somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রঙ্গীন ঘুড়ি
উড়তে ভালো লাগে,মেঘের সাথে লুকোচুরি ভাল লাগে। ভাল লাগে এক আকাশ তারা কে সাক্ষী রেখে নাবিকের মত পথ খুঁজে নিতে। চোখ বন্ধ করে একটা নীল সমুদ্র আকঁতে ভাল লাগে। আর ভাল লাগে "তুমি" তে হারিয়ে যেতে ।

"প্রিয় বাবা"

১৭ ই জুন, ২০১৬ রাত ২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




জীবনের পড়ন্ত বিকেল পাড় করছেন আলম সাহেব। ছেলে -মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন কয়েক বছর আগেই। তারা নিজ নিজ জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। ছেলে মেয়ের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও রয়ে গেলেন পুরোনো ভিটায়। হয়ত সেই পুকুর ঘাট,আম গাছ, জারুল গাছের মায়া কাটাতে পারেন নি । শত হোক পৈত্রিক সম্পত্তি বলে কথা। আলাদা টান থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না।


ছেলে মেয়ে পারিবারিক উৎসবের দিনগুলোতে দেখতে আসে বাবা মা কে। ও আচ্ছা ! আলম সাহেবের স্ত্রীর কথা তো বলাই হয় নি । মিসেস আয়শা খানম । এক কালের অসম্ভব সুন্দরী,সম্ভ্রান্ত ঘরের মেয়ে। জীবনের নির্মম বাস্তবতায় আজ পক্ষাঘাত রোগী । আলম সাহেবের এতে কোন সমস্যা নেই। গত ১০ টা বছর মানিয়ে মানিয়ে নিতে নিতে অভ্যাস হয়ে গেছে। নিয়ম করে তিন বেলা খাওয়ানো, গোসল করানো, একবেলা কবিতা পড়ে শুনানোটা যেন অলিখিত অভ্যাসে পরিণত হল।

সেবার ঈদের ছুটিতে আলম সাহেবের একমাত্র ছেলে মানে আকিব ইসলাম তার স্ত্রী, বাচ্চা নিয়ে দাদার বাড়ি বেড়াতে এসেছিল। ছেলে মেয়ে বড় হচ্ছে। গ্রামের ঘর বাড়ি, মাঠ ঘাট চিনানো দরকার ওদের। শহুরে ইট কাঠ পাথরের দেয়ালে ওরা যে সারাদিন বন্দি থাকে। আলম সাহেব দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন কিভাবে তার ছেলে নাতনীদের গাছ দেখাচ্ছে,ফুল দেখাচ্ছে,গরু দেখাচ্ছে ।

দুপুরে খাবার আগে আকিব পুকুর ঘাটে বসে খবরের কাগজ পড়ছিল। এমন সময় আলম সাহেব পাশে এসে বসলেন।

-কিছু বলবে বাবা?
-না বাবা ।

কিছুক্ষণ পর অল্প দূরে আঙ্গুল দেখিয়ে আলম সাহেব জিজ্ঞাস করলেন-
-আকিব,চোখে দেখতে পারছি না।।ওই টা কি পাখি বাবা?
-কোনটা? ওই লাল গলার পাখিটা?
-হুম।
-ওটা বুলবুলি।

আকিব উত্তরটা দিয়ে আবার পেপারে মন দিলো। কিছুক্ষণ পর আলম সাহেব আবার জিজ্ঞেস করলেন,
- বাবা,ওই যে শব্দ করছে পাখিটা কি?
-বললাম তো বাবা এটা বুলবুলি।

আলম সাহেব কিছু বললেন না। একমনে তাকিয়ে ছিলেন পুকুর টার দিকে। নিরবতা তার ভাল লাগে না। জীবনের অনেকটা সময় পাড় করে ফেলেছেন নিরবে। নিরবতা আর তার সহ্য হয় না। নিরবতার দেয়াল ভেঙে আবারো ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেন-

