১০৯০ খ্রিস্টাব্দে চরম হঠকারী শিয়া নিজারী ইমাম হাসান-আল সাব্বাহ'র অনুসারীরা ইসলামের ইতিহাসে গুপ্তহত্যার সূচনাকারী হিসেবে পরিচিত হয়ে আছেন। তার এই অনুসারীদের বলা হত Hashishin। Hashishin থেকেই গুপ্তহত্যাকারীর ইংরেজী প্রতিশব্দ Assasin এসেছে। এদের প্রধান দুর্গ ছিল আজকের ইরানের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে, কাজভিনের নিকটে। দুর্গটির নাম ছিল আলামুত বা ঈগলের বাসা।
লোয়ারের যুগ হলেও তাদের প্রধান অস্ত্র ছিল ছোরা আর ড্যাগার। এই নিয়েই গোটা মুসলিম দুনিয়ায় চরম আতংক সৃষ্টি করেন এই ভাংখোরের দল। গুপ্তহত্যাকে তারা এক শিল্পের পর্যায়ে নামিয়ে এনেছিল। মূল অপারেশনে যেত ফিদাই নামের তিনজনের এক মারাত্বক, ভয়ংকর দল। বলাই বাহুল্য, তারা খুব কম সময়ই ব্যর্থ হত।
হাশীশীনদের প্রথম শিকারে পরিণত হন ইসলামের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম শিক্ষানুরাগী, বিখ্যাত নিজামীয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা, সেলজুক সাম্রাজ্যের মহান উজির নিজামুল মুলক। এদের আক্রমণের হাত থেকে সুলতান সালাদিন, রিচার্ড দ্যা লায়নহার্টও রেহাই পাননি। দিনে দিনে অপ্রতিরোধ্য আর দুর্দমনীয় এক শক্তিতে পরিণত হয় তারা। তাদের শায়েস্তা করার জন্য বহু অভিযান পরিচালনা করেও তেমন লাভ হয়নি।
তবে হাশীশীনদের শেষটা ছিল বেশ বিস্ময়কর। ১২৫৬ সালের দিকে মোঙ্গল এক সেনাপতিকে খুন করার প্রতিশোধ নিতে মোঙ্গলরা হাশীশীনদের দুর্গগুলোতে অভিযান চালায় এবং তাদের সমূলে উৎপাটিত করে। পোকা-মাকড়ের মতো খুঁজে খুঁজে এদেরকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে ১২৭২ খ্রিস্টাব্দে মামলুক সুলতান বাইবার্সের শেষ আঘাতে গুপ্তহত্যাকারীরা একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে এখানে-সেখানে ছড়িয়ে পড়ে। কিছু ভারতেও আসে যারা মাওলা বা খোজা নামে পরিচিত ছিল। ফলে প্রায় দুইশ বছরের বিভীষিকাময় এক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে।
হাশীশীনদের নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব হলেও তাদের গুপ্তহত্যা নামের এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকে নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব হয়নি। বিংশ-একবিংশ শতাব্দীতে গুপ্তহত্যা নামের এই বিচারবহির্ভূত অন্যায়কে ন্যায়ের রূপ দেয়ার চেষ্টা চলেছে এবং চলছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ভয়ানক সমস্যার নাম এই গুপ্তহত্যা। প্রায় প্রতিদিন কেউ না কেউ গুপ্তহত্যার স্বীকার হচ্ছেন। চরম আতঙ্ক গ্রাস করেছে দেশের সাধারণ মানুষকে। সরকারের প্রতি অনুরোধ, দানবে পরিণত হবার আগেই এই গুপ্তহত্যাকারীদের থামান।
সবাইকে ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১৬ বিকাল ৫:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



