somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তাঁরা এখন আসেন না কেন?

১৩ ই জুলাই, ২০১৬ দুপুর ১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর জন্ম 1820 সালে! 1824 এ আসেন মহাকবি মধুসূদন। 1861 এ হৃদয়ের রবীন্দ্রনাথ। 1899 তে বিদ্রোহী নজরুল আসার আগ পর্যন্তও এই বাংলায় গুণের কোন কমতি থাকেনি। 1899 পরবর্তী সময়েও আমরা সৃষ্টিশীলদের সান্নিধ্য যথেষ্ট পেয়েছি। জসীমউদ্দিন, মানিক বন্দোপাধ্যায়, জীবনানন্দ দাশ, ফররুখ আহমদ, সুকান্ত ভট্টাচার্য আরও অনেকে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো এখন তাঁরা আসেনা কেন? বিশেষ করে 1990 পরবর্তী সময়ে। যদিও 1970 এর পরেই এই লাইনে ভাটা পরতে থাকে কিন্তু নজরুলকে জীবিত পেয়ে তা বুঝার চেষ্টা করিনি। অবশ্য কাজী নজরুল অনেক আগেই বাকশক্তি হারিয়েছিলেন।

শুনেছি রবীন্দ্রনাথ স্কুল পালাতেন (আমি কিন্ত আবার বলছিনা যে স্কুল পালাও, রবীন্দ্রনাথ হওয়ার গ্যারান্টি সরকার দেবে)। তখনকার শিক্ষাব্যবস্থা আর এখনকার মধ্যে যে খুব ফারাক তা বলা যায়না। প্রমথ চৌধুরী বা রবীন্দ্রনাথ নিজেও তখনকার ঐ ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করতে করতে তাদের মুখের ফেনা তুলেছেন। আসল কথা যেটা, তখন তাদের স্বাধীনতা ছিল। আরও বলতে গেলে স্বাধীন হওয়ার জন্য যেই অনুপ্রেরণা দরকার তা ছিল।

রবীন্দ্রনাথ যখন স্কুল ফাকি দিয়ে গাছতলায় বসে থাকতেন, নিশ্চয়ই তার সৌন্দর্য পিয়াসী চোখে কত কিছু ধরা পড়ত। খোলা আকাশ, তার মাঝে পাখি উড়ে যাচ্ছে, পানিতে হাস ডিগবাজি দিচ্ছে, ছোটরা ঘুড়ি উড়ানো নিয়ে একে আরেকজনের নাকে কামড় বসিয়ে দিচ্ছে।

যাই হোক! এতকিছুর পরও একজন মানুষের চার দেয়ালে বন্দী থাকার বাসনে মনে থাকে কিভাবে?

এখন ধরুন বর্তমান একটা স্টুডেন্ট স্কুল ফাকি দিয়ে গাছতলায় বসেছে। সে কি দেখবে?

হয়তো একটা লোক চেঁচাচ্ছে,

"ঐ হাগু করলে ফাছ ট্যায়া আর হিসু করলে দুই ট্যায়া"

বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড এর থোতায় চিমটি দিয়ে ধরে রাখছে, ছাত্ররা ব্যাগ নিয়ে ছুটাছুটি করছে, শিক্ষক ব্যস্ত প্রশ্ন ফটোকপি করায়, পাড়ার বড়ভাইরা ব্যস্ত ছোটভাইদের শাসাতে, বাবা ব্যস্ত টাকা কামিয়ে বাড়ি বানাতে, মা ব্যস্ত 50 টাকার শুটকি 20 টাকায় আনতে! খোদা!

রবীন্দ্রনাথরা দেখেছিলেন সবুজ লতার উপর আরেক সবুজ লতার নীরবে বয়ে যাওয়া, কোন কৃষ্ণকলির কলসি কাঁখে ঘরে ফিরে যাওয়া, ধবল ধেনুর মাঠ ঘুরে বেড়ানো।

এখন কি দেখবে? ফর্মালিনের বেগুন ফর্মালিনের কলাকে কাতুকুতু দিচ্ছে, কৃষ্ণকলি পার্লার এ গিয়ে ফুলকলি হয়েছে, তার চেহারায় মায়ার বদলে খাটাশ খাটাশ ভাব এসেছে, ধেনু হয়তো ঠিকই মাঠে ঘুরে ফিরবে কিন্তু এনথ্রাক্স এর ধেনু! খাইসে!

"ঠিকাছে বুঝলাম মিয়া! কিন্তু অহন কথা যেইডা কথা হেইডা না! কথা হইল নজরুল আসে না কেন?"

আরে ভায়া নজরুল কি সহজ জিনিস? বলিষ্ঠ দেহের ঐ বিদ্রোহী কি কম পাগলাটে ছিল? ঘরজামাই হওয়ার কথা শোনায় বিয়ে বাড়ি থেকে সোজা প্রস্থান করেছিলেন ঐ কাজী নজরুল।

কিন্তু এখন কাউকে এই স্বাধীনচেতা মনোভাবের পাবেন কিভাবে? নজরুল হওয়ার সবচেয়ে বড় উপায় হলো মুক্ত ঘুরাফেরা। কিন্তু এখন স্পেস কোথায়?