-ওই যে মাত্র উড়ে গেল অন্য ডালে এই পাখিটার নাম কি?
-উফ। বাবা...তুমি শান্তি দিবে না আমাকে। তোমার জ্বালায় তো পেপারটাও পড়তে পারছি না। উফ... বিরক্তিকর। বলছি তো এটা একবার। এটা বুলবুলি। বু-ল-বু-লি... হলো তোমার? যাও তো এখন।

আলম সাহেব শোনে গেলেন এক মনে। কোন সাড়া দিলেন না কথার। আস্তে করে হেঁটে চলে গেলেন বাড়ির দিকে ।

প্রায় ১ ঘন্টা পর একটা ছোট ডায়েরি হাতে আবার পুকুর পাড়ে আসলেন। হাতের ডায়েরীটা এগিয়ে দিয়ে-

-খোকা,এইটা পড়। এই যে এই পৃষ্ঠা টা।
-আবার? উফ...
-জোরে পড় বাবা।

- "আজ ২২ শে জুন, ১৯৮৩ সাল ।
খোকার বয়স আজ ২ থেকে ৩ বছর হল। আমার বাবাটা দিন দিন আস্তে আস্তে বড় হয়ে যাচ্ছে। খোকা আজ নতুন নতুন অনেক কিছু শিখেছে। জারুল গাছটায় বসে থাকা বুলবুলি পাখিটা দেখিয়ে আজ ৩৮ বার আমাকে জিজ্ঞেস করেছে পাখিটার নাম কি !! গুণে রেখেছি আমি। খোকা বড় হলে একদিন নিশ্চয় পড়ে দেখবে আর মনে মনে হাসবে। ভাল থাকিস আমার আত্মা । দোয়া করি তুই জীবনে অনেক বড় হ বাবা। বাবার দোয়া তোর সাথে সারাজীবন..."


আর পড়তে পারে না আকিব। ঝাপসা চোখে কতক্ষণ পড়া যায়? ডায়েরির মলিন পাতাগুলো ফোটা ফোটা চোখের জলে ভিজে একাকার। অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে যে। এই ভুল যে ক্ষমার অযোগ্য।

আলম সাহেব কে জড়িয়ে ধরে...

-বাবা,আমার ভুল হয়ে গেছে। প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও।
-ছি বাবা। এভাবে বলে না।। এখনো ছোটই আছিস খোকা তুই। বাবা মার কাছে খোকারা কোনদিন বড় হয় না রে।এদিকে আয়... তোর চোখের পানি মুছে দেই।


কিছু কিছু অনুভূতির কোন নাম হয় না। অনুভূতি গুলোর জন্ম অচেনা।কিন্তু অনুভূতিগুলোর শক্তি এত বেশি যে এক জীবনও কম মনে হয়।

ভাল থাকুক পৃথিবীর সব বাবারা। ভাল থাকুক ভালবাসা। পৃথিবীর সব বাবাকে অন্তরের অন্ত:স্থল থেকে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। :)
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১৬ রাত ২:৪৩
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গাজীপুর থেকে কক্সবাজার: চার বাইকে ছয় সহকর্মীর ১৪ ঘণ্টার নাইট রাইড অ্যাডভেঞ্চার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০২


আমি শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, থাকি সাভার এলাকায়। ভ্রমণের নেশা আর মোটরসাইকেলের প্রতি ভালোবাসা আমার দীর্ঘদিনের। আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব গাজীপুর থেকে কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ ও শাহপরীর দ্বীপের দিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Personal Cancer Vaccine: আশার আলো দেখাচ্ছে

লিখেছেন কলাবাগান১, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২


আপনি কি কখনও চিন্তা করে দেখেছেন যে ক্যান্সার টিউমারকে কেন শরীর এর রোগ প্রতিরোগ করা ইমিউন সেল (যেমন টি সেল) একেবারে ধ্বংস করতে পারে না!!! যেখানে টি সেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮



মাঝে মাঝে খুব অবিশ্বাস্য ব্যাপার সহজ ভাবে ঘটে যায়।
এই যে আমি শাহেদ। শাহেদ জামাল। রমিজ উদ্দীনের ছেলে। আমাকে একটা ঘরে বন্ধী করে রাখা হয়েছে। ছোট ঘর। ঘরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×