অভিজাত বিপনণের একদম নীচের সিঁড়ির কোন ঘেষে পড়ে আছে আস্ত একটা মানব সন্তান।আর একটু হলেই ক্রেতাদের ধাক্কাধাক্কিতে আমার বাম পা শিশুটির শরীর মাড়িয়ে দিত।আমি আঁতকে উঠলাম- এটা জীবিত নাকি মৃত? শিশুর চারপাশে একটা মানুষ নেই।আমি তিন তলার আড়ং থেকে নামছিলাম,দিবস আসার আগেইতো আবার আমাদের কেনাকাটার ধূম পড়ে যায়।কিন্তু এই অচেতন বাচ্চাটা সমস্ত চেতনাকে এক মুহূর্তে কেড়ে নিল আমার। কোথায় এর মা, দুধের বাচ্চাকে কেনইবা ফেলে রেখেছে? দেখতে পেলাম বাচ্চাটার চারপাশে অনেক টাকা পড়ে আছে।আমি মার্কেটের বাইরে থেকে আরো কিছু পথ শিশু আর ভিখেরীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করলাম।বাচ্চাটির বোন প্রতিদিন তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে এখানে ফেলে রেখে নিজে যায় শর্মা হাউজের নীচে টিভি দেখতে।টাকা যা পায় তার অর্ধেক দিয়ে গেমস খেলে আর বাকিটা মাকে দেয়।মেয়েটির নাম মালা।আমি মালাকে খুঁজতে ঢুকে গেলাম ঘুপচির ভেতর যেখানে কিছু বখাটে ছেলে আড্ডা মারছিল।কিন্তু,আমার মনে ভয় ছিল; তারপরো অবুঝ শিশুর মুখ আমাকে দমাতে পারেনি।অনেক খোঁজাখুঁজির পর মালাকে পাওয়া গেল।সে কেবল ভিডিও গেমসই খেলানা,এই ১১ / ১২ বছরের মেয়েটা অনেকের খেলনার পাত্রীও।
মালা প্রথমে মোটেও মুখ খুললো না,কিন্তু থানায় নিয়ে যাব বলতেই সে শিশুটিকে কোলে করে বাইরে নিয়ে এলো।তার কথা অনুযায়ী তার বাবা রিক্সা চালায় গাবতলীতে, নাম বাবু আর মা গার্মেন্টসে কাজ করে।মাকে প্রতিদিন টাকা না দিলে তাকে অত্যাচার করা হয়।এই শিশুটিকে সে টাকা উদপাদনের মেশিন বানিয়েছে।আমি ততক্ষনাত গার্ডকে প্রশ্ন করলাম - এই ধরনের কাজে আপনারা কেউ বাধা দেন না? মার্কেটের মালিক সমিতি কি করে?
তার খুবই চিন্তিত উত্তর- প্রতিদিন মালা এবং অনেকেই এমন করে শিশুদের ব্যবহার করে এবং দয়াবান লোকেরা টাকা দিয়ে যায়, আর সেই টাকায় মালারা ফূর্তি করে।অনেক বলার পরো তারা সড়ে না।
কেযে আসলে কাকে নিয়ে এখানে ফূর্তি করছে তা বোঝা মুশকিল।মিরপুর ১ নং জিমার্টের এই সিড়ি দিয়ে শত শত পুলিশ,আর্মি, বিডি আর, র্যাব,সার্জেন্ট,মানব অধিকার কর্মী,সাংবাদিক, শিশু সচেতনকারী এন জি ও কর্মী তাদের বাচ্চাদের কাপড় কিনতে আসে।আর এই অযত্নে পড়ে থাকা বাচ্চাটিকে কেউ দেখলো না- এই প্রশ্ন আমার সবার কাছে।
আমি খুব সামান্য একটা মানুষ,বাচ্চাদের হাতে কিছু চকলেট দিয়ে বুঝিয়ে দিলাম - এমন করিস না,করলে কিন্তু এতিম খানায় দিয়ে আসবো।তাদের সবার বাড়িই কাছাকাছি বস্তিতে,তারা দূরে দাঁড়িয়ে খানিক হাসলো আর অপেক্ষা করতে লাগলো কখোন আমি বিদেয় হবো...

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



