-ছেলের নাম কি বললা?
- স্যার মামুন।ভার্সিটিতে পড়ে।ফাইনাল ইয়ার।বাড়ি লালমনিরহাট।এখানে মেসে থাকে।
-ও আচ্ছা।ছেলে কেমন?
-ছেলে ভালো।তবে সিগারেটের নেশা আছে।
-ছেলের বাবা কি করে?
-ছেলের বাবা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান।পরপর দুই বার।
-নিতুর সাথে কতদিন যাবত সম্পর্ক?
-৩ বছর।
আলতাফ সাহেব দাঁত কিড়মিড় করে বললেন-হারামজাদা।তিন বছর রিলেশন করে অন্য মেয়েকে বিবাহ!তোর বিয়ে করার শখ আমি গুহ্যদ্বার দিয়ে ঢুকিয়ে দিব।সারাজিবন পাছায় বিবাহ নিয়ে ঘুরবি।
আলতাফ সাহেবের মাথা গরম হয়ে গেছে।তিনি খুব ই শান্ত স্বভাবের মানুষ।তার মাথা সহজে গরম হয় না।মাথা গরম হলে তার যুক্তি ঠিক থাকে না।এই জিবন তিনি বিবাহ ঢুকিয়ে দেয়ার চিন্তা করছেন।আশ্চর্য্যের ব্যাপার তিনি এটা কল্পনাও করতে পারছেন যে একজনের পিছন দিক দিয়ে বিবাহ লেখাটা ঢুকানো হচ্ছে।সে চিৎকার করছে।
মাথা গরম হলে তিনি কিছুক্ষন চোখ বন্ধ করে থাকেন।এতে মাথা ঠান্ডা হয়।তার পাশে সোহেল চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে।এইসময় সে কথা বলবে না।রাগের সময় কথা বলতে হয় না এটা সোহেল খুব ভালো করেই জানে।সে বুদ্ধিমান ছেলে।আলতাফ সাহেব তাকে এই বুদ্ধির জন্যই খুব পছন্দ করে।
-যার সাথে মামুনের বিয়ে ঠিক হয়েছে তার বৃত্তান্ত কি?
-মধ্যম পর্যায়ের সুন্দরী।একই ভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।
-মামুন কি নিজ ইচ্ছায় বিয়ে করছে?
-না।তার বাবার ইচ্ছায়।তার বাবা রাগী মানুষ।
-রাগ শুধু ওনার নেই।রাগ আমার ও আছে।আমার রাগ এবার সে দেখবে।
-কি করবো স্যার?
আলতাফ সাহেব চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন।এটা একটা সংকেত।তিনি মুখে সরাসরি কিছু বলেন না।সোহেল বুঝে গেছে তাকে কি করতে হবে।
যেতে যেতে ঘাড় ফিরিয়ে আলতাফ সাহেব বললেন-"আমি যে আমার মেয়েকে খুব ভালোবাসি এটা কি তুমি জানো?"
-জ্বী স্যার।জানি।
-না।জানো না।
আলতাফ সাহেব চোখ মুছলেন।তার একমাত্র মেয়ে নিতু গত তিনদিন ধরে কিছু খাচ্ছে না।সন্তান না খেয়ে থাকার মত কষ্ট বাবা মার কাছে অন্য কিছুতে নেই।এজন্য বাবা মা যে কোন কিছু করতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ৯:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





