
চাকমাদের মতই রাখাইন বা মগরাও আরেকটা বিশাল থ্রেট হয়ে উঠছে।
মারমারাও মগ বা রাখাইনদেরই একটা সম্প্রদায়।
আরাকান এলাকা তাদের ভূমি এবং আরাকান আর্মি/আরাকান লিবারেশন আর্মি, এসব হল তাদের স্বশস্ত্র বাহিনী।
একসময়ের মগ ভূমি দস্যুরাই আজকের রাখাইন বা মগ!
বর্তমানে বাংলাদেশের বরিশালের কিছু এলাকা এবং বিশেষত কক্সবাজারে এরা বাস করে।
এই মগেরাই আরাকানিজ মুসলিম সম্প্রদায় তথা রোহিংগাদের সাথে বার্মায় অমানবিক নিপীড়ন চালিয়েছে!
মগেদের অপপ্রচার হল- আরাকানি মুসলিমরা (রোহিংজ্ঞারা) বাঙালী। এ দাবী করে রোহিংগাদের তারা রোহিংগাদের এলাকা থেকে উচ্ছেদের নামে বিশ্ব কাঁপানো নির্যাতন চালিয়েছে!

ইতিহাস কি বলে?-
১৬২০ সালে ঢাকায় ব্যাপক হামলা করেছিলো মগেরা। সেসময় বাংলার সুবাদার ইব্রাহীম খান তাদের প্রতিহত করেছিলেন।
১৬২৫ সালে মগদের রাজা আরাকান রাজ শ্রী সুধর্ম মোঘল রাজধানী ঢাকায় আক্রমন করে। তার সাথে পরাজিত হয়ে সুবাদার আমজাদ খান পালিয়ে যায়। তিন দিন ঢাকায় অবস্থান করে মগেরা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে আরাকানে ফিরে যায়।
ঢাকার মগবাজার নামটি মগদের আগ্রাষণের একটি জ্বলন্ত স্বাক্ষী!
ইংরেজরা চলে যাবার সময়, আরাকান রাজ্য বা মগরাজ্যকে বার্মার সাথে একীভূত করে দিয়ে যায়।
বর্তমান ইন্ডিয়ায় যেমন, অতীতের অনেক স্বাধীন রাজ্যের ভূমি রয়েছে, ঠিক বর্তমান বার্মাতেও অতীতের অনেক স্বাধীন রাজ্যের ভূমি রয়েছে।
'মগের মুল্লুক' শব্দটা মগদের অভাবনীয় অত্যাচারের স্বাক্ষী হয়ে, বাঙলা ভাষায় আজও যেকোন ভয়াবহ অরাজকতার নির্দেশক শব্দ হয়ে, বেঁচে আছে!
প্রায় আড়াইশত বৎসর বাংলায় মগদের অত্যাচার স্থায়ী হয়েছিল!
মুর্শিদকুলি খান সুবাদার হয়ে মগদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অভিযান চালালে অত্যাচার কিছুটা স্তিমিত হয়।
পলাশীর যুদ্ধের পরেও কলকাতাবাসী মগদের অত্যাচারের আতংকে দিন কাটাতেন।
মগরা যেসব এলাকায় হামলা চালাত সেসব এলাকার সাধারন ঘটনা গুলো ছিলো- ব্যাপক মাত্রার ধর্ষণ, যুবকদের বন্দী করে ধরে নিয়ে যাওয়া, ধ্বংসযজ্ঞের লীলাক্ষেত্র, হরিলুট ইত্যাদি!
মগরা গোলাম হিসেবে যেসব যুবকদের ধরে নিয়ে যেত তাদের পা ও হাতের তালু ছিদ্র করে বেঁতে ঢুকিয়ে বাঁধা হত!
এভাবে গাদা করে সেইসব হতভাগ্য বাঙালী যুবকদের নৌকার পাটাতনের নিচে ফেলে রাখা হত। ফলে তারা কোনমতেই পালিয়ে যেতে পারত না।
মুরগিকে যেভাবে চাল ছিটিয়ে খেতে দেয়া হয় ঠিক সেভাবেই বন্দী যুবকদেরকে খাদ্য হিসেবে তাদের দিকে চাল নিক্ষেপ করা হত।

মগ জলদস্যুরা পর্তূগীজ জলদস্যু (ফিরিঙ্গি) দের সাথে হাত মিলিয়ে বাংলার উপকুলীয় এলাকাকে বিশাল একটা সময় ব্যাপী জাহান্নাম বানিয়ে ফেলেছিল! তাদের অত্যাচার, ধর্ষণ, অন্যায়ের অতিসহ্যে ঐসব এলাকা মানব শূন্য হয়ে পড়ে।এসব এলাকায় জঙ্গলে ভরে গিয়েছিলো, সন্ধ্যায় সেসব অঞ্চলের নদীর দুই ধারে সন্ধ্যাবাতি জ্বালাবার কোন লোক বিদ্যমান ছিলোনা।
প্রভাবশালী মগ নেতা মংগত রায় ১৬৬০ সালে ঢাকার আব্দুল্লাহ পূরে মোগল বাহিনীর সাথে যুদ্ধে মারা যায়।
'পূর্ববঙ্গ গীতিকায়' মগদের নৃশংস বিভীষিকার বর্ণনা সমূহ এসেছে।
এতসব বিভীষিকাময় বর্ণনার পরেও ইতিহাসে মগদের অতুলনীয় অত্যাচারের যত সামান্য ঘটনাই এসেছে বলে ইতিহাস বিশ্লেষকগণ উল্লেখ করেন। মগ জাতীর ভয়াবহ নির্যাতন চর্চার কিছুটা রোহিংগা নির্যাতন থেকে উপলব্ধি করা যায়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম সহ বাংলাদেশের উপজাতিদের আগমন ইতিহাস গুলো নানান কায়দায় গোপন করে তাদেরকে মিথ্যা আদিবাসী বানিয়ে মূলত, দূর্ধর্ষ অত্যাচারী গোষ্ঠীগুলোর দ্বারা বাঙালীদের ওপর আরেকটি যুদ্ধ চাপানোর মাধ্যমে দখলীয় এলাকার পথ সুগম করে দিচ্ছে এদেশের কিছু দালাল সম্প্রদায়!

পূনশ্চঃ
আরাকান আর্মির শীর্ষ নেতা রান নিন সয়ে। বিজিবির ওপর আক্রমন করার পর এ নেতার ফেসবুক একাউন্ট পর্যবেক্ষন করে, আধুনিক সমরাস্ত্রের স্বয়ংসম্পন্ন আরাকান আর্মিদের অস্তিত্ব জানার সাথে সাথে পার্বত্য উপজাতি সন্ত্রাসীদের সাথে এদের যোগাযোগের বিষয়টি সামনে চলে আসে। সম্প্রতি আরাকান আর্মি কর্তৃক বাংলাদেশের সাথে যুদ্ধ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামকে 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কবরে' পরিনত করবার হুমকি দেয়া হয়!
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


