somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভ্যাটনামা

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অর্থমন্ত্রী বললেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের ৭.৫% ভ্যাট দিতে হবে’।

তাই শুনে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রবল বেগে গর্জে উঠলো। তারা বলল, “"No VAT, গুলি কর"। সত্যি সত্যি গুলি হল। অনেক তাজা রক্ত ঝড়ল। এই দেখে গোটা দেশ একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেল।

রক্তের মূল্য দিতে এবার মঞ্চে আসল এনবিআর। তারা কিছুটা স্বান্তনার সুরে বলল, “না না, ছাত্র-ছাত্রীগণ নয়, বরং ভ্যাট দিবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ”।

অর্থমন্ত্রী এবার ফোড়ন কাটলেন। তিনি বললেন, ‘বাদ দাও এনবিআর এর কথা। ভ্যাট আল্টিমেটলি ছাত্র-ছাত্রীদেরই দিতে হবে”। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে আরো যোগ করলেন, “বাবারা তোমরা সচেতন থাইকো। তোমরা আগামী বছরের জন্য প্রস্তুতি নাও, যেন ফি না বাড়ে’। মানে মানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষেপিয়ে তুললেন।

এই ডামাডোলে এবার যোগ দিলেন স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অর্থমন্ত্রীকে সাপোর্ট করে মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘টিউশন ফির উপর আরোপিত ভ্যাট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেওয়া হবে’।

তিনি কিছুটা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য সহকারে আরো বললেন, ‘এই যে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, ধানমণ্ডিতে এক বিল্ডিংয়ে কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়, গুলশানে এক ছাদের নিচে কয়েকটি। বড় বড় নাম, গালভরা বুলি। এদের কোনো একাউন্টিবিলিটি নেই।’ স্বয়ং মূল অভিভাবক তথা সরকার প্রধানের এহেন কথা শুনে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া প্রায় সাড়ে তিন লক্ষাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের দিলে বড়ই চোট লাগল।

ওদিকে মাল সাহেব কিন্তু থামলেন না। তিনি কথা চালিয়ে যেতে লাগলেন, ‘আমি একটি হিসাব করে দেখেছি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর প্রতিদিন খরচ হয় এক হাজার টাকা। এটা তার ফি, বইয়ের খরচ, লাইব্রেরি ফি, খাওয়া-দাওয়াসহ। আমি সেখান থেকে কত চেয়েছি? মাত্র ৭৫ টাকা’। [এই কথার সুত্র ধরে ‘৪০০০ কোটি টাকা কিছুই না’ এর মিল খুজে পেলে আমার কিছু করার নেই]।

একদা ইংরেজী সাহিত্যের তুখোর ছাত্র অর্থমন্ত্রী মহোদয় আরো বললেন, ‘রাজস্ব বাড়াতে বিভিন্ন জায়গায় খোঁচা দিতে হয়। তেমনই একটি হচ্ছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপ।’ ল্যাও ঠ্যালা!

এসব বাতচিত শুনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীগণ ভাবলেন, ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’। তারা প্রবল বেগে মাথা নেড়ে বললেন, ‘আন্দোলন, আন্দোলন, আন্দোলন’।

ফলাফল, দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলো, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা প্রায় অচল হতে বসেছে। মনে হচ্ছে, সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বড্ড উইক মনে করেছিল। তাদের সম্মন্ধে যথেস্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ না করেই হঠাত করে এক হঠকারী সিদ্ধান্ত দিয়ে বসেছে তারা। তারা হয়ত ধারণাও করতে পারেন নাই এর প্রতিক্রিয়া এমন তীব্রতর হতে পারে।

দেশে এখন মোট ৮৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। শহরের প্রায় সকল প্রান্তে এদের অনেকের আবার একাধিক ক্যাম্পাস আছে। একবার ভাবুন ত, সকল ক্যাম্পাস থেকে যদি একযোগে তারা রাস্তায় নামে অবস্থাটা কি হবে? পুলিশ কয় জায়গায় ঠেকাবে? আর একটা ব্যাপার হলো, সব সময় ‘ইনডোর ক্যাম্পাসের স্টুডেন্টস’ বা ‘রাজনীতিমুক্ত’ বলে পরিচিতরা আজ ‘আউটডোর’ এ চলে এসেছে। দাবী আদায়ে গোটা ঢাকা শহরকে তার অনেকটা সেক্টরের আকারে ভাগ করে আন্দোলনে নেমেছে। রামপুরা বা আফতাবনগরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ওই এলাকার রোড ব্লক করে দিচ্ছে, ধানমন্ডিরগুলো মিরপুর রোড, বনানী-উত্তরারগুলো এয়ারপোর্ট রোড ব্লক করছে। তাদের আটকাবেন কিভাবে? আর প্রায় সাড়ে তিন লক্ষাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের এতবড় একটা কমিউনিটিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়ে সরকারের কি লাভ। মাঝখান দিয়ে মাত্র ২৫০-৩০০ কোটি টাকার জন্য হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে।

অবশ্যই তাদের দাবী যৌক্তিক। সমাজের প্রায় সকল স্তরের মানুষ তাদের সাথে আছে। যখন কেউই ভ্যাট দিচ্ছে না তখন শুধু বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কেন দিবে? এটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চরম অবিচার ও বৈষম্যমূলক আচরণ। তারা কি এ দেশের নাগরিক নয়? আইন/অধিকার সবার জন্য সমান।

সরকারের উচিত অযথা গোয়ার্তুমি না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভ্যাট প্রত্যাহার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের ক্যাম্পাসে ফিরে যেতে দেয়া।

সবাইকে ধন্যবাদ।

নোটঃ উদ্ধৃতিগুলো বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সরাসরি কাস্ট-পেস্ট করা হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:১৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×