এই মুহূর্তে সামরিক সরকার বাংলাদেশের জন্য হবে আশীর্বাদ স্বরূপ। কেউ কেউ হয়ত আমার কথাগুলো শুনে হাসবেন। কোন কোন গণতন্ত্রমনা হয়ত ভাববেন
এই পাগলের উদ্ভব আবার হলো কোথা থেকে?
কোন কোন ইসলামমনা হয়ত বলবেন,
চিরকাল স্লোগান দিলাম, "এই মুহুর্তে দরকার, ইসলামি সরকার " এই ব্যাটা আইসা বলে এই মূহুর্তে দরকার সামরিক সরকার!!
আজিব? এই ব্যাটা শ্বৈরাচারী। তবে ভাই কিছু মূলনীতি মাথায় রাখুন আলোচনায় মজা পাবেন।
মূলনীতি ১:আমিও আপনার মতই বাংলাদেশী নাগরিক। কি আমার জাতীয়তা' বাঙালি , বাংলাদেশী এই তর্কে নাই বা গেলাম।
মূলনীতি ২: আপনিও দেশকে ভালবাসেন, আমিও দেশকে ভালবাসি। তাই দেশ ও জণগণের কল্যাণে যেকোন ভাল প্রস্তাব তোলার অধিকার আমার আছে। তবে আমার উদ্দেশ্য সৎ থাকতে হবে।
এবার আসি মূল আলোচনায়,
স্যারের বেসে সেদিন খুব আলোচনা চলছিল শেখ মুজিব হত্যা নিয়ে। এর মধ্যে আমি খুচিয়ে খুচিয়ে আমাদের রাজনীতি অভিজ্ঞ স্যারদের কাছ থেকে ইতিহাস জানছিলাম আর পর্যালোচনায় অংশ নিচ্ছিলাম। ভালোই জমেছিল সেদিনের আলাপন। স্যারদের মতের ঐক্য আমি এক জায়গায় খুজে পেয়েছি(দুজন স্যারই হিন্দু ও কট্টোর আওয়ামী সমর্থক),
তাদের ভাষ্যমতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে বাকশালের কারণে হত্যা করা হয়নি। তার অন্যায়, অবিচার, দুঃশাসন, চুরি, লুটপাট, ডাকাতি, ছিনতাই, কোন কারণেই তাকে হত্যা করা হয়নি।
যদি তাই হতো তবে সেদিন কেন শেখ রাসেল কে হত্যা করা হল?
শেখ রাসেল তো শিশু ছিল। তবে সেদিন কেন গর্ভবতী নারীকে তার গর্ভস্থ সন্তান সহ হত্যা করা হল? সেই নারীতো অপরাধ করেনি? তার গর্ভে থাকা ছেলে তো অপরাধ করেনি...
ঐ দুই হিন্দু স্যারের ভাষ্যমতে ৭১ এর পরাজিত শক্তি মুজিবীয় আদর্শকে ধ্বংষের জন্যই ১৫ ই আগস্টের নির্মম হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।
তাদের মধ্যে আরেকটি বিশেষ জায়গায় মিল ছিল আর তা হল,
শেখ হাসিনা একজন শ্বৈরাচার। বাকশালী বা শ্বৈরাচারী অপবাদ দিয়ে শেখ মুজিবকে হত্যা করাটা অশোভনীয় হলেও, তাদের মতে শেখ হাসিনাকে হত্যা করলে তাদের আপত্তি নেই।
যাক তবে বোঝা গেল কট্টরপন্থী আওয়ামীলীগর' এটা স্বীকার করে যে শেখ হাসিনা একজন শ্বৈরশাসক।
এবার আসি, বাংলাদেশ পরিচালনায় একজন শ্বৈরশাসকের প্রয়োজন এখন বেশি, নাকি সামরিক শাসকের?
প্লিজ ভাই গণতন্ত্রের ঢোকগেলা কোন উদার ব্যাক্তি এখানে গণতন্ত্র চর্চা করতে আসবেন না। বাংলাদেশে কি গণতন্ত্র চর্চা হয় সেটাতো আমরা চাক্ষুস ই দেখেছি।
৫জানুয়ারি নির্বাচনের পূর্বকালীন ও পরবর্তীকালে টিভি টকশোতে খুব ফাটাফাটি গণতন্ত্র চর্চা হয়েছে।
ম্যাডাম জিয়ার বাড়ির পাশাপাশি what's app,viver এও আমরা বালুর ট্রাক ফালানোর মাধ্যমে গণতন্ত্রের চর্চা দেখেছি ও শিখেছি।
যাই হোক আলোচনার টার্নিং পয়েন্ট এখান থেকেই শুরু...
