এখানে একটা প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক যে রাজা হরি সিং-এর ভারতে যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্য কোনও ইতিহাস আছে কিনা--- কোনও বিশেষ পরামর্শদাতা ছিলেন কিনা (?)। এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটিত হলেই কাশ্মীর-সমস্যার মূল বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা অনেকটা সহজ হতে পারে । আসুন খুঁজে দেখার চেষ্টা করি ।
রাজা হরি সিং-এর বিরুদ্ধে উপজাতিদের আক্রমণ এত তীব্র ছিল যে রাজ-সেনারা তা’ প্রতিরোধ করতে পারেনি । তাই মহারাজা হরি সিং পাকিস্তানের সাহায্য প্রার্থনা করলেন । এই সাহায্য প্রার্থনার উল্লেখ্য কারণ হ’ল—পাকিস্তানের সঙ্গে কাশ্মীরের চুক্তি অনুযায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা, ডাক ও তার বিভাগ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল পাকিস্তান । সেই সু-সম্পর্ক’র সূত্র ধ’রে রাজা উপজাতিদের আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য পাকিস্তানের সাহায্য আশা করেছিলেন । কিন্তু পাকিস্তান জানাল যে তারা একটা স্বাধীন রাষ্ট্র’র অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না । ডাক, তার, যোগাযোগ ব্যবস্থার দায়িত্ব থাকলেও প্রতিরক্ষার ভার, চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের ছিল না ।
রাজা হরি সিং এবং তাঁর মন্ত্রিসভায় একটা আলোচ্য বিষয় বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠছিল যে ‘পাকিস্তানের মধ্যে স্বায়ত্বশাসন নিয়ে থাকার ব্যাপারে কোনও আপত্তি নেই’। ঠিক সেই সময় শেখ আবদুল্লা, মহারাজা হরি সিংকে পরামর্শ দিলেন যে এ বিষয়ে ভারতের সাহায্য গ্রহণ করা অপেক্ষাকৃত ভাল। । একজন হিন্দু রাজা হিসেবে, ভারত আপনার অনেকটা স্বার্থরক্ষাকারী হতে পারে । মহারাজা হরি সিং আর কোনও বিচার-বিবেচনা না ক’রেই, শেখ আবদুল্লার পরামর্শ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিলেন । এখানে অনেকের মনে হয়তো প্রশ্ন জাগতে পারে যে পাকিস্তানের সঙ্গে ডাক-তার-যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিচালনা ইত্যাদি বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হবার পর, ভারতের সঙ্গে নতুন কোনও বিষয়ে চু্ক্তিবদ্ধ হওয়া--- কাশ্মীরের মতো একটি স্বাধীন দেশের রাজার কি উচিত ছিল? অথবা প্রশ্ন উঠতে পারে-- একজন স্বাধীন রাজা পাকিস্তানের মধ্যে স্বায়ত্বশাসনের কথা ভাবার পর, শেখ আবদুল্লার কথায় প্রভাবিত হলেন কেন? এসব প্রশ্নর উত্তর হয়তো রাজনৈতিক সমালোচকরা দিতে পারবেন । আমরা শুধু স্বাধীন কাশ্মীরের পরাধীন হওয়ার যন্ত্রণাদায়ক ঘটনাগুলির কথা তুলে ধরতে পারি মাত্র । ...(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০১৮ রাত ১২:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




