পর পর দু’দিন অনুপস্থিত থাকার কারণে লেখক-পাঠক ভাই-বন্ধুরা অনেকেই হয়তো মন খারাপ করেছেন । অবশ্যই তাঁদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আমার উপায় নেই, আমার অক্ষমতার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী । যে বিষয়টি নিয়ে লিখতে বসেছি তা’ যে অনেক বেশি সংবেদনশীল, তা’ আমরা সবাই জানি । ইতিহাসও কারও অজানা নয় । তবুও আমাদের মতো অনেক মানুষের প্রশ্ন—প্রতিনিয়ত রক্ত-স্নাত কাশ্মীরের কি কোনও শান্তিপুর্ণ সমাধানের পথ নেই? উত্তরে বলি—সেই শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজতেই তো আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা । ফিরে আসি ঘটনার মূল স্রোতে ।
কাশ্মীরে ‘গণভোট’-এর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য, ‘নিরাপত্তা পরিষদ’এর প্রচেষ্টা ছিল । কাশ্মীর থেকে সেনা অপসারণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল ‘নিরাপত্তা পরিষদ’। কিন্তু কাশ্মীর-শান্তি প্রয়াসে, বাধা সৃষ্টি করল ‘রাশিয়া’। পাঠক-ব্ন্ধুরা অবশ্যই প্রশ্ন তুলবেন—রাশিয়া কেন, কীভাবে বাধা সৃষ্টি করল? নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে পাঁচটি দেশের মধ্যে ‘রাশিয়া’ও একটি দেশ (অন্যান্য দেশগুলি হ’ল চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র ।) এই পাঁচটি দেশের ‘ভেটো’(VETO) প্রয়োগ করার অধিকার দেওয়া হয়েছে । অর্থাৎ নিরাপত্তা পরিষদের কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়, এই পাঁচটি দেশের কোনও একটি দেশ আপত্তি জানালে তা’ কার্যকর হবে না । রাশিয়া সেই ‘ভেটো’ প্রয়োগ করার জন্য, কাশ্মীরী জনগণের জীবনে আবার অশান্তির আগুন ছড়িয়ে পড়ে । এখানে ভারত-পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠে আসা অস্বাভাবিক নয় । রাশিয়ার ‘ভেটো’ প্রয়োগে কাশ্মীরে 'গণভোট' রসাতলে যাওয়ায়, ভারতের প্রতিক্রিয়া কী ছিল ? ভারত, এই রাজনৈতিক খেলায় রাশিয়াকে অভিনন্দনসহ কৃতজ্ঞতা জানায় । আর, কাশ্মীরের গণভোটের সপক্ষে পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টা নিষ্ফল হওয়ায়, করুণাময় ও সর্বশক্তিমানের কাছে আন্তরিক প্রার্থনা জানাল, কাশ্মীরীদের জন্য ! আর তখন থেকেই জেহাদের প্রশ্ন জেগে ওঠে কাশ্মীরীদের মনে । এক্ষেত্রে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থনে, সহযোগিতায় পাকিস্তানের ভূমিকা অনস্বীকার্য । তৈরি হ’ল মুক্তিকামী দল ‘হিজবুল মুজাহিদ্বীন, জামাত-উল-মুজাহিদ্বীন, আল্লাহ টাইগার্স, জম্মু-কাশ্মীর স্টুডেন্ট লিবারেশন ফ্রন্ট, ইকওয়ালুল্ মুসলেমীন প্রভৃতি ।
একটা বিষয় নিয়ে আমরা লেখক-পাঠক বন্ধুদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে পারি—তা’ হ’ল ‘ভেটো’ প্রয়োগ । রাশিয়া কেন কাশ্মীর গণভোটের বিরুদ্ধে ‘ভেটো’ প্রয়োগ করল?
আমাদের এই উপ-মহাদেশে রাশিয়া একটি শক্তিশালী দেশ । রাশিয়া কখনও চায় না যে আমেরিকার মতো শক্তিশালী দেশ, কাশ্মীর-সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসুক । ‘গণভোট’ হলেই আমেরিকা, কাশ্মীর ও পাকিস্তানের বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে, এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করবে । এই আশঙ্কায় রাশিয়া ‘ভেটো’ প্রয়োগ করেছিল । অন্যদিকে ভারত ‘ভেটো’ প্রয়োগে খুশি হয়েছিল, কাশ্মীরের মাটি আঁকড়ে ধ’রে থাকার জন্য । ‘গণভোট’ হলেই তো কাশ্মীর ভারতের হাতছাড়া হয়ে যাবে । তাই ছলে-বলে-কৌশলে ‘গণভোট’ যাতে না হয়, তার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে । আর সেই কাজটা যখন পরম বন্ধুর মতো রাশিয়া করল, ভারত জয়ধ্বণি দিল, বন্ধুদেশ রাশিয়াকে ধন্যবাদ, অভিনন্দন, কৃতজ্ঞতা সবই জানাল । একটি স্বাধীন দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষদের জীবন নিয়ে কী ছিনিমিনি খেলা চলছে, ভাবতেও কষ্ট হয় ! প্রতিদিন কাশ্মীরী মা-ভাই-বোনেরা যেভাবে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, তার বর্ণনা দেওয়া-- আমার মতো অতি সাধারণ লেখকের পক্ষে সম্ভব নয় । আমার প্রিয় পাঠক-বন্ধুরা যদি এবিষয়ে নিরপেক্ষভাবে এগিয়ে আসেন, তাহলে আমাদের লেখনীর পথ, হয়তো একদিন সত্যের আলোয় আলোকিত হবে ! ...(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১১:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




