somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মফস্বল শহরের পড়াশোনা ও শিক্ষকের দৌরাত্ব্য

০৩ রা এপ্রিল, ২০১২ দুপুর ১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুরুতে এ বছর শুরু হয়ে যাওয়া এইচ এস সি পরীক্ষার্থীদের জন্য শুভ কামনা রইল। উচ্চ মাধ্যমিকের সময়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের প্রস্তুতির ভিত্তত্তেই রচিত হয় তার পরবর্তী শিক্ষা ও কর্ম জীবন। তাই সময়টা অনেক প্রতিযোগীতাপূর্ন। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের জন্য। কিন্তু এই প্রতিযোগীতায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মফস্বল শহরগুলোর ছেলে মেয়ে পিছিয়ে পরে। তার অনেক রকম কারন আছে। আমি নিজে মফস্বল শহর সিরাজগঞ্চে লেখাপড়া করেছি, সেই অভিজ্ঞতা থেকে কারন গুলোর দু-একটা চিত্র তুলে ধরছি। এখানকার ছেলে-মেয়েরা এস এস সির শেষ পরীক্ষাটা দিয়েই যায় কলেজের স্যারদের কাছে। তাদের ধারনা ইন্টারমিডিয়েটে সময় খুব কম আগের থেকেই না পড়লে নাকি ভালো করা যাবে না। শুরু আগাম প্রাইভেট পড়া। একেকটা শিক্ষক ৫-৬ টা ব্যাচ তৈরি করেন। প্রতি ব্যাচে ছাত্র সংখ্যা ৫০-৬০ জন। একেকটা ব্যাচ যেন একটা করে মিনি কলেজ। এই শিক্ষকদের একটা চক্র আছে। প্রতিটা বিষয়ের শিক্ষক মিলে একটা চক্র তৈরি করেন। এক জনের কাছে ছাত্র এলে অন্য বিষয়ের জন্য চক্রের আরেকজনের কাছে পাঠিয়ে দেন। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলছে তাদের ব্যবসা। তাদের আয়ও প্রচুর। মাসে লাখ খানেক। এরা মুলত স্থানীয় শহরেরই মানুষ। কখনও বদলি হন না বা হলেও ঘুষ দিয়ে আবার ফিরে আসেন। ছাত্ররাও তাদের কাছে যায় বিভিন্ন কারনে যেমনঃ বি সি এস ক্যাডার, নামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া করা, হ্যান্ড-নোট দেন, অনেক মজা করেন স্যার, যদি এই কলেজ ভর্তি হই তাহলে স্যারদের সু-দৃষ্টি পাব ইত্যাদি। আমাদের মত যারা গ্রাম থেকে কলেজে ভর্তি হয়ে ক্লাস শুরুর সময় আসে, তাদের তো চোখ কপালে উঠে যায় কারন বাকি ছাত্রদের অর্ধেক সিলেবাজ শেষ। কলেজে বছর ধরে মারামারি ও বন্ধের কারনে ক্লাস হয়না। যেকয়টা দিন তাতে সিলেবাজ শেষ হবে না। তাই ছাত্রদের প্রাইভেট পড়তেই হই। আর সেই সুযোগে শিক্ষকরা কলেজকে মিডিয়া হিসেবে ব্যবহার করেন। প্রথম যখন ক্লাস শুরু হয়, তখন তাদের লেকচার দেখে মনে হবে এটা কোন পন্যের বিজ্ঞাপন বা কোন মুভি রিলিজের আগে তার প্রমো। একটা অংক করে তারপর ছাত্রদের বলবেন দেখ আমার মত করে এত ভাল করে এই শহরে আর কোন শিক্ষক বুঝাতে পারবে না। অতএব আমার কাছেই পড়। এছাড়া নিজের আরও গুনগান। তাদের কাছে পড়ার আরো সুবিধা কলেজে ক্লাস না করলেও কোন ঝামেলা হবে না পরীক্ষার আগে অ্যাডমিট কার্ড আটকাবে না ইত্যাদি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল এই শিক্ষকরা কখনও বই পড়ান না। বই পড়ানোর মত সময় তাদের হাতে নাই। বিগত বিভিন্ন বোর্ডে আসা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো নিয়ে তৈরি করা আছে তাদের হ্যান্ড নোট। তাই ছাত্রদের গলাধকরন করান। ছাত্ররাও আর জীবনে মুল বইটি খুলে দেখে না। যার কারনে কলেজ থেকে প্রতি বছর বস্তা বস্তা এ প্লাস পেলেও মেডিকেল-পাবলিক বিশ্ববিধ্যালয়ে চ্যান্স পাওয়ার হার খুব কম।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×