কাশ্মীর প্রসঙ্গে এত বেশি কথা বলার আছে যে আমাদের ভাবতে হয়, কীভাবে বলবো !(?) কারণ আমি কোনও রাজনৈতিক বিশ্লেষক নই, প্রবক্তাও নই । এ কথা শুনে ভাই-বন্ধুরা হয়তো প্রশ্ন তুলবেন—‘ তাহলে, এ বিষয়ে লিখতে গেলাম কেন’? এ প্রশ্ন’র সঠিক উত্তর আমার কাছে নেই । শুধু এটুকুই বলতে পারি—শৈশব থেকে যে ভূ-স্বর্গ কাশ্মীরের কথা শুনে শুনে মনের মধ্যে যে এক স্বপ্নপুরী তৈরি হয়েছিল, তা’ কারণে-অকারণে বিদ্ধস্ত হচ্ছে--- শিশু, কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, অসংখ্য সাধারণ মানুষ, অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, একটি জাতির জনজীবন ও সংস্কৃতি-র সংহার চলছে প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক কূট-কৌশলে, এ যেন আমাদের মতো, একটি সভ্য বাঙালি-জাতির কাছে অসহনীয় । আমাদের একদিকে রবীন্দ্রনাথ অন্যদিকে নজরুল, মানবতার জয়গান গেয়ে গেছেন । সেই দেশে জন্মে, আমাদের প্রতিবাদী কন্ঠ কেন থেমে থাকবে? অন্যায়ের প্রতিকার হয়তো আমরা করতে পারব না, তবু সত্যের জয়গান তো গাইতেই হবে । তাই এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা ।
একটি স্বাধীন দেশের রাজার স্বদেশ ও স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা তো দূরের কথা, কাশ্মীরের মাটিতে তাঁর শেষ মৃত্যুশয্যাটুকুও তৈরি করা হয়নি । সেই মর্মান্তিক ইতিহাস আজও বিলীন হয়ে যায়নি । (এখানে তা’ আলোচ্য নয়)
কাশ্মীর-স্বাধীনতা রক্ষার এক সংকটময় মুহূর্ত তখন । বক্সী গুলাম মহম্মদ কাশ্মীর স্বায়ত্বশাসনের অধিকারগুলি ছেড়ে দিতে থাকলেন, ভারতের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের সৌজন্যে । পাকিস্তান এতদিন অনেকটা নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল । কিন্তু কাশ্মীর দখলের এই রাজনৈতিক কৌশলের বিরুদ্ধে এবার তাঁরা এগিয়ে এলেন । পাকিস্তান সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ’র নিরাপত্তা পরিষদের শর্তগুলি তুলে ধরলেন ভারতের সামনে । তাই, বাধ্য হয়ে ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে কাশ্মীর সংক্রান্ত আলোচনায় বসল । সর্বসম্মতিক্রমে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হ’ল—নিরাপত্তা পরিষদের নির্দেশ মেনে, উভয় দেশ (ভারত ও পাকিস্তান) কাশ্মীর থেকে সৈন্য সরিয়ে নেবে । তারপর ১৯৫৪-তে কাশ্মীরে গণভোটের প্রস্তুতি নেওয়া হবে , একজন আধিকারিক নিযুক্তির মাধ্যমে ।
তাহলে, এই মুহূর্তে আমরা ভেবে নিতেই পারি যে কাশ্মীর তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটা সুযোগ পাবে জনগণের ভোটাভুটির মাধ্যমে— অর্থাৎ পূর্ব শর্তানুযায়ী, কাশ্মীরী জনগণের ইচ্ছানুসারে, কাশ্মীর সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকবে বা ভারত অথবা পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হবে, তা’ নির্ধারিত হবে । কিন্তু কাশ্মীরী জনগণের চরম দুর্ভাগ্য যে তা’ হল না । রাজনৈতিক মায়াজালে জড়িয়ে পড়ল, দুঃস্বপ্নের অন্ধকারে । আমাদের এই দেশ কখনও অত্যাচারী দুশ্চরিত্রকে প্রশ্রয় দিতে শেখায়নি । কিন্তু আজ কেন আমরা সেই নীতিশিক্ষা থেকে দূরে স’রে পড়েছি? দু’শো বছরের পরাজয়ের গ্লানি বহন ক’রে, আমরা ক্লান্ত হলেও আমরা বলেছি ‘সত্যমেব জয়তে’। কিন্তু আজ তার প্রতিফলন কি সত্যিই দেখতে পাই ? স্বামী বিবেকানন্দ বলতেন—‘ জন্মেছ যখন, একটা দাগ রেখে যাও’। কিন্তু আমরা এখনও কি বুঝি, সেই দাগটা কী? মানুষের জন্য একটা অক্ষয় কীর্তিই হ’ল সেই ‘দাগ’।...
১৯৫৪ সালে আধিকারিক নিযুক্তির বদলে, ভারত ঘোষণা করল—‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র সাহায্য করছে পাকিস্তানকে । এইসব অস্ত্র ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা আছে । বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত অন্তত ২১ হাজার সৈন্য মোতায়েন রাখবে । এই মুহূর্তে কাশ্মীর থেকে ভারতের সেনা অপসারণ সম্ভব হচ্ছে না’।....(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ২:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




