দরজা বন্ধ ,জানালাটাও খোলা নেই ।
ছোট্ট একটি ভেন্টিলেশন খোলা রেখেছি –
রোদের আলোতে রোদ্দুর যেন পুড়ে ছাই না হয়ে যায়।
ছিনতাইকারি মুঠো ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে ;
দিব্যি কেটে যাচ্ছে সময় ,
ফোন করার কোন তাড়া নেই –ধরার নেই কোন পায়তারা।
হুট করে আগের মতো আর চোমকে উঠি না-এই বুঝি কেউ টেক্সট পাঠালো ;
কিন্তু মরার এই সিমখানা না তুলে বুঝি আর পার পাওয়া যাচ্ছে না।
বোসলাম কাস্টমার সার্ভিসের মুখোমুখি-
দুই কপি ছবি, আই ডি কার্ড আর রেজিস্ট্রেশনের কপি নিয়ে আসুন।
কাগজীয় সমস্যায় আমি বহু কাল আগ থেকেই জর্জরিত ;
বাড়ি ফিরে তন্ন তন্ন করে ফেললাম কাঠের আলমারিটা ,
হাতের উপর উঠে এলো আট দশেক ডায়রী, অগনিত লেখা ঝোকা যাকে
ঠিক কবিতা বললে ভুল বলা হবে,আর পেলাম- খামে ভর্তি বেশ কয়েকটা চিঠি।
বার্থ সার্টিফিকেট,পরিচয় পত্র ,ব্যাংকের ডকিউমেন্টস ,সার্টিফিকেট,বাড়ির দলিল –
এই সব প্রয়োজনীয় কাগজের জায়গায় এমন উদ্ভট সব কাগজ দেখে নিরুপায় আমি মাকে প্রশ্ন করি-
তুমি না থাকলে কেউ যদি এ বাড়ি থেকে আমাকে বের করে দেয় তখন আমি কি করবো ?
মা হেসে বলেন-কেন ?কবিতার খাতা এগিয়ে দিবি।
তাইতো, এটাইতো আমার সারা জীবনের সঞ্চিত দলিল পত্র ,
তিন তলার ঝুল বারান্দা আর খোলা ছাদের বিষন্ন বিকেল গুলো আজো
এই দলিলের স্বাক্ষী হয়ে আছে।
এখানকার প্রতি পাতা জুড়ে আছে সারা জীবনের হাসি –কান্না আর না পাওয়ার যন্ত্রনা ;
প্রথম প্রেমে পড়ার চমৎকার বর্ননা, আছে তিলে তিলে মা হয়ে ওঠার অবাক মুগ্ধতা।
দলিল হয়ে আছে –ভালোবাসার মানুষের কাছে প্রত্যাক্ষিত হবার প্রতি মুহূর্ত।
এর থেকে বড় দলিল আর কি হতে পারে ?
চোখ হতে গড়িয়ে পড়া প্রত্যেকটি অশ্রুবিন্দু দিয়ে সত্যায়িত এই কাগজ ;
যেখানে এক বর্ন মিথ্যে নেই, যেটা পেতে হলে নীলখেতে যেতে হয় না।
আজ আর তেমন রোদ পড়ে না আমার উঠোনে , কোনার ঘরের ফাঁক দিয়ে গড়িয়ে পড়া
আলোয় নিজেকে আবার স্নান করিয়ে নেই ;
পুনরায় ফিরে পাই চির চেনা সেই নীলাভ রোদ্দুর।
ছবি ঃ সংগৃহীত
আলোচিত ব্লগ
অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন
যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন
”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন
ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

