ভার্সাই নগরীতে কবির নিভৃত জীবন যাপন, মগজে কপোতাক্ষ। লিখলেন, “দুগ্ধ স্রোতরূপী তুমি, মাতৃভূমি স্তনে”। পৃথিবীর আলোতে এসেই মাতৃদুগ্ধ পান। অপরিশোধ্য ঋণ। দেবতাদের স্বর্গ-সভায় কবি বর চাইলেন, আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে, অন্নদা মঙ্গলে’র কবি-ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। দুধ ছিল, ছিল ভাতও ঢ়েড়। “ত্যামুন দিন কবে আসবেক গ?”
আমাদের “মা”। তাঁর সন্তানদের জন্য যথেষ্ট দুধ নেই আজ, হাহাকার-আর্তনাদ। সন্তানের আর্তনাদে মায়ের মন কেমন থাকে বলো? মায়ের নাম বাঙলাদেশ। জনম দুখী। কবি এলেন স্বপনে, “দুগ্ধ স্রোতের নদীগুলো বাঁচাও”-বলে কোথায় যেন মিলিয়ে গেলেন!
রণাঙ্গনের সেপাই কবি’র হৃদয়ে সুর, “বহে নিরবধি, বুকে শত নদী/চরণে জলধির, বাজে নূপুর”।
কোথায় সেই কলকল ধ্বনি! সুর নেই আজ, ব-দ্বীপ বাসীদের জীবনে। পঞ্চকবির একজন-দিজেন্দ্রলাল, প্রভাতে গাইলেন, এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি।
ধানসিঁড়িটি বুজে যায়, তাই হয়তো নির্জনতার কবি জীবনানন্দ আর ফেরে না অভিমানে। কথা দিয়েছিলেন, আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে, এই বাঙলায়।
গুরু গাইলেন, “মাগো কি আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে”। কঁচি কলাপাতার মত সেই আঁচল আজ কই?
জালালি কবুতর উড়িয়ে দিলেন শাহা পরান সুরমার তীরে, গৌড়গোবিন্দের নগরে। ৩৬০ আউলিয়ার দেশের সুরমা কি তবে হবে আজ বিস্তীর্ণ চর?
বাউল আব্দুল করিমকে দেখেছি কবি সভায়। সুরমা মাখা চোখে ইতি-উতি চায়, কী সুন্দর! বাউল কি জানে, তাঁর প্রাণের সুরমা শুকায় বলে!
বলেছি, টিপাইমুখে বাঁধ নয়, এ শত-সহস্র মানুষের গলায় বাঁধ। দাও, আরো দাও.. হায়না কি আর মানুষের কথা শুনে? কিন্তু জবাব একদিন মেলবেই। সময়ের প্রয়োজনে। শুধু জেনো, খাণ্ডবদাহনের শুরুও হয় একটি দেশলাইয়ের কাঠি থেকেই।
সংশয় অনেকের। কী হবে দাঁড়িয়ে? জানি, হয়তো কিছু্ই হবে না। কিন্তু তোমার দায় কোথায় বন্ধু! দায় থেকে মুক্তি মেলে কি সহজে? এসো দাঁড়াই, মাতৃদুগ্ধের জন্য, মায়ের জন্য।
রউফুল, স্টকহোম
১ ডিসেম্বর, ২০১১ খ্রী.
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



