somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুপার সপে কেনাকাটায় সতর্ক হই

১৩ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকা তে সুপার সপগুলোয় কেনাকাটা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পন্যের মান ভাল, দামাদামীর ঝামেলা নেই, ভালো পরিবেশে কেনাকাটা করার জন্য অনেকেই এখন আমরা সুপার সপ গুলোর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। আমরা যারা সুপার সপগুলোতে কেনা কাটা করি তারা কি কখনো রিসিপ্ট/ ইনভয়েস গুলো চেক করি? সম্ভবত করি না। অন্তত আমি করতাম না।

আমি একটি অভিজাত সুপার সপ থেকে নিয়মিত কেনা কাটা করি। সপ্তাহ তিনেক আগের ঘটনা। নতুন স্বাদের চায়ের টি-ব্যাগ প্যাক দেখে দামটা দেখলাম। রিজনেবল মনে হওয়ায় অন্যান্য পন্যের সাথে ঝুড়িতে রাখলাম। বাসায় ফিরে পকেট থেকে রিসিপ্ট টি ফেলে দেয়ার সময় ‘মেম্বার শীপ পয়েন্ট’ দেখার জন্য চোখ বুলাতে গিয়ে চোখে বাধলো চায়ের দাম প্যাকেটের গায়ে লেখা দামের তুলনায় ২০ টাকা বেশি রাখা হয়েছে, বাকি গুলো দেখলাম দাম ঠিক আছে। সুতরাং ভুল হতেই পারে ভেবে বাদ দিলাম। পরের সপ্তাহের বাজারের পর রিসিপ্ট টি খেয়াল করে দেখলাম এবং একটি পন্যে প্যাকেটের গায়ে লেখা দামের তুলনায় ১৮ টাকা বেশি লেখা হয়েছে দেখলাম।

পরপর দুইবার ভুল হওয়াটা ঠিক স্বাভাবিক না, তবু মেনে নিলাম। ৩য় দিনের রিসিপ্টে একটা পন্য ৫ কেজি কেনার পর ১০ কেজির বিল করা হয়েছে দেখে আমাকে কাউন্টারে যেতেই হলো। কাউন্টার থেকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে দুঃখ প্রকাশ করা হলো এবং সমাধান হিসাবে আমাকে টাকা ফেরত না দিয়ে বাকি ৫ কেজি পন্য ধরিয়ে দেয়া হলো! ‘স্যার, এটি রেকর্ড হয়ে গেছে। এখন টাকা ফেরত দেয়াটা খুব ঝামেলা হয়ে যাবে!” মেনে নিলাম। এরপর আর সেখানে কেনাকাটা করতে যাওয়া হয়নি।

প্রতিবারের ভুলটা হচ্ছে অনেক গুলো আইটেমের ভেতর শেষের দিকের একটায়। পরপর তিন সপ্তাহে একই ব্যাক্তির রিসিপ্টে ভুল হওয়া কতটা অনিচ্ছাকৃত সে ব্যাপারে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

এই লেখাটা পড়ার পর আরেকজন জানালেন তার অভিজ্ঞতা। তিনি ৮০০ টাকা দামের একটা টেডি কেনার পর বাড়িতে ফিরে দেখেন ইনভয়েস করা হয়েছে ১১৫০ টাকা। একবার তিনি একটি পন্য ব্যাগে পাননি কিন্তু ইনভয়েসে ছিল। পন্যের সাথে কোন ফ্রি বা গিফট থাকলে সেগুলোও পাওয়া যায় না এই অভিযোগ পুরানো।

অধিকাংশ ব্যবসায়ীই ভালো। তবে বেশ কিছু ব্যবসায়ী এখনো ব্যবসা এবং চুরি, এই দুটো জিনিসের ভেতর পার্থক্য করতে পারেনা। একদিন তারা নিশ্চই এই পার্থক্য টা করে ফেলবে। আমরা যদি সচেতন হই সেই দিন টি খুব তাড়াতাড়ি চলে আসবে নিশ্চিত। তার আগ পর্যন্ত নিজেদের পকেটের ব্যাপারে নিজেরা সচেতন হই।



নোটঃ এই লেখাটির উদ্দেশ্য কোন ভাবেই কোন ব্যবসার ক্ষতি করা নয়। ক্রেতা হিসাবে নিজেদের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভালো ও খারাপ ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে পারাটা নিজের এবং অন্যের জন্যও জরুরী।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১:১৩
১১টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাকি সংস্কৃতির লোকদের কারনে আমাদের জাতিটা দাঁড়ানোর সুযোগই পেলো না। (সাময়িক )

লিখেছেন সোনাগাজী, ২০ শে জুলাই, ২০২৪ ভোর ৬:৩৫



ভারত বিভক্তের সময় হিন্দু মুসলমান সম্পর্ক ভয়ংকর দাংগার জন্ম দিয়েছিলো; দাংগার পর হওয়া পাকিস্তানকে মুসলমানেরা ইসলামের প্রতীক হিসেবে নিয়েছিলো, পুন্যভুমি; যদিও দেশটাকে মিলিটারী আবর্জনার স্তুপে পরিণত করছিলো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামাত-শিবির-বিএনপি'এর বাসনা কিছুটা পুর্ণ হয়েছে

লিখেছেন সোনাগাজী, ২০ শে জুলাই, ২০২৪ বিকাল ৪:০৮



বিএনপি ছিলো মিলিটারীর সিভিল সাইনবোর্ড আর জামাত ছিলো মিলিটারীর সিভিল জল্লাদ; শেখ হাসনা মিলিটারী নামানোতে ওরা কিছুটা অক্সিজেন পেয়েছে, আশার আলো দেখছে।

জামাত-শিবির-বিএনপি অবশ্যই আওয়ামী লীগের বদলে দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বর্তমান পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে সুস্থ ও স্ট্র্রং থাকার কোন উপায় জানা আছে কারো?

লিখেছেন মেঠোপথ২৩, ২০ শে জুলাই, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৪৯



১১৫ জনের মৃত্যূ হয়েছে এখন পর্যন্ত ! দূর বিদেশে আরেক দেশের দেয়া নিশ্চিন্ত, নিরাপদ আশ্রয়ে বসে নিজ মাতৃভুমিতে নিরস্ত্র বাচ্চা ছেলেদের রক্ত ঝড়তে দেখছি। দেশের কারো সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×