বাবা মারা তো এখন সন্তানকে খাইয়ে খাইয়ে কোরবানীর খাশির মতো না বানানো পর্যন্ত শান্তি পান না। আমার মতে এখনকার বাঙ্গালি ঘরে সন্তান মেয়ে হোক ছেলে হোক, বাবা মায়েরা তাদের শুধু মেয়ের মতোই ট্রিট করে। তাদের প্রধান ডিউটি এখন সন্তানদের বাইরে যেতে বাধা দিয়ে "সঙ্গদোষে লোহা ভাসে" 'র খপ্পরে না পড়া। সন্তানকে ভালো মন্দের বিভেদ না বুঝিয়ে তারা তাদেরকে ঘরে বসিয়ে রাখাকেই সহজ আর নিরাপদ মনে করেন। তাছাড়া সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি তো তাদের সাথে তালই মিলাচ্ছে।

সূর্যাস্তের আগে ঘরে ফিরে আসার আদেশ সবসময় সব বাঙ্গালি মায়েরাই দিয়েছেন। কিন্তু আগে অন্য উপায় ছিল। বনে জঙ্গলে বা অন্ধকারে পা বাড়ালেই ঘরকে বহু পিছনে ফেলে আসা যেত। নিজের সাজে সাজা যেত।

এখন অন্ধকারে পা বাড়াতে চান? "বাপরে বাপ! দেশে যেই বিল্ডিং হইসে, এক ঠুয়া খাইলে কপালও ভাংবো, মাজার হাড্ডিও ভাংবো!"

দেশে অন্যায় হচ্ছে ঠিকাছে, কিন্তু তা তো নতুন প্রজন্মকে দেখাতে হবে। আপনি যদি একজন মানুষের গবেট হয়ে বেড়ে উঠার পিছনে শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার দোষ দেন, তাহলে আমি এর সাথে বন্দি জীবনযাপনের কথাটাও যোগ করতে চাই।

আপনি যদি ক্লাসের রোল ১ আর রোল ৫০ এর তুলনা দেন, দেখবেন ঐ ৫০ এর ই বাস্তব জ্ঞান বেশি। কারণ বাইরে ঘুরে ঘুরে শরীরটাতে ময়লা জমানোর সাথে সাথে তার এক্সপেরিয়েন্স ও বাড়ছে। তারাই বড় হয়ে কাজ করে। আসল কাজ।

আমি এতে রোল ১ দের কোন দোষ দিচ্ছিনা। আবার সব রোল ১ যে এমন হবে, তাও না। আমি বলতে চাচ্ছি বন্দিত্বে সুখ নেই।

"স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে"

আসলেই। আমরা না চাইলেও চারপাশের চাপে বাইট্টা হয়ে বন্দি থাকতে হচ্ছে।

যারা এমন চারদেয়ালে থেকে কেবল পড়াশোনাই করে গেছে তারা বড় হয়ে কি করবে? তাদের কি কোন বাস্তবজ্ঞান আদৌ আছে?

তারা কি সমাজের অবস্থা সম্পর্কে সচেতন? "টিভি দেখে হয়তো বা। কারণ সাধারণ জ্ঞানে এ থেকে 1 নম্বরের প্রশ্ন আসে।"

কিন্তু নজরুলের মতো কলম ধরে মানুষের মনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য কি এতটুকুই যথেষ্ট?

তাদের উচিৎ না বাইরে বেরিয়ে আসা? সবার ই তো উচিৎ।

বাবা মায়েরও তাদের সন্তানকে মুক্তির আলোতে চোখ আলোকিত করতে দেয়া উচিৎ। এত জঞ্জালের মাঝেও সূক্ষ্ম আনন্দটা অনুভব করে রবীন্দ্রনাথ হতে দেয়া উচিৎ।

মুক্তিই জ্ঞান। সবচেয়ে বড় আনন্দ। আগে আমাদের মুক্তির পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, পরে নবীনদের সেটার দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে দিতে হবে।

"আমাদের চেতনায় নজরুল আর হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ" বলে গলা ফাটালেই চলছে না।

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১৬ দুপুর ১:৩৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চিরবিদায়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শায়িত ডা. খায়রুল ইসলাম – Regional Director for South Asian Countries, WaterAid UK

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৪




২০ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার রাতে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে ফিরে ঘুমাতে ঘুমাতে কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। ফলে সকালে উঠতেও দেরি। আগের দিন দুপুরে বিদ্যুৎ এক ঘণ্টার জন্য চলে যাবার পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আন্দোলনের সময় বেকারদের দরকার ছিল, এখন কি আর নেই?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২০


সারজিস আলমকে দেখে একসময় মনে হয়েছিল, বাংলাদেশের রাজনীতিতে হয়তো সত্যিই নতুন কিছু আসতে যাচ্ছে। কোটা আন্দোলনের আইকনিক মুখ, গর্বিত ঢাবিয়ান, এনসিপির বড় নেতা। শেখ হাসিনার আমলে সকাল বিকাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×