somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রেজওয়ান26
আমি একজন ব্লগার হিসাবে সামুর সাথে ২০১৩ সাল থেকে আছি কিন্তু ২০১৪ সালের শেষের দিক থেকে আমার লেখা প্রথম পাতায় যায় না (২০১৫ এর মাঝে ১ মাস বাদে)। আমি কিন্তু আবার একজন সেইফ ব্লগার!!!

লাইলাতুল মিরাজ: ঠান্ডা মাথায় পড়ুন, সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে জানুন

২৬ শে মে, ২০১৪ রাত ১০:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই লাইলাতুল মিরাজে মহানবী নভোমণ্ডল, বেহেশত-দোজখ ও সৃষ্টির বিভিন্ন রহস্য প্রত্যক্ষ করেন এবং পূর্ববর্তী নবীদের সাক্ষাৎ লাভ করেন৷ আসুন বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি ।

আজ সোমবার ২৬ রজব পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ। আখেরী নবী হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা (স) তাঁর জীবদ্দশায় হিজরি এ মাসের আজকের দিবাগত রাতে মহান আল্লাহর নির্দেশে মক্কা শরিফ থেকে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে সপ্তম আসমান পেরিয়ে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সাক্ষাৎ লাভ করে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসেন৷ প্রত্যক্ষ করেন সপ্ত আকাশ, বেহেস্ত, দোজখসহ আল্লাহর সৃষ্টিরহস্য। সপ্তাকাশে অবস্থানকারী নবী-রাসূলদের সাথে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন। ফেরেস্তা হজরত জীবরাইল (আ) কে দেখেন তার নিজ অবয়বে। আল্লাহর কাছ থেকে নিয়ে আসেন উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান। এ কারণেই হিজরি রজব মাসের ২৬ তারিখের রাতটি মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র৷

ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র এ রাতটি বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়৷ শবে মিরাজের এ মহিমান্বিত রাতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির-আসকার, দোয়া-দরুদ, মিলাদ মাহফিলসহ ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহ্ তাআলার অশেষ মেহেরবানি কামনা করা হয়ে থাকে৷

রাসূল (সা)-এর মিরাজ তথা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মহান কর্মটি ইসলামের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তাই রাতটি মুসলমানদের কাছে খুবই মর্যাদাপূর্ণ। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়।
বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায়, মিরাজের সঠিক তারিখ নিয়ে কিছুটা মতবিরোধ থাকলেও হিজরতের কয়েক বছর আগে ঘটে এ ঘটনা।

অধিকাংশ মত অনুযায়ী ২৬ রজব দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৭ রজব এশার নামাজের পরই ঘটে মিরাজের ঘটনা। মহানবী (সা.) এ রাতে প্রথমে কাবা শরিফ থেকে বোরাক নামের বাহনে যাত্রা করে ফিলিস্তিনের বায়তুল মোকাদ্দাস মসজিদে যান৷ সেখানে অন্যান্য নবী-রাসুলের সঙ্গে দুই রাকাত নফল নামাজে তিনি ইমামতি করেন৷ এরপর ঊর্ধ্বলোকে সফর শুরু করেন৷ তখন নবী সা: হজরত উম্মে হানির (রা) ঘরে শায়িত ছিলেন। জিবরাইল (আ) এসে তাকে ঊর্ধ্বাকাশে গমনে আল্লাহর নির্দেশনার কথা জানান। সাথে সাথেই শুরু হয় ভ্রমণ। তিনি প্রথমে বোরাক নামে একটি বাহনে মক্কা মোকাররমা থেকে পবিত্র মসজিদে আকসা যান। এই ভ্রমণে প্রতিটি আসমানে অবস্থানরত প্রধান ফেরেস্তাদের সাথে তার দেখা হয়। পরে বায়তুল মামুর নামক স্থানে ফেরেস্তাদের নিয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়েন। সিদরাতুল মুনতাহা নামক স্থানে পৌঁছে মহানবী সা:কে বহনকারী বোরাক থেমে যায়। জিবরাঈল (আ) ওই স্থানের উপরে যাওয়ার ব্যাপারে তার অপরাগতা প্রকাশ করেন। এরপর ‘রফরফ’ নামের আরেকটি কুদরতি বাহন এসে রাসূল সা:কে উপরের দিকে আরশে মোয়াল্লায় পৌঁছে দেন।

সেখানেই আল্লাহর সাথে রাসূল (সা)-এর দিদার তথা সান্নিধ্য লাভের ঘটনা ঘটে। সপ্ত আসমান পেরিয়ে তিনি আরশে আজিমে ধনুক পরিমাণ দূরত্বে থেকে মহান আল্লাহ পাকের দিদার লাভ করেন৷ সরাসরি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন হয়। নবুয়াতি দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা লাভ এবং আল্লাহর সৃষ্টি কৌশল অবলোকন করার পর ফজরের নামাজের আগেই তিনি আবার আল্লাহর সেই কুদরতি বাহনে ফিরে আসেন।

রাসূল (সা)-এর মিরাজ সশরীরে না আত্মিক হয়েছিল এ নিয়ে বিজ্ঞানী ও আলেমদের মধ্যে কিছুটা মতান্তর আছে। তবে অধিকাংশ আলেম ও ইসলামি গবেষকদের মতে, মিরাজ ছিল একটি বাস্তব ঘটনা। আল্লাহ তায়ালা বিশেষ ব্যবস্থায় এ কাজটি করিয়েছেন সশরীরেই।

যদি আত্মিক বা স্বপ্নেই এ ঘটনা ঘটত তাহলে এ নিয়ে এত আলোচনা বা একে স্বীকার-অস্বীকারের প্রশ্ন আসত না। কারণ তখন এ খবর প্রকাশ হওয়ার পর কাফের মুশরিকরা ঠাট্টা বিদ্রুপ করেছিল। স্বপ্নে হলে এ নিয়ে এত আলোচনা হতো না। তা ছাড়া পবিত্র কুরআনের সূরা বনি ইসরাইল ও সূরা নজমে রাসূল সা:-এর মিরাজের কথা পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। ফলে এ নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।

মহান সৃষ্টিকর্তা যে সবকিছু পারেন এটা খুব সহজেই বোঝা যায় এখানে ।

মহান আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে সত্য অনুধাবন করার তৌফিক দান করুন ।

আমিন


Click This Link

Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১৪ সকাল ৯:৪১
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×