিস কিছু? -কে জানে ওর বাপটা মরার পরেই তো আমাদের পাড়া থেকে গ্রামে  চলে গেল। কোন কালের কথা মনে আছে নাকি সব। বসিলার ওদিকে থাকে মনে হয়। আর হ্যাঁ ভাব দেখে মনে হচ্ছে রায়হান সবুজ ওদের বাড়িতেও ভিক্ষা করতে যাবে মনে হয়। ওদের ফোন দিয়ে মানা করে দে। ওকে একদম পাত্তা দেয় না যেন। মনে হচ্ছে বাটপারি কেস। এরপর ধান্দা নিয়ে আসলে সোজা পুলিশকে ফোন দিবি।
(২)
কয়েকমাস পর সেই   জাফর হঠাৎ তৌহিদের অফিসে এসে হাজির। তৌহিদ যার পর নাই বিরক্ত। একটু পরেই জরুরী মিটিং  তার প্রস্তুতি চলছে এমন সময় এই উপদ্রব।
সে বিরক্ত নিয়ে জানতে চাইলো
- আবার কি?আজ এই মুহুর্তে আমি কোন টাকা পয়সা সাহায্য দিতে পারবো না জাফর। এভাবে প্রতিদিন সাহায্য চাইতে আসলে কি করে হবে?।যাও তোমার নিজের কাজে যাও।এখন  বিরক্ত করো না। সব কিছুর একটা সীমা আছে। আমি কি সবসময় টাকা নিয়ে বসে থাকি না-কি! তোমার কি মনে হয় আমি দানছত্র খুলে বসে আছি। তুমি আসবি আর আমি সুড়সুড় করে টাকা দিয়ে দেব।
জাফর তৌহিদের কথাগুলোকে পাত্তাই দিল না।
সে শীতল গলায় বলল
- আজ টাকা পয়সা চাইতে আসিনি।এসেছি অন্য কাজে। এখনি আমার সাথে তোকে যেতে হবে।
- কেন? কোথায়?  আর তুমি বললেই আমি যাবো কেন? কি আশ্চর্য!
- এত প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারবো না। সময়ও নেই। যেতে হবে বলছি যাবি। ব্যস।
- গায়ের জোরে বললেই হবে।তোমার সাহস তো কম না।নিতান্ত বাল্যবন্ধু বলে তোমাকে সহ্য করছি। কিন্তু আর না। এক্ষুনি বেরিয়ে যাও নাহলে বাটপারির দায়ে পুলিশে ধরিয়ে দেব।
- পুলিশ তুই কি আনবি পুলিশ তো আনবো আমি। হাতে হ্যন্ডকাপ পরিয়ে নিয়ে যাব। ওঠ- সোজা ওঠ- আমার হাতে সময় নেই।
- শালা ভিখারি। দুর হ। তোকে প্রশ্রয় দেওয়াটাই আমার ভুল হয়েছে।
- উত্তেজিত হোস না। উত্তেজিত হলে তোরই মান সম্মান যাবে। তোর অন্য ভাই বোন গাড়িতে নিচে অপেক্ষা করছে।
- মানে?
তৌহিদ নিচে এসে  দেখে সত্যি সত্যি  গাড়িতে তমা, রায়হান, সবুজ সবাই বসে আছে। সে বিরক্ত হয়ে গজগজ করতে করতে বলল
- এসব কি হচ্ছে? আমরা কোথায় যাচ্ছি? এটা তো জানতে পারি না-কি?  এত রহস্যের মানে কী?
জাফর গম্ভীর গলায় বলল
-যেখানে যাচ্ছি পৌঁছলেই সব জানতে পারবি।এবার চুপ করে গাড়িতে বস। উত্তেজিত হলেই প্রেসার বাড়বে। তোকে নিয়ে ছোটাছুটি করার কোন ইচ্ছে আমার নেই।
(৩)
চমৎকার রৌদ্রজ্জ্বল দিন। কিন্তু পরিবেশটা মারাত্নক নিস্তব্ধ ।কেমন যেন শান্ত আর উষ্ণ। বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ ওরা একটা পুরানো আমলের একতলা বাড়ির সামনে এসে পৌঁছালো। বাড়ির ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে ওরা কেমন যেন খ্যানখ্যানে গলার আওয়াজ   শুনতে পেল
-তমা তৌহিদ তোরা এলি এতদিন।এতদিন পরে তোদের আসবার সময় হলো।মায়ের জ্যান্ত মুখটা একবার দেখতে পেলি না। ও যে তোদের কত খুঁজেছে। জাফরকে৷ কতবার বলেছে আমার সন্তানগুলোর সাথে একবার দেখা করিয়ে দে বাপ। তোরা কি সত্যি খুব ব্যস্ত থাকিস।মাকে একটু দেখার সময়ও তোদের হয় না। অথচ এই মা ই তোদের জন্য জীবনে কত ত্যাগ করেছে যদি একবার ভাবতিস তাহলে এমন করে অবহেলা করতে পারতিস না।

ময়িয়ম খালাম্মাকে চিনতে একটুও কষ্ট হয়নি ওদের। তৌহিদের মা আর জাফরের মা মরিয়ম দুই বান্ধবী ছিলেন -- তাদের মাও যে এখানে এটা তো কখনও কল্পনায়ও আসেনি কখনও। অথচ মাকে কত খোঁজা হয়েছে।