আমার ফুফাতো ভাই "ফ" আমাদের পটুয়াখালী চার আসনের অন্যতম "খিচুড়ি " ক্যাডার।
বেকার যুবক চাকরি নেই, শিক্ষা নেই।
বউ নিয়ে তবু দিব্যি সংসার চালাচ্ছে কোন অভাব অভিযোগ নাই।
তাকে একটি হাটের জিম্মাদারি দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকে তিনি টাকা পয়সা তুলে খেয়ে দেয়ে দিব্যি আরামে আছেন।
বিয়েটাও করেছেন অন্যের বউকে ছিনিয়ে।বেচার যুবক ঢাকা থেকে বউকে আনতে গিয়েছিল, কিন্তু ঠিক সেই সময়ে স্বামীর সামনে থেকে নবযৌবনা বউকে বগি, রান্দার বস্তি নৃত্য দেখিয়ে ছিনিয়ে নেয় আমার ফুফাতো ভাই "ফ"।
একটু ভাবুন কতটা নির্মম হতে পারে ঘটনাটা?স্বামীর সামনে বউকে ছিনিয়ে নিয়ে আবার তার সামনেই বিয়ে করা?
আরেকজন আছেন "ব" গাজী। আগে বিএনপি করতো। এক কেজি চাল কেনার টাকাও তার ছিল না। সে এসি বাড়ি করেছে। সুবিশাল মহল।
শুধু তাই নয় আমার এলাকার "খিচুড়ি " ক্যাডাররা এখন কোটি কোটি টাকা কামায় মাসে।
!
"জমি দখল, বাড়ি দখল, মেয়ে দখল,
সব কাজেই খবর দেওয়া হয় এই খিচুড়ি ক্যাড়ারদের। তাদের কি দাপট!!
এলাকার এমপি পর্যন্ত ভয়ে থর থর করে কাঁপে। পুরোটাই যেন এক সন্ত্রাস পাড়ায় পরিণত হয়েছে।যাদের হাতে কলম থাকার কথা ছিল তারা আজ মদের বোতল নিয়ে ঘুরছে..
কি আনন্দের কথা তাইনা?? :-p
যাই হোক আপনারা হয়ত খেয়াল করেছেন আমি কোথাও আওয়ামী ক্যাডার শব্দটি ব্যাবহার করিনি।
প্রত্যেক জায়গায় খিচুড়ি ক্যাডার শব্দটা ব্যাবহার করেছি। এর কারণ হল,
এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী স্পেসেফিক কোন দলের না।এরা বিএনপি নেতাদের ধাওয়া দেয় না। আবার আদরও করেনা।
যে তাদের অন্যায় কাজে বাঁধা তাকেই গায়েব করে দেয়। এখন তারা আছে আওয়ামী ছাউনিতে, যখন বিএনপি আসবে ক্ষমতায়, তখন এরা বিএনপির কাছে অর্থ সমর্পণ করে আবারো ৫ বছরের জন্য বগি, রান্দার লিস নিয়ে নেবে।
বলুন তো বন্ধু এখানে সন্ত্রাসী নির্মুলে একটা গণতান্ত্রিক সরকার কি ভূমিকা রাখতে পারবে?
"সর্বাঙ্গে ব্যাথা ঐষধ দিব কোথা?"
আসলেই আমাদের সমাজের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গুলোর এতটাই অবক্ষয় হয়েছে যেখানে social value শুধু paragraph এই পড়া যায়, বাস্তবে এটা কল্পনাও করা নিষেধ...
কিন্তু আমার মতে একটা দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সরকার পারে এই স্থবিরতা থামাতে।এট লিস্ট ৫ বছরের জন্য হলেও একটা পুরুষ শাসিত সামরিক সরকারের খুব দরকার।
ফখরুদ্দীন, মঈনুদ্দিন স্টাইলটাকে আরেকটু মোডারেট করে যদি একটু নিরপেক্ষ ভঙ্গিতে সমাজে আর্মিদের নামিয়ে দেওয়া হয়, তবে গজিয়ে ওঠা আগাছাগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।
আর এই পুড়ে ছাই হবার ভয়ে নতুন কোন আগাছা জন্মাবেনা। পাব্লিক তার অধিকার ফিরে পাবে। পাব্লিক ক্যাডারের ভয়ে ভীত থাকবেনা।রাত ১২ টাও বুক ফুলিয়ে রাস্তায় হাটবে। (যদিও আর্মির দৌড়ানি খাবার সম্ভাবনা আছে)।
আর এই সামরিক শাসনের সময়টা হল একটা সুবর্ণ সুযোগ, যারা আদর্শিক রাজনীতি করে তাদের জন্য।
সত্য, ন্যায়ের আদর্শকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে যেই দলটা এই সময়ের মাঝে একটা নৈতিক ও চারিত্রিক বিপ্লব ঘটাতে পারবে, পরবর্তীতে তারাই একটা গণবিপ্লবের নেতৃত্ব দিতে পারবে।
যেখানে সুমহান চরিত্রের ছাঁচে ঢালাই করা কিছু কর্মী থাকবে যারা ৭১ পরবর্তী মুক্তিযোদ্ধাদের মত অস্ত্র জমা না দিয়ে ঘরবাড়ি লুণ্ঠন করবেনা...
জনমানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য কাজ করবে।
কথা আর বাড়ালাম না,আকল মান্দ কে লিয়ে ইশারা কাফি হ্যায়...।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