মরিয়ম বেগম লাশের পাশে বসে তখন ক্রমাগত বিলাপ করে চলেছেন। তোরা এত নিষ্ঠুর হলি কেমন করে। মানুষটাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার সময় একবার ভাবলি না ও কে হয় তোদের ?  কোথায় যাবে? কি খাবে? পথেই তো শুয়ে ছিল না খাওয়া না দাওয়া। জাফর কাজ থেকে ফেরার পথে  বাসায় নিয়ে এলো যেদিন। আমি তো সব শুনে থ। একি করে সম্ভব। চার চারটি সোনার মত ছেলেমেয়ে যার। তার জন্য একটা ঘর সামান্য খাবার জোটে না। তোরা বড়লোক হয়েছিল। সমাজে তোদের ভালো পজেশন হয়েছে কিন্তু মানুষ তো হতে পারিসনি।  কার পরিশ্রমে তোরা আজ এই পজিশনে ভেবেছিস কখনও।
হ্যাঁ আমিই নিষেধ করে দিয়েছিলাম জাফরকে তোদের মায়ের পরিচয় দিতে। দরকার নেই তো কোন। অন্যয় কিছু করেছি  কি?  ও এখানে ভালো ছিল আনন্দে ছিল। এই তো আজ সকালে আমার কোলে মাথা রেখে শেষ ঘুম ঘুমালো।
অসুস্থতায় খবর দিতে দেইনি পাছে বিরক্ত হোস।তারপরও জাফর গেছে। অত টাকা তো আর আমাদের নেই। জাফরের সামান্য চাকরি আর এই ভিটে বাড়িই আমাদের সম্বল।ওর নিজেরও একটা সংসার আছে।তার মধ্যে  যতটুকু করার করেছি। জামিলা আমার সই ছিল।নিজের বোনের মত ছিল । আমার কাছে ভালো ছিল। অন্তত মনে শান্তি ছিল।  তোমাদের অনেক টাকা থাকতে পারে।সমাজে ভালো পজেশন থাকতে পারে কিন্তু বুকে হাত দিয়ে বলতো মনে শান্তি আছে কি?  নেই । আমি ঠিক  জানি,তোদের কারও মনে শান্ত নেই। মনের ভিতর লোভ আর হিংসা থাকলে কারও মনে শান্তি থাকে না।..  
যাও মায়ের মুখ শেষ বারের মত দেখে নাও। এরপর লোকজন চলে আসবে। তোমাদের অপেক্ষায় ছিলাম।কাওকে জানাইনি তোমাদের সম্মানের কথা ভেবে। বেলা বাড়ছে। লাশ দাফন কাফন শেষ করতে হবে। তোমরা তোমাদের মাকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করো।শেষ সময়ে মাকে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু দেবে আশা করি।
এরপর এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হলো।... তৌহিদ বলল
- খালাম্মা আমাদের ক্ষমা করবেন। জানি আমরা ক্ষমা চাওয়ার যোগ্য নই।আপনারা অনেক করেছেন সে সব কথা বলে আপনাকে আপনাদের ছোট করতে চাই না।
মরিয়ম বেগম কোন রকমে বললেন
-মনে রেখ বেঁচে থাকতে মাকে যোগ্য সম্মান দিতে পারোনি। মৃত মায়ের যেন অসম্মান না হয় এটুকুই আমার চাওয়া।যাও মায়ের অন্তিম কাজ দ্রুত শেষ করো।
সারিবদ্ধ লোক ঠেলে
ঘন্টাখানেকের মধ্যে লাশবাহী গাড়ি সহ কয়েকটি গাড়ি ঢাকার উদ্দেশ্য ছুটে চলল। এলাকার লোকজন নানা গল্প ফাঁদতে লাগলো।কিছু সত্যি কিছু মিথ্যা মিলিয়ে জোর আলোচনা চলতে লাগলো। জাফর বা মরিয়ম বেগম ইচ্ছে করেই ওদের সাথে গেল না। যারা নিজের মা'কেই বোঝা ভেবে ত্যাগ করে তাদের কাছে বাইরের লোকের কি কোন মূল্য আছে না-কি ।  থাকুক ওরা ওদের মতো করে।
© রফিকুল ইসলাম ইসিয়াক









সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:৫৩
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রামের বন্যায় আক্রান্তদের জন্য আমরা কি কিছু করতে পারি?

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:০৭


সম্মানিত ব্লগার,
বাংলাদেশের সবরকমের দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের ব্লগারদের বিশেষ অবদান রয়েছে। দুর্যোগে আক্রান্তদের সহযোগিতায় আমাদের সামু ব্লগারেরা সবসময়ই এগিয়ে এসেছেন। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আমি অনুরোধ করছি না। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট : প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ একটি বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৪১


বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট শুধু একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন কৌশল এবং আগামী কয়েক বছরের অর্থনৈতিক রূপরেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। নতুন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য লাস্ট সাপার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩



কক্সবাজার ডিবি কার্যালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষ। টেবিলজুড়ে সাজানো নামী রেস্তোরাঁ থেকে আনা রূপচাঁদা ফ্রাই আর কোরাল মাছের দো পেঁয়াজা। টেবিলের একপাশে বসা এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